• সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬  |   ১৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির কবিতা

এই জনমেই বাঁধলো না আর কাঁটাতারের সুর

  শওকত সমুদ্র

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:৫৯
কবিতা
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘ঈশ্বরের বনবাস’

জনমকথা 
 
গুনছি বসে আপন মনে আপন ভাগ্যরাশি, 
কোন জনমে ভুল হয়েছে তোমায় ভালোবাসি! 
 
কোন জনমে পাইনি কাছে, 
হয়নি ঘোরা তোমার পাছে। 
কোন জনমে দাওনি বলো একটুখানি আদর! 
কোন জনমে রয়নি ছেয়ে ভালবাসার চাদর? 
 
হাতের পিঠে হাতটি রেখে, 
অবাক আমি তোমায় দেখে। 
কোন জনমে যাইনি ডুবে তোমার কালো চোখে? 
কোন জনমে ঈর্ষা করে তাকায়নি কো লোকে! 
 
এই জনমে মর্মে বুঝি, 
তোমায় অনেক দূরে খুঁজি। 
এই জনমে ভুল করে যে আমায় দিলে দূর। 
এই জনমেই বাঁধলো না আর কাঁটাতারের সুর। 
 
পাশ কাটিয়ে, নতুন ঘরে, 
রইলে তুমি, বুকটা পোড়ে। 
এই জনমে নাইবা হলে আমার ঘরে সুখ। 
এই জনমে রইলো আমার পাথরভরা বুক। 
 
কোন জনমে পাইনি তোমায়, পাওয়ার আশায় রয়ে? 
এই জনমের পরের জনম, রইব প্রেমিক হয়ে।


পিছুটান
 
হাওড় জলে মাছ ভেসে যায়, 
দূর আকাশে বোম হেসে যায়, 
পাখির দরে মরছে যখন মানুষ। 
জল ছাড়া প্রাণ ওষ্ঠাগত, 
অর্থ জ্বালা বাড়ায় ক্ষত, 
আমরা তখন রঙিন মেঘের ফানুশ! 
 
সমান আসন উঠছে ধোঁয়া, 
তবু লজ্জা যাচ্ছে খোয়া, 
কিসের আশায় দিচ্ছে নেশা ডাক! 
নারী আমার মায়ের মত, 
মুখে বুলি ফুটাই যত, 
আসলে তো নারী ভোগের ভাগ। 
 
কার কাছেতে চাইবো বিচার, 
রক্ষক করে জাল অবিচার, 
কপচে বাণী মানবজাতি ঠেলে।
পুড়ছে সিরি, পুড়ছে ইরাক, 
ধরা হলো পুরো দুইভাগ, 
সত্যকে যে দেয় মাটি চাপা ফেলে। 
 
সাধের তেলে দেশে টাকা, 
মরছে ফানুস হচ্ছে ফাঁকা, 
সে কথা কি যায় যে কভু বলা?
গলা হেঁকে শব্দ ছোঁড়ে, 
বাক্যের পিঠে হুমকি জোড়ে, 
উলটো হলে ধরবে চেপে গলা। 
 
সাধারণ আমি, তুমি ও সাধারণ, 
যেও না কখনো করেছি বারণ, 
যতই কাঁদুক বিশ্বের সব সন্তান। 
বাঁচার অনেক ইচ্ছে জাগে, 
পরের পরে, নিজের আগে, 
আটকে রাখে ভয়ের বিবেকে পিছুটান!


অংক এবং মহাবিশ্ব

অনেক আগে থেকেই একটি অংক সমাধান করবো বলে ভাবছিলাম।
মহাবিশ্বের আদিলগ্ন থেকে কি পরিমাণ দুঃখ এবং কত গ্যালন চোখের জল বয়ে গেছে, তার হিসেব মেলাবো বলে খেরোখাতায় কলম চালিয়ে দেই।
নির্নিমেষ তাকিয়ে দেখি, সংখ্যার পরিবর্তে বের হয়ে আসে কিছু শব্দ।

এরপর আর হিসেব মেলে না। শব্দের পরে শব্দ জট পাকায়, অবাক বিস্ময়ে
পাহাড়ি শব্দের সাথে আবেগ মিশিয়ে সমুদ্র তৈরি করে শব্দমালা। অংকের
সূত্র ভুলে গিয়ে দৈহিক জটিলতায় আটকে যায় সময়। সূর্যের চারপাশে অক্ষরগুলো আবর্তিত হয় কালের পরিক্রমায়। তিন দু'গুণে ছয় না হয়ে তৈরিহয় বাচ্চা সমেত সংসার। আমি চোখ বন্ধ করে থাকি।

ভাগের অংকে গিয়ে তাল হারিয়ে ফেলি সহসাই। জীবন যুদ্ধে যে পরাজিত হয়েছে, তার প্রতিটি আবেগ নিঃশেষে বিভাজ্য হলেও পরিশেষে কিছু কষ্ট পড়ে রয়।অথচ, বিজয়ীরাও খুব বেশি সুখে নেই।

তাণ্ডবে যে ভেঙ্গে পড়া ডালে ঝুলে থাকে, সে কিছুতেই যোগ মিলাতে পারে না, রাতের খাবারে কয়টা চালের টুকরো দরকার। অযথাই, হাতড়ে বেড়ায় অতীত বিয়োগের আহাজারি, কান্নার বিরক্তিকর শব্দ।

আমার কলমে সবকিছুই অক্ষরে রূপান্তরিত হয়। কিংবা, অংক নামের প্রহেলিকা আমি বুঝতে পারি না।

মহাবিশ্বের অংকের খেলা বড়ই শব্দময়।


অন্তিম শয্যা

তোমাকে হারানোর কষ্টে রাত জাগি না। রাত জাগি তোমাকে পাওয়ার বাসনায়।

শবদেহ সৎকারে যখন হাজার লোকের ঢল নেমেছিলো, হারানোর মাতম ছিলো বাতাস ভারি করে। আর তাই পাশের গলিতে বারান্দায় ঝুলে থাকা এক ফালি কষ্ট কারো নজরে আসেনি। অগোচরে রয়ে যায় যুবতীর তাজা বেদনার ছাপ। সেখানে দূরে হেঁটে যাওয়া লাশের মিছিলের কোনো প্রভাব ফেলে না।হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে ফুরিয়ে যাওয়া শ্রেয় মনে হয়।

বোকাবাক্সে খবরের অনুষ্ঠানে কান্না করা উপস্থাপিকাকে বড্ড ন্যাকা আর চাকুরীজীবী মনে হয়। দাউদাউ
করে জ্বলতে থাকা রাস্তাকে গুজব বলে ভাবতে ভালো লাগে। হলুদ সাংবাদিকতার যুগে মুখবইয়ের
প্রতিদ্বন্দ্বিতা সন্দেহ জাগায়। আর তাই মনের ভেতর সঙ্গোপনে রয়ে যাওয়া বাসনা শক্তভাবে নিজের
পদ্মফুল ছড়িয়ে বসে। সত্য আবেগের চেয়ে মিথ্যে উপস্থিতিকে বড্ড আপন মনে হয়।

গলা চেপে ধরা রাজনীতি নিয়ে কথা চলে বোকাদের দম্ভে। অথচ ভোট দিতে গেলে একজনকেই দিতে হয়। কত বড় প্রতারণা চলছে নিজের সাথে প্রতিনিয়ত। মায়ের গর্ভ নিজেই সন্তানকে অস্বীকার করে ভাগারে। সেখানে নিজের উপর খুব রাগ হয়। এভাবে প্রতারণা করে বাঁচার চেয়ে একবারে সত্যিকারের মৃত্যুই ভালো।

মৃত্যুই যদি শেষ পরিণতি হয়, তবে তোমার চোখ কেনো আমায় ছোঁবে না শেষ শয্যায়?


এভাবেই

ব্রোথেলের মদ কখনো খাওয়া হয়নি। জোড়ায় জোড়ায় গেলাস হাতে থমকে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেনো যেন মনে হচ্ছিল,
কেউ ডেকে বলবে, আই নিড ইউ। ভালোবাসার কোনো বালাই না থাক।
মুভির পর্দায় ভেসে ওঠা কল্পনায় আমি হারাই নি। কেউ কখনো পিছু ফিরে চায় না।
একটি থমথমে বৃষ্টিতে, নোভেল হাতে নিয়ে একা বসে থাকা সামারের আভিজাত্য, দগদগে স্মৃতি হয়ে জমা হয়ে যায় মোবাইলের মেমোরি সেলে। কিছু অজানা কষ্ট দুমড়ে প্রতিবাদ করে, কোথাও থেমে থাকা বারণ। কারো কোনো সেক্সের শেকল নেই, মনের জোরে গাড়ি চলে না। কেউ কখনো ভাবে না, আই নিড ইউ। যত আবেগই উথলে উঠুক।

সন্ধ্যা নামার আগে রাত নামে না। কিন্তু নিয়ম মেনেই, রাত নেমে যায় সন্ধ্যার আগেই।

কত দুঃখ আসে যায়, সুখের বাতাস নিয়ে যায় ব্যারোমিটারের উর্ধ্বে। কল্পনায় বাজে সাইরেন, একরাশ শূন্যতা।
নেশার দূরত্বে চোখের ঘোর লাগে, দূরত্ব বাড়ানোর নেশা আমাকে মাতাল করে দেয়। তখন বারবার মনে হয়, 
‘আই নিড ইউ।’ 
অথচ চেহারায় ভেসে আসে নীরব চাহনি, চিৎকার, যত কাছেই থাক।

না বলায় কেউ হয়তো বুঝে নেবে, ‘আই নিড ইউ। স্টে দেয়ার ফর মি। জাস্ট ফর মি।’

আরও পড়ুন- আমাকে জন্ম দিয়েছেন একজন অসাধারণ মানুষ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড