• সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬  |   ১৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির কবিতা

আমাকে জন্ম দিয়েছেন একজন অসাধারণ মানুষ

  রুদ্রনীল আহমেদ

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৬
কবিতা
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘আহত সময়ের বকব’


বাবার একটাই আক্ষেপ
তিনি চেয়েছিলেন বন্ধুর ছেলের মতো ছেলে
আমাকে নিয়ে তিনি মুখ দেখাতে পারেন না বাজারে
চায়ের দোকানে, আড্ডায়, মানুষের মুখের সামনে দাঁড়িয়ে
বলতে পারেন না তিনি জন্ম দিয়েছেন একজন অসাধারণ মানুষ
আমার কোনো আক্ষেপ নেই
আমি কোনোদিন কারো মতো হতে চাই নি
অথচ চাইলেই বলতে পারতাম
আমি আমার বন্ধুর মতো হতে চেয়েছিলাম
আমিও পেতে পারতাম বন্ধুর মতো চাকরি অথবা বন্ধুর প্রেমিকাকে কিংবা
যে লোকটি বন্ধুর বাবা, তিনি হতে পারতেন আমার বাবা

যেহেতু বলতে চাই, ‘উচ্চাশা নেই; সহজে বেঁচে থাকা মানে না চেয়েই ভালোবেসে যাওয়া’
তাই বাবার কাছে চাইতে পারি নি বন্ধুর জীবন
অথচ বাবাকে নিয়ে মুখ দেখাতে পারি বাজারে
চায়ের দোকানে, আড্ডায়, মানুষের মুখের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি
আমাকে জন্ম দিয়েছেন একজন অসাধারণ মানুষ।



এখন সময় বিভ্রান্তির; সন্দেহ হয় সবাইকে
যেন আগামি এপ্রিলেই খুন হয়ে যেতে পারি
খুন হয়ে যেতে পারি এমনকী বিশ্বস্ত নিজের হাতেও
অযথা আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায়
মৃত্যুর মত ধীরে আসে নভেম্বর
হৃদয়ে জড়িয়ে আসে মিথ্যে কথার শীত
হে আততায়ী,
ঘুম ভেঙে গেলে নিহত স্বপ্ন থেকে ফিরি
নিজের ভেতরে রাখি বিশ্বাসের কয়েন
গুনি এক দুই তিন... রাত্রী ফুরালো নাকি আমাদের
এইসব একা একা কথা বলা রাত্রী!
তোমার অবহেলা আজকাল ভালো লাগে
আমি তাই অবহেলা নেবো, তোমারে নেবো না।



তখন কি আর বুঝতাম মা কেন লুকিয়ে কাঁদে, বাবা কেন দেখিয়ে দেখিয়ে হাসে। বোনেরা চুপচাপ যেন মেনে নেয় অবহেলা। এখন বুঝি সব মিথ্যে একদিন ফিরে ফিরে আসে। যে যার কাপড়ে খোঁজে ফিরে যাওয়ার গন্ধ। একদিন আমিও হঠাৎ অনেক টাকা নিয়ে বসে যাবো ফুটপাতে। দিতে ইচ্ছে করবে কিন্তু দেবো না কাউকে। অনেক কিছু খেতে ইচ্ছে করলেও কিচ্ছু খাব না। প্রতিশোধ নিতে ভালো লাগে মানুষের। তবু আমি সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে শুধু নিজের মহত্বের কথা বলবো। রক্তে নৈতিকতা থাকে কিনা জানি না। শুনেছি এ বয়সে মানুষ একটু বামঘেঁষা হয়। যে মেয়েটি আমার বাম হাত ছেড়ে দিয়ে অন্য একজনকে দিয়েছিলো নিজের ডান হাত, সে আমার সাথে কিংবা অন্য অনেকের সাথে কী কী করেছিলো সেকথা আমি কাউকে বলবো না কোনোদিন। বাবার কোনো ঘড়ি ছিল না বলে আমরা বুঝতে পারি নি মানুষ কীভাবে এতো বুড়ো হয়ে যায়। দাম যে বেড়ে গেলো ঝালমুড়ি পাপড় আর হাওয়াই মিঠাইয়ের, আমাদের পকেটমানি বাড়তে বাড়তে একদিন শূন্য হয়ে  গেছে এই খবর জানতাম না আমরা। জানি তবু যে যার নিজের কাছে ফিরে আসে একদিন, যে যার বাবার মতো দেখিয়ে দেখিয়ে হাসে, যে যার মায়ের মতো লুকিয়ে কাঁদে। মেনে নিতে নিতে একদিন যে যার নিজের সহোদর।


তবু এই ফিরে যাওয়ার গন্ধ উত্তরপুরুষের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে প্রত্যেক জীবনের কাছে আসে কিছু অপমৃত্যুর মতো শর্টফিল্ম। এই বিষাদগ্রস্থ নিক্রপলিসে ওঝারা খেলছেন কিছু মানুষের মতো সেক্সটয়। বাবা এক ফু জানেন, ফু দিয়ে ছেড়ে দিলেন কল্পনার লাগামহীন টাট্টুঘোড়া, যে ঘোড়া সিনেমার হওয়ার কথা ছিলো না।



তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়ে আমার বরং লাভই হলো।
কতবার তুমি ভেসে গেলে ভুল মানুষের স্রোতে
আর অবাধ্য নিউরন কিছু নষ্ট স্মৃতি রিকল করে জাগিয়ে রাখে আমাকে।
হৃদয় খুলে দেখানো যায় না বলে আমি তোমার জন্য কপালে লিখে রাখি চরিত্র।
এইখানে, আমাদের পা খুলে চলে গেছে বিপরীত রাস্তায়।
আমরা এখনও বসে আছি হৃৎপিণ্ড হাতে নিয়ে।
তুমি বললে মন থাকে মাথায়, মেন্টাল মানে মাথায় সমস্যা।
শেখালে ফুল তুমি, তুমিই জীবন।
ভেসে ভেসে চলে যাও, যতদূর গেলে আমিও শিখে যাই
যে যায়, সে ভালোবাসতে দিয়ে যায় নিজেকে।
নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় ছিলো না, তুমি আমাকে সময় দিয়ে গেলে।


১৫ 
অথচ একেকটা মানুষ অযথাই মেলাবার চেষ্টা করে জীবনের রুবিক্স কিউব।
এই বিষণ্ণতার সুপার শপে লটের মাল হোয়ে পড়ে থাকা মানুষ ও মানবীর মতো পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর;
তার থেকে দূরগামী ম্যানুয়াল জীবনের দিকে ধাবিত হলেই কর্পোরেটের চোলাইযন্ত্র গিলে নেবে ক্ষুধার্ত শিল্পের বাঘ।
একথা সত্য জেনেও তুমি দেখো রাস্তায় বুঁদ বুঁদ মদ ও মাতাল।
জীবনের সাথে তাই জীবন গিয়েছে শুধু, মৃত্যুর সাথে যায় নাই পেগ পেগ শিল্পের গ্লাস।
ওখানে অনেক রঙ; তোমার ঠোঁটের মতোন পৃথিবীর কোথাও দেখি নি আর
ওরকম সফল সিনেমার তাবিজ নিয়ে মানুষের ভীড়
তবুও সময় পেলে হৃদয়েরা শেষমেষ দু’একটা ঝরেপড়া জীবনের মতো
নদী ও নর্তকীর কথা দেয়া কান্নায় ভিজে ভিজে তোমার শহর হয় মানুষের অনেক রঙের জামা।
ভাবি, এও কি সম্ভব! এতো যে বিস্ময় নিয়ে হেঁটে বেড়াই কত কত পথ
অথচ সবশেষ সত্য কেবল তোমার কাছাকাছি যাওয়া।

আরও পড়ুন- তোমার জন্য দশ দিন অপেক্ষা করেছি

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড