• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রেম, প্রার্থনা ও প্রকৃতির কবি আল মাহমুদ

  হামিদা আনজুমান

১১ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৩
ছবি
ছবি : কালের কলসের কবি আল মাহমুদ

‘আমি আল মাহমুদ যে কটা দিন বেঁচে আছি সে কটা দিন আমার এক ধরনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে অস্বীকার করে, আমার কবিতা- গল্পের ভুলভাল ব্যাখ্যা করে এক ধরনের আত্ম বিধ্বংসী খেলায় মেতে থাকবে। এদের জন্য আমার আফসোস হয়- এছাড়া আমার করার আর কিছুই নেই। এরা জানে না একজন জীবিত আল মাহমুদের চেয়ে একজন মৃত আল মাহমুদ অনেক বেশি শক্তিশালী।’
- আল মাহমুদ

একজন কবি বুঝি সত্যি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাও। আপনার কথাগুলো এত তাড়াতাড়িই সত্যি হয়ে গেল! যে দলান্ধ গোষ্ঠী (তারা নাকি আবার কেউ কেউ কবি লেখক ও) আপনার মৃত্যুর সাথে সাথে আপনাকে সমালোচনা করে নিজেদের জাহির করার জন্য তড়িৎ গতিতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন তারা তাদের ওয়াল থেকে সেগুলো মুছে দিলেন মাত্র একদিনের মধ্যেই। শুধু তাই ই না, কেউ কেউ আবার নিজেকে আপনার ভক্ত ও প্রমাণ করছেন। দারুণ!


আল মাহমুদ একজন ত্রিকালদর্শী বহুমাত্রিক কবি ও লেখক। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া, শিশুসাহিত্য প্রতিটি শাখায় তার বিচরণ ছিল ঈর্ষণীয়। তার সাথে পেরে উঠতে না পেরেই বুঝি ছিল এত সমালোচনা, এত বিরোধিতা! কি বিষয় বৈচিত্র্য, কি লেখনীর চমক, কি গাঁথুনির ধারে কাছে ঘেঁষতে না পেরে সমসাময়িক কালে শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক অবস্থান বিষয়টিকে চিহ্নিত করে সমবেতভাবে প্রথমে সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এক ঘরে করে দেয়ার নীতি গ্রহণ করে।গত দু’তিন দশকে এই প্রবণতা দিন দিন বেড়েছে এবং এক সময় তাকে সাহিত্যে প্রায় একরকম এক ঘরে করে ফেলা হয়। এটা আমাদের সাহিত্যের দৈন্যতাই প্রকাশ করে।


ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে জেল খেটেছেন এবং এলাকা ছাড়েন, পড়াশুনা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রাম সমরের সম্মুখে থেকেছেন। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে তার অবস্থান বিতর্কের উর্ধ্বে। অথচ তাকে শহীদ মিনার বা শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থান দেয়ার অনুমতি পাওয়া যায়নি। শহীদ মিনার কি কোনো দল বা সরকার তৈরি করেছিল?


মাত্র ৩২ বছর বয়সে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, দীর্ঘদিন একাডেমির পরিচালক ছিলেন। তার রচনায় দেশ, ভাষা, আঞ্চলিক ভাষার উপমা, দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। সনাতন, ব্রাহ্মণবাদ, বৌদ্ধ আর সর্বশেষ ইসলামের মিশ্রিত ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক এই জনপদের ইতিহাসের শেকড় রয়েছে তার লেখায়। মমতার সাথে তুলে ধরেছেন শক্তিশালী লিখনিতে। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম কবি কে বিচার করার জন্য তার সৃষ্টিই হওয়া উচিত একমাত্র আরাধ্য। কখনোই রাজনীতি নয়।রাজনীতি আর সাহিত্যের ইতিহাস কখনোই এক নয়। সোনালী কাবিন, কালের কলস, বখতিয়ারের ঘোড়ার রচয়িতা আল মাহমুদ বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টিতে।

সবচেয়ে অবাক হই তার সাক্ষাৎকারগুলো পড়লে। সবকিছুতেই তার অকপট কথা, লুকোছাপা নেই। তিনি যা তাই তিনি প্রকাশ করেছেন। লুকোতে চাননি কোনোকিছুই।

এক সময়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত তার নিজ জেলা, নিজের বেড়ে ওঠার স্থান তিতাস পাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে তার চিরনিদ্রা। এর চাইতে উত্তম আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ ওনাকে বেহেস্তবাসী করুন। আমিন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড