• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আজকের কবিতা

সুবোধ সরকারের ‘চোখের জল’

  সাহিত্য ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১৬
কবিতা
ছবি : প্রতীকী

মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
ভালো লাগে না আমার
সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল
অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব না

খেতে দিতে না পেরে বাবা চলে গেলেন, মেঘলা আকাশ
মায়ের চোখ ফেটে সারাদিন শুধু জল নয়
যেন একজন নারী গলে গলে বেরিয়ে আসত।
পাঁচ বছর বাদে ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ
মা, আমার অসহ্য লাগে চোখের জল। চুপ করো।

চোখের জলে লাগল জোয়ার, কথাটা দারুণ
কিন্তু মানে কি?
একটা মানুষ চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়ায়
দেয়াল থেকে হাতে তুলে নেয় টাঙ্গি
তারপর তুলে ধরে আকাশের দিকে
আকাশে কে থাকে? ভগবান?
পরিষ্কার একটা কথা বলি শোনো: তুমি গরিব
তোমার জন্য কোন ভগবান নেই
শনি পুজো না করে সেই টাকায়
কনডোম্ কেনো রাসকেল। রাতারাতি ভারতবর্ষ পাল্টে যাবে।
 
চোখের জলে কিছু হয় না
একটা জাতি উঠে দাঁড়ায় তিনটি কারণে:
মাথার জোরে, গায়ের জোরে, মনের জোরে।
তোমরা যারা ভালো করে খেতে পাও না
তাঁদের চোখে এতো জল আসে কি করে?

মাকেও দেখতাম যেটুকু খাবার জুটতো
ভাইবোনদের খাইয়ে নিজে চাঁচি মুখে দিয়ে
বাসন মাজতে মাজতে কাঁদতেন
গরিবের কি চোখের জল বেশি হয়?

চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
সহ্য করতে পারি না আমি
বাইপাসের ধারে একটা নগ্ন মেয়ের চোখ থেকে
জল গড়িয়ে পড়ল গালে
গাল থেকে একটা বিন্দু গিয়ে পড়ল স্তনের বোঁটায়
আমি অবচেতনের ঐশ্বর্য লিখতে আসিনি
আমার জামাটা খুলে তাঁকে দিই, বলি ওঠো
একটা কুলাঙ্গার তোমাকে ভালবেসে ফেলে চলে গেছে
তার জন্য তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে না।

একটা জাতি উঠে দাঁড়ায়
একটা মানুষ উঠে দাঁড়ায় পরিষ্কার তিনটি কারণে
দরকার যেকোনো একটা জোর
হয় গায়ের নয় মাথার নয় মনের।
তাজ বেঙ্গলের উল্টোদিকে, মাঝরাত্রে, একটি বালক
হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছে
এই শালা কাঁদছিস কেন রে?
ছুটে গিয়ে ভেতরে ঢুকে কামড়ে দিতে পারছিস না?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড