• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রবন্ধ

সৃষ্টিকর্মে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রবীন্দ্রনাথ

  আবু হানিফ জাকারিয়া

০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৪০
ছবি
ছবি : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি কলকাতার বিখ্যাত একটি জমিদার বাড়ি এটা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়েনা। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান হিসেবে জন্ম নিলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিন্তু জমিদার পুত্র হিসেবেই বেড়ে উঠেছিলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে গেলেও পড়াশোনা শেষ করা হয়ে উঠেনি তার। নেয়া হয়নি অন্য কোন পাশের ডিগ্রীও। ১৯১০ সালে প্রকাশিত গীতাঞ্জলী কাব্য গ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে পেয়েছেন সাহিত্যে নোবেল। কবিগুরু বা বিশ্বকবি হিসেবে তার পরিচিতি। হবেই বা না কেন! মাত্র আট বছর বয়সে যার কবিতা লেখা শুরু হয়। ১৮৭৪ সালে তত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ‘অভিলাষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটি তার প্রথম প্রকাশিত রচনা। এরপর শুধুই সামনে এগিয়ে চলা। 

সাহিত্যের সব শাখা প্রশাখায় প্রভাব বিস্তার করতে করতেই এক সময় বিরাট এক মহীরুহতে পরিণত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জমিদারি কার্য, বিচার- সালিশ, ব্যবসা, সমাজ সেবা, এমনকি রাজনীতিতে ও সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে এই মহান কবিকে। চৌদ্দ বছর বয়সে মাতৃবিয়োগ ঘটে আর ভ্রমণ পিপাসু বাবা ভ্রমণের কারণে বেশিরভাগ সময় কলকাতার বাইরে কাটাতেন, তাই কিশোর রবীন্দ্রনাথের বেড়ে উঠা হয় ভৃত্যদের অনুশাসনে। ৫টি মহাদেশের ৩০টির বেশি দেশ ভ্রমণ করা বহু অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য কর্মই তাকে অমর করে রেখেছে শুধু বাংলা সাহিত্যই না গোটা বিশ্ব সাহিত্য জগতে। কাজেই তার অন্য পরিচয় গুলো আর তেমন ভাবে প্রস্ফুটিত হয় নি বা এ কথা বলা যায় তার অন্য প্রতিভাগুলো চাপা পড়ে গেছে তার কাব্য প্রতিভার কাছে। রাজনৈতিক রবীন্দ্রনাথ ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন, আবার ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক  দেয়া ‘স্যার’ উপাধি (নাইটহুড) ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি তা বর্জনও করেন।  যে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্মের উপর গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করা সম্ভব সেই রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্ম এত স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা একেবারেই অসম্ভব। তার চেয়ে তার সৃষ্টিকর্ম গুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা যাক। 

শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান নেই। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, চিঠি সাহিত্য, নাটক, সংগীত, চিত্রকলা কোন শাখায় রবীন্দ্রনাথ দাপট দেখাননি? সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া একজন কবি সংগীতেও সমান দক্ষ ও জনপ্রিয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই বিশ্বসাহিত্যের একমাত্র ব্যক্তি যার রচিত সংগীত পাশাপাশি দুটি দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে সম্মানের সাথে গাওয়া হয়। এই বিরল সম্মান সারা পৃথিবীতে ২য় আর কারো নেই। বিভাগ ভিত্তিক তার সৃষ্টিকর্মগুলি যদি দেখি-

কবিতা 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র আট বছর বয়সে কাব্য রচনা শুরু করেন। তিনি মোট ৫২ টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। কবিতার জন্যই নোবেল পুরস্কার পেলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী কবি। তার কবিকাহিনী, বনফুল ও ভগ্নহৃদয় কাব্য তিনটিতে বিহারীলালের প্রভাব সুস্পষ্ট। সন্ধ্যাসংগীত কাব্যগ্রন্থ থেকে রবীন্দ্রনাথ নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ কে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলি বিভিন্ন পর্যায় বা বিভিন্ন ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যেমন সন্ধ্যাসংগীত, প্রভাত সংগীত, ছবি ও গান ও কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু ছিল মানব হৃদয়ের বিষণ্ণতা, আনন্দ, মর্ত্যপ্রীতি ও মানব প্রেম। আবার ১৮৯০ সালের পর পর প্রকাশিত মানসী,  সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা ও ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ফুটিয়ে তুলেছেন প্রেম ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত রোমান্টিক ভাবনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০১ সালে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং তারপর থেকেই তাঁর কবিতায় আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। তাঁর এমন কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হল নৈবেদ্য,  খেয়া, গীতাঞ্জলী, গীতালি, গীতিমাল্য। 

১৯১৫ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাঁর কাব্য চিন্তায় আবার পরিবর্তন শুরু হয়। মর্ত্য জীবনের আগ্রহ হয় বিষয়বস্তু যেমন- বলাকা কাব্যগ্রন্থ।  অন্যদিকে পলাতকা কাব্যগ্রন্থে তিনি নারী জীবনের সমস্যা গুলি তুলে ধরেন গল্প- কবিতার আকারে। পূরবী ও মহুয়া কাব্যগ্রন্থ প্রেমকে উপজীব্য করে লেখা। তাঁর ৪ টি গদ্যকাব্য প্রকাশিত হয় যেমন- পুনশ্চ,  শেষ সপ্তক,  পত্রপুট ও শ্যামলী।

মৃত্যুর আটদিন আগেও মৌখিক ভাবে তিনি রচনা করেছেন তাঁর শেষ কবিতা "তোমার সৃষ্টির পথ"। জীবনের শেষ দশকে রবীন্দ্রনাথ কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছেন যার প্রভাব দেখা যায় তাঁর রোগশয্যায়, আরোগ্য,  জন্মদিনে ও শেষ লেখা কাব্যগ্রন্থে।

ছোটগল্প 

যদিও রবীন্দ্রনাথ তার গল্পে পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি বা আধুনিক ধ্যান ধারনা সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতেন তথাপি তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার। তাঁর উচ্চ সাহিত্যমূল্য সম্পন্ন গল্পগুলি মূলত হিতবাদী, সাধনা, ভারতী, সবুজপত্র প্রভৃতি মাসিক সাহিত্য পত্রিকাগুলির চাহিদা মেটাতে তিনি লিখে যাচ্ছিলেন।

কবিতার মত গল্পেও ভিন্নতা আনতে তিনি শেষ জীবনে লিপিকা, সে ও তিন সঙ্গী গল্পগ্রন্থে নতুন আঙ্গিকে গল্প রচনা করেছিলেন। তাঁর গল্পসংকলন গল্পগুচ্ছের প্রথম তিন খণ্ডে মোট ৮৪ টি গল্প স্থান পায়। তিনি মোট ৯৫টি গল্প লিখেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্প হল- কঙ্কাল, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, স্ত্রীর পত্র, নষ্ট নীড়, কাবুলিওয়ালা, হৈমন্তী, দেনাপাওনা, মুসলমানির গল্প ইত্যাদি।

 রবীন্দ্রনাথের একাধিক ছোটগল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র, নাটক নির্মিত হয়েছে। তাঁর গল্পের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রায়ন হল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ (মণিহারা, পোস্ট মাস্টার ও সমাপ্তি অবলম্বনে) ও ‘চারুলতা’ (নষ্ট নীড় অবলম্বনে), তপন সিংহ পরিচালিত ‘অতিথি’, ‘কাবুলিওয়ালা’ ও ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘পূর্ণেন্দু পত্রী’ পরিচালিত ‘স্ত্রীর পত্র’ ইত্যাদি।
 
উপন্যাস 

রবীন্দ্রনাথ উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নারী পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা, হিন্দু ও ব্রাহ্ম সমাজের সংঘাত ইত্যাদি বিষয়কে উপজীব্য করেছেন। তিনি মিলনাত্মক, বিয়োগাত্মক, ঐতিহাসিক ও প্রেমের উপন্যাস লিখেন মোট ১৩ টি। এগুলি হল- বৌ ঠাকুরানীর হাট, রাজর্ষি, চোখেরবালি, নৌকাডুবি, প্রজাপতির নির্বন্ধ, গোরা, ঘরেবাইরে, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, দুই বোন, মালঞ্চ ও চার অধ্যায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের "ঘরেবাইরে" ও ঋতুপর্ণা ঘোষের ‘চোখেরবালি’ উল্লেখযোগ্য।

প্রবন্ধ ও পত্র সাহিত্য

বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিক্ষা-সংক্রান্ত ভাবনা চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন ‘শিক্ষা’ প্রবন্ধমালায়। রবীন্দ্রনাথ যেমন ‘ন্যাশনালিজম’ গ্রন্থে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিশ্লেষণ করে বিরোধিতা করেছেন তেমনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া দর্শন বিষয়ক বক্তব্যগুলি ‘রিলিজিয়ন অফ ম্যান’ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞান, রাজনীতি, ইতিহাস,ভাষাতত্ত্ব, প্রাচীন সাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য, ছন্দ, সংগীত, আত্মকথা ইত্যাদি অসংখ্য বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন যে গুলি ৩৬ টি প্রবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কিছু প্রবন্ধ সংকলন হল- সমাজ, কালান্তর, ভারতবর্ষ, ইতিহাস, সাহিত্যের পথে, সাহিত্যের স্বরূপ, শব্দতত্ত্ব, ছন্দ, সংগীত চিন্তা, জীবন স্মৃতি, আত্মপরিচয় ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সামগ্রিক পত্র সাহিত্য আজ পর্যন্ত ১৯ টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ছিন্নপত্র ও ছিন্ন পত্রাবলী,  ভানুসিংহের পত্রাবলী ও পথে ও পথের প্রান্তে বই তিনটি রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য পত্র সংকলন।

নাট্য সাহিত্য
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক নাট্যমঞ্চে মাত্র ষোলো বছর বয়সে যে অভিনেতার অভিনয় শুরু হয় সেই অভিনেতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনেতা পরিচয়টি কখনই সেভাবে আলোচিত হয়নি যতখানি নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী জীবনে শান্তিনিকেতনে মঞ্চ তৈরি করে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে নাটকের দল গঠন করে মঞ্চস্থ করতেন। এইসব নাটকের একাধিক চরিত্রে অভিনয়ও করতেন তিনি। গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, নৃত্যনাট্য, প্রহসন সব ধরনের নাটক রচনায় তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গীতিনাট্য - বাল্মীকি-প্রতিভা, কাল মৃগয়া।
        নৃত্যনাট্য - নটীর পূজা, শাপমোচন, শ্যামা, চণ্ডালিকা।
        কাব্যনাট্য - রাজাও রানী, বিসর্জন, চিত্রাঙ্গদা, মালিনী।
        প্রহসন - গোড়ায় গলদ, বৈকুন্ঠের খাতা, হাস্য কৌতুক, ব্যঙ্গ কৌতুক, চিরকুমার সভা।
এছাড়া তার রূপক-সাংকেতিক তত্বধর্মী উল্লেখযোগ্য নাটক গুলি হল- শারদোৎসব, রাজা, ডাকঘর, অচলায়তন, ফাল্গুনী, মুক্তধারা, রক্ত করবী, কালের যাত্রা ইত্যাদি।

সংগীত ও নৃত্যকলা

ধ্রুপদী ভারতীয় সংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি ১ টি স্বকীয় সুর শৈলীর জন্ম দেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বহু কবিতাকে গানে রূপান্তর করেছেন। তিনি মোট ১৯১৫ টি গান রচনা করেছেন। তাঁর রচিত সকল গান সংকলিত হয়েছে গীতবিতান গ্রন্থে। এই গ্রন্থের ‘পূজা’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘স্বদেশ’, ‘আনুষ্ঠানিক’ ও ‘বিচিত্র’ পর্যায়ে মোট দেড়হাজার গান সংকলিত হয়। ইউরোপীয় অপেরার আদর্শে বাল্মীকি-প্রতিভা, কাল মৃগয়া গীতিনাট্য এবং চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা ও শ্যামা সম্পূর্ণ গানের আকারে লেখা। বাঙালি সমাজে সংগীত স্রষ্টা হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া রবীন্দ্রনাথ নিজে গান গাইতেন এবং তার দুটি গান বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে সম্মানের সাথে গাওয়া হয়।

রবীন্দ্রনাথের সময় বাংলার শিক্ষিত পরিবারে নৃত্যের চর্চা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর পাঠ্যক্রমে সংগীত ও চিত্রকলার সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যকেও অন্তর্ভুক্ত করেন। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকনৃত্য ও ধ্রুপদী নৃত্যশৈলী গুলির সংমিশ্রণে তিনি এক নতুন শৈলীর প্রবর্তন করেন। এ শৈলীটি ‘রবীন্দ্রনৃত্য’ নামে পরিচিত।

চিত্রকলা 

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত ছবি আঁকা শুরু করেন প্রায় ৭০ বছর বয়সে। চিত্রাঙ্কনে তার প্রথাগত কোন শিক্ষা ছিল না। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সময়ে তাঁর অংকিত স্কেচ ও ছবির সংখ্যা আড়াইহাজারের উপর যার ১৫৭৪ টি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্র ভবনে সংরক্ষিত আছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে ১৯২৬ সালে প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয়। এরপর সমগ্র ইউরোপেই কবির একাধিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিচরণ করেননি। তার দোর্দণ্ডপ্রতাপে বিচরণের সব কথা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সত্যি কঠিন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড