• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির কবিতা

আর নারী—তোমার মা’য়ের মত জান্নাত

  প্রত্যয় হাসান

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৪৯
প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘তিনকোনা কফিনে জলের ডাকটিকিট’

আকৃতি

প্রশ্ন করো—বটবীজের কাছে
আকৃতি সে রেখেছে কোথায়?
যদি অবিশ্বাস থাকে—
প্রেম ছিল বীর্যে আর 
জলের পুকুরে—যাতে মানুষ ভাসে
আর কাউকে কাউকে 
ঈশ্বর সৃষ্টি করেন স্রষ্টারূপে
পৃথিবীর মালিকানা কার?
নিজের মস্তিষ্কের সামনে দাঁড়িয়ে 
(ওটাই একমাত্র সত্য আয়না)
যাকে দেখছো তোমার দিকে তাকিয়ে
মরে যেতে ইচ্ছে হয় না?
জীবনকে কতটুকু মনে হয়?
অথচ প্রেমিকার বুকে দু’টো পৃথিবী
অথচ তোমার দরোজাহীন ঘরে তালা
তুমি অন্ধ হয়ে গুনছো পৃথিবীর খুঁটি
অথচ জল বরং আকাশেই বেশি
মূলত যেটুকু জেনেছো—শরীর মাত্র
তোমার প্রেমিকা ঈশ্বর বলে তোমাকে ভেতরটায় নেয়নি
তুমি ভেসে আছো কচুরিপানার মত
ভাগ্যিস তুমি এতটাই ছোট..


পিতা

ভেবেছিলাম পাখির ঠোঁটে খুঁটে খাবো জীবন 
— সন্ধ্যা হলে
বাবার মতো বড়ি ফিরবো ঘামের গন্ধ হয়ে
রোজ জমি চাষ
সকালের স্নানে পাপমোচনের অবহেলা
রহিজ মাস্টার শিখিয়ে গেলেন— ‘শিক্ষিত’রা চাষা হয় না।’
আমি দ্রুত সবপাখা খাঁচায় গুটিয়ে নিলাম
বাদাম ছুঁড়ে ফেলে প্রেমিকার ঠোঁটে এঁটে দিলাম জিভ
এখনো সেসব পুরনো কন্ডমের যুগ (কিছুতেই বড়সর হচ্ছি না)
ভেবেছিলাম, আমার সন্তান এসে শিখিয়ে দিবে 
— পিতাকে অস্বীকার করার মন্ত্র
ভুলে যাবো ভোর আসলেও বাবা আর জাগে না
— মা স্বর্গে থাকেন বলে মানুষকে স্বর্গে যেতে হয়
আর সন্তান থেকে সন্তান
চাষাবাদের জন্যই মূলত পৃথিবীর সৃষ্টি
পিতা যদি সেতু হয়, তবে—
জানেন তো নিশ্চই
—আমার কোন সন্তান নেই…


ক্ষুদ্রাংশ

ঘাম মুছে দিতে না-পারলে সঙ্গম চেয়ো না যুবক
যে শাড়ির ভাঁজ তুমি প্রতিরাতে খোলো তার গণনা তোমার অসাধ্য
প্রতি ভাঁজের হিসেব তোমার জানতে হলে, পুরুষ নয়—
জন্মাতে হবে অন্তত সারে তিনবার ইশ্বর রূপে
আর যাই হোক, গর্ভাশয় তোমার ক্ষমতার বাহিরে 
তোমার লোভ বড়জোর স্বর্গের অপ্সরা অব্ধি
প্রেমিক হবার সামর্থ্য তোমার কোথায়?
দায়িত্বের নামে তুমি কৃতদাস তোমার স্বভাবের 
ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী’র মুখ বুঝতে হলে তপস্যা ছাড়া আর কোন উপায় নেই
পুরুষত্বের অহংকারে অন্ধ বলে প্রেমিকার ঠোঁটে তোমার নেশা জমেনি
তুমি কেবল খুঁজে বেড়িয়েছো একটা উর্বর জরায়ু
অথচ কিশোরীর পাজামার গিঁটের কাছে তোমার পৌরষত্ব বালুকণার মত ক্ষুদ্র
আর নারী—তোমার মা’য়ের মত জান্নাত, প্রেমিকার মত আশ্রয়দাত্রী
মানুষ থেকে নিজেকে আর ক্ষুদ্রাংশে ভাগ হয়ো না পুরুষ।


সঙ্গমের দলিল

প্রেমিকার কাছে জানতে চেয়েছিলাম
বলেছে—জীবন এতো অল্প ক্যানো?
মাঝি বলেছে ভিন্ন কথা—নদী বড় দীর্ঘ
বেশ্যাও তাই বলেছে…
তারপর আর কারো কাছে যাইনি, জানতে চাইনি জীবন
আমার তখন স্ত্রী ছিল—আমার সময় বড্ড কম
চোখের পলক ফেললেই অপচয় মনে হত
দরোজা ছেড়ে যাবার মত উদার আমি হতে পারিনি
ঘরের ভেতরটা ছিল আমার এজন্মের সকল সঞ্চয়
সময়কে আমি তার ঘড়ির কাঁটায় মেপেছি
তাঁর প্রতিটি অঙ্গ গুণে আমার তিন’শ পঁয়ষট্টি রাত হতো
ফেব্রুয়ারিতে একটা রাত কমে যেত বলে আমি সারাবছর ভাবতাম
—এসব শূন্যতা পূরণ হয় কীসে?
আমার ভীষণ দুশ্চিন্তা হত স্নানে তাঁর দেরি হলে
তবুও কেবল মনে হত,
একটিবার তাঁর কাছে আমার সবটা নিয়ে পৌঁছতে পারিনি
একটিবার সে দেখতে পেলো না ঠিক আমার মত আমাকে
আমাদের শেষ সঙ্গম—
ভালোবাসার সর্বশেষ দলিল হয়ে রইলো
শেষটায় আমরা কেউ আর কারো রইলাম না…


প্রত্যয় এবং প্রকৃতিসংক্রান্ত


— আসুন
এবং পাঠ করুন মন্ত্র—আমি ভ্রাম্যমান চিতা, কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি নিজের কফিন। আমার স্ত্রী মর্গে অপেক্ষারত আমায় ঘরে তুলতে, আমি পালিয়ে আছি জীবনে; মৃত্যুদূত প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে শেষরাতে আমায় খোঁজে। ইশ্বরের সাথে ছলনার পাপের চেয়ে নারীর শরীরে আমার পূণ্য বেশি। স্বর্গের অপ্সরার হিংসার তাপে আমার প্রেমিকারা আরো উজ্বল, আমি অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের ঘরে বাতি জ্বালিয়ে রাত কাটাই…


এসো গা ঘেঁসে বসো
জেনে নাও—আমি অর্ধেক
তোর দু’টো স্তনে তুমি পরিপূর্ণ
অথচ আমার একটি হৃদপিণ্ডে দু’টো ভাগ
জোড়া দিয়ে দিয়ে হেটে চলে নিশ্বাস
আমি উড়ে যেতে চাইলে মিশে যাই পালকে
একটা জন্ম আর একটা মৃত্যু নিয়েও আমার পরিপূর্ণ জীবন হলো না
ঘুমালেই শুনি তুমি কানে কানে বলছো— ‘একটু আলগা করো বুকের গিঁট
এসো গালে-গাল মিশিয়ে গলে যাই আগুনে’
ভালোবাসা মূল্যহীন হয়, হতে পারে বড়জোর তা তুমিহীন…


ঠিক করে ভাবো—
সত্য কোথায়, মূল্য কিসে?
ঘড়ির গ্লাস মুছে নাও। পুরনো পর্দা
ঠিক যেন চোখ—আদিমঘুম, ছুটে চলা সূর্য
গুনে নাও দেয়াল, দাগকাটা ঘর আর গুটি
দু’জন মানুষের কাছে একটা পৃথিবীর অর্ধেকটা করে। এপাড়-ওপাড়
সত্য এবং ঘোর। মিথ্যা—অন্যসবের মত বানোয়াট বিশ্বাস
মানুষ অজানা—সত্য, মানবতাই সূত্র
একদম হৃদপিণ্ডের ঘড়িটি
মায়ের গর্ভের দশমাসের দিনগোনা
আলোর গতি আর নাবিকের শুকতারাটি লক্ষ্য
মৃত্যুর পর খুঁজলে কিছুই পাবে না যদি না জীবন থেকে সময়কে বুঝে নিতে পারো…

আরও পড়ুন : তুই চিনবি না তারে, সে নাজমা বেগম— আমার মা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড