• রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

হারিয়ে ফেলেছি ঘুড়ি, গোপন ডায়েরি

  সাহিত্য ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১১:৩৩
ঘুড়ি
ছবি : প্রতীকী

ছেলেবেলায় মা আমাকে একটা মাটির ঘোড়া কিনে দিয়েছিলেন। মেলায়। খুব পছন্দ হয়েছিল। শক্ত করে বুকের কাছে চেপে ধরে রেখেছিলাম। সেই ঘোড়াটিকে মনে হয়েছিল সত্যিকারের পঙ্খীরাজ, আর আমি এক রাজকুমার। এক্ষুনি সেই ঘোড়ায় চেপে বেরিয়ে পড়ব বন্দিনী রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে। একচোখা দৈত্যের সঙ্গে লড়াই হবে খুব।

বুকের মধ্যে আগলে ধরে রাখা সেই ঘোড়াটি ভেঙে গেল। মেলা থেকে ফেরার পথেই! ভিড়ের ধাক্কাধাক্কিতে। কেঁদেছিলাম। খুব কেঁদেছিলাম। এত করে শক্ত করে ধরে রাখার পরও ভেঙে গেল!

একবার একটা চড়ুই পাখি এসেছিল আমাদের বাসার বারান্দায়। অসহায়ভাবে একটা ডানা ঝাপটাচ্ছিল। অন্য ডানাটা ভাঙা। হলুদ দিয়ে ওষুধ বানিয়ে সেই চড়ুইটাকে সারিয়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে। তার পর একদিন চড়ুইটা ঠিক দুটো ডানা মেলে ধরল। উড়ে গেল। সে-ই যে গেল, আর ফিরে এল না কোনো দিনই। এমনকি যাবার সময় ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না!

এই জীবনে আমি কেবল হারিয়েই গেছি। হারানোটা আমার মুদ্রাদোষ। সেই ছোট্ট বেলায় আমার ৩২৫টা মার্বেল ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল আকাশী একটা মার্বেল, স্বচ্ছ, ভেতরে কী সুন্দর নকশা! একদিন হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল। অনেক খুঁজলাম। অনেক। পেলামই না।

হারিয়ে ফেলেছি ঘুড়ি, গোপন ডায়েরি... একটু বড় হলে হারিয়েছি ছাতা। সবচেয়ে বেশি হারিয়েছি রুমাল... আর... আর বন্ধু!

বড় হয়ে বুঝেছি, এই জীবনে আমরা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে যতই আগলে রাখি, চেপে ধরে রাখি শক্ত করে; যা হারাবার, তা হারাবেই। রবি ঠাকুর আমার কানে গুনগুন করে শুনিয়েছিলেন একটা দীর্ঘশ্বাস: যা হারিয়ে যায়, তা আগলে বসে রইব কত আর। আর পারি না রাত জাগতে, হে নাথ, ভাবতে অনিবার!

আমার দাদী, আমার খুব প্রিয় দাদী, যেদিন মারা গেলেন, আমি একটুও কাঁদিনি। কেউ জানতে চাইল না, কেন কাঁদলাম না। কেউ বুঝলও না, দাদী মারা গেছেন— এটা আমি বিশ্বাসই করিনি। আজও না। হারিয়ে ফেলার ভয়ে আমি একটা অলীক সিন্দুক বানিয়ে রেখেছি। সেখানে সব সযত্নে রাখা আছে। সেই মার্বেল, সেই চড়ুই, তেরোটা রুমাল, আমার দাদী, আমার বন্ধুরা...

সবাই বলে, আমি নাকি আবেগশূন্য। অনেকেই বলে, আমি অনুভূতিহীন! কখনো কখনো খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে। বুক ফেটে কান্না আসে। কিন্তু অনুভূতিহীন মানুষ তো কাঁদে না! 

লেখক- রাজীব হাসান, লেখক ও সাংবাদিক। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড