• শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির কবিতা

যেনো জ্যোৎস্নার ভেতর জ্বলজ্বলে চিতার শরীর

  নৈরিৎ ইমু

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:২৫
কবিতা
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘না মর্মরে না মর্সিয়ায়’

পৃথিবীর বাঁকা তীরে  

উদয় হলো ফুলের মতো তারা 
জন্ম নিলো মায়ের কোলে শিশু 
মুয়াজ্জিনে আযান দিলো সুরে 
পাতাবাহার কাঁপলো থরোথরো 

পিতা গেছেন বিলের ধারে একা 
হারিকেনের আগুন নিভু নিভু 
তবু কেমন তরানো মন জুড়ে 
ধাক্কা দিলো ধিমে আঁচের কিছু 

বোনটি ছিলো নিদ্রাবেশে শুয়ে
নীহার যেনো নিরালা তল্লাটে 
আচমকা সে ফোরাত মতো নদী 
খলবলিয়ে ছুটলো নিরবধি 

ঝাপটা দিলো পারাবতের ডানা 
নবজাতক কান্না করে ওঠে 
বলাকা পথ বাঁকা ধনুক যেনো 
আহা জীবন সুস্বাগতম তোরে। 


ষাট বছরের আয়ু 

এখানে বৃক্ষ সারি
রোদের প্রণাম ছুঁয়ে
বাঁকানো পথের ধারে 
ক্ষণিক জিরিয়ে কারে
চলে যেতে দেখি দূরে 
মায়াবী পাহাড় ঘেরা 
জীবনের ওইপাড়ে।
এখানে জলের ধ্বনি 
সুগোল চাঁদের তলে 
শিসের হাওয়ার মতো 
স্রোতের ঘূর্ণিপাকে 
ভাসে কালো চুল সেজে
বিসর্জনের দেবী! 
এখানে কামিনী শাদা 
বিদেহী রূহের দিকে 
রাজকমলের ছায়া
সামান্য কেঁপে ওঠে
শুনশান দেহঘরে
পাখির ঘুমের দেশ 
বিচিত্র আলপনা।
এখানে কুয়াশা ঘেরা
উথান পতন ধাপে
বনসাই যাপনের
অশুদ্ধ গানে গানে
অন্ধ বীণের প্রভু 
সুর তোলে নাচিয়েছে 
ষাট বছরের আয়ু।


ভগ্নাংশসমূহ- ৩

কেন যে দোদুল্যমান দ্বিধা, প্রহেলিকার দিকে ভর করে শূন্যমাত্রিক ভজন! তাকে না চেনাই, অধিক চেনার উপায়। মানুষের প্রতিজ্ঞা করার ছবি ভাসে হাতে-হাত রাখা, যেনো জ্যোৎস্নার ভেতর জ্বলজ্বলে চিতার শরীর, ভীতিসৌন্দর্যের মন। অথচ মন অনাবৃত হতে চায়। নিঃসীম পানে ধোঁয়াকুণ্ডলীর প্রচ্ছায়াসম আর ঘনতর, ঘনিয়ে এনেছে বাষ্পীভূত দ্বন্দসমূহ। ফলে নিস্পৃহতায় ঝুঁকে স্পৃহার করুণা কুড়ানো। স্নানঘরে নিজেকে খুলে দেখার মতন, এতটা আপন করে পাওয়া— সমস্ত অসুস্থতার বিধৌত অবসর। গ্রীবাদেশ থেকে সিনায় আঙুল বুলিয়ে দেখার শক্তিকে তখন আশ্চর্য নেশারুর মায়া বলে ভ্রম হয়!


দুইটি মিনার 

কোথাও যাবার নেই, পাশাপাশি বসে থাকা আছে
যেনো কতোকাল দুইটি মিনার, প্রাচীরের দুইপাশে 
যেহেতু অনড়, সমদূরত্বের; স্পর্শ পাবে নাহ কেউ কারো
একে অন্যের ছায়ায় একে অন্যকে ছুঁয়েছে শুধু
পাথর দাঁড়িয়ে থাকা, মধ্যস্থতাকারী রোদে, তাহলে মহান ছায়া 
হুড়কো অনেক আছে, মনে মনে তা'ই খোলা দরকার
এভাবে কি জলাঞ্জলি দেয়া যায় মুখবুজে, সব সয়ে বারবার? 
সবেগ শিথিল হবে, আহতে জখম রবে, শশী কালো রঙ নেবে 
তবু দুইটি মিনার প্রাচীরের দুইপাশে পাথর দাঁড়িয়ে থাকে 
কোথাও যাবার নেই, আমার-তোমার, সত্যভূতের জড়বাস্তবে 
আমাদের কথা হয়ে কুহরণ-কেকা, বাতাস সেধেছে অকটেভ 
পাশাপাশি বসে থাকা, চিরবাসনা চিরবেদনা বহির্ভূত। 


ভগ্নাংশসমূহ- ১ 

রসঘন ফলগুলো আরও কিছুকাল থেকে যাবে 
ঝুলে ওই বৃক্ষশাখায়, পাতাদের ছায়াঘন আড়ালে
মানুষের ভুখাচোখ ক্রমশ নীরস হবে; সেইসাথে—
জেনেছি এসব মর্মমূলের ভিতর জড়িয়ে 
গিয়েছি কত আগে, কতটা খোলতাই মলিন
হয়েছে রূপ গেরুয়া থানের কাছে, শতায়ু
ফুরিয়ে যাবে, আবার ফেরার কথা ভুল— আলতা 
রঙের দিকে ঝুঁকে পড়া সত্য বরং

কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, উড়ে ডুবে নিভে যাওয়া হলো 
কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, পুরনো মেঘের গন্ধ ছড়ালো 

বন্ধু মুখের দিকে বাঙময় কথাগুলো ভাবি—
কেন যে শার্দূল হলো চাওয়া, প্রভাব ফেলতে চায়
বৈরাগী হাওয়া ভরা বায়ুমণ্ডলে, তবুও মাধ্যম 
সাজে গান; গানের ভঙ্গিমায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে 
মাদুলিতে লিখা ভাষা— রূপার মতো সাদা, রক্ষিণী,
প্রিয়ভাষিণী একের ভেতর এক নারীর মমতা মাখা
রত্নগিরির দিকে কাঁদিয়ে দিয়েছে মন, রেণুহীন 
ফুটে থাকা পয়মন্ত দিনে, পাক খাওয়া স্রোত 
কোন বিস্তৃর্ণ স্মৃতির খেয়ালে জন্ম দিয়েছে দাহ!
ঘের— অধিগত কুঁজোর চেয়ে বেশী কিছু নয়
ভূমিসাৎ হবে পাঁজর, নিজের প্রোথিত 
তারামাছ তুলে এনে দেখতে চাইবো কোনদিন
মানুষের ভুখাচোখ ক্রমশ নীরস হবে সেইসাথে

কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, উড়ে ডুবে নিভে যাওয়া হলো 
কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, পুরনো মেঘের গন্ধ ছড়ালো 

সহসা আঘ্রাত হলো বাঁচা, যে ধারণ ঋতুর আকাল
গুমরে গিয়েছে ধারালো হাসির পাশে, চিরকাল
স্মরণের একা ভার, জোয়ার জোয়ার মনোভাব
তখনও কণিকা হওয়া বিস্তর নিজেকে পাবার 
তখনও সারস সন্ধ্যে বিস্তর আলোড়ন জাগাবে
ঘিরবে আঁধার, কারো হাত ধরে সাহস ফিরবে
বাড়ি পৌছুবার, অথচ পৌঁছবো না কোথাও জেনেও
জ্বালাবো কুপের শিখা, কম্পমান, জানবো বিবর,
করুণ করিডোর, নিঃস্ব থমথমে হয়ে রবে রাতভর
কিভাবে গেরিলা হয়েছে সব গেরো! জড়িয়ে গিয়েছি 
কত আগে, ধূলিধুসরিত। কিভাবে তা জানবো না! 
সকল আচ্ছন্নতার ভেতর আরাধনা ঘুমের বয়ান 
মহাঘুমে- রূপহীন, অবয়বহীন হতে চাওয়া, আর যত 
কৌণিকতা বিদার খোঁজে, দাঁতাল দন্তুর মতো কথার 
নিচে শুয়ে। যেটুকু সুরতহাল হয়ত মেলবে ডানা ক্ষণিক
সংগত হবে কিছু পাতানো মানুষ, জুড়ি বাঁধা— সান্দ্রতা 
মানুষের ভুখাচোখ ক্রমশ নীরস হবে সেইসাথে

কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, উড়ে ডুবে নিভে যাওয়া শুধু 
কোথাও হৃদয় খুব সোঁদা, পুরনো মেঘের গন্ধ ছড়ালো।

আরও পড়ুন- ভুলে যেতে যেতে বেঁকে গেছে দুটি পথ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড