• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ

  শব্দনীল

২২ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪৫
ছবি
ছবি : বাংলা ভাষার শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশ

আলো-অন্ধকারে যাই—মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোনো এক বোধ কাজ করে!
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!
                        
আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ বাংলা ভাষার ‘রূপসী বাংলার কবি’ সম্পর্কে কিছু লেখা অনেকটা অসাধ্য সাধনের বিষয়। যার কথা বলছি তিনি কবি জীবনানন্দ দাশ। রবীন্দ্র পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষার প্রধান কবি বলা হয় তাকে। অন্যদিকে তাকে ‘শুদ্ধতম কবি’ও বলা হয়।

পশ্চিমা সাহিত্যের আধুনিক ধারার নির্যাস নিয়ে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার সূত্রপাত হয়েছিল বিশ শতকের তিরিশের দশকে। এই আধুনিকতার সেতুটি যারা সযত্নে হাতে-কলমে, চিন্তা ও বোধের মাধ্যমে নির্মাণ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। তিনি কবিতা লেখাকেই জীবনের অন্যতম সংগ্রাম হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা মডার্নিস্ট মুভমেন্টের রঙের সাথে বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ মিশিয়ে করেছেন কবিতা-সংসারের গোড়াপত্তন।

বর্তমান সময়ে আমরা যারা কবিতার নতুন ধারার জল-ভূমির সন্ধানে মরিয়া এর পিছনে অন্যতম কারণ জীবননান্দ। কারণ আমার উত্তরাধিকার সূত্রে সেই সংসারেরই সদস্য। নিজেকে সেই সংসারে সদ্য ভাবাটা স্পর্ধার বিষয় কিন্তু সংসার জুড়েই তো সাহিত্যের রূপ-রস-রং-মাধুর্য একাকার হয়ে আছে। যেখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা লেখা আছে। আছে হতাশার-বেদনার ভেতরে নির্ভার শান্তি।

যদিও কবি জীবননান্দ সম্পর্কে বাংলার সাহিত্যাঙ্গন প্রথম জেনেছেন, বুদ্ধদেব বসুর কাছ থেকে। একথা বলছি কারণ রবীন্দ্র যুগের পরও বাংলা সাহিত্যে তার প্রভাব ছিল বিস্তীর্ণ। কবিতার ভেতর অধুনিক সত্তার রসবোধ তিরিশের দশকের অনেক কবিতার রথী-মহারথীরা বুঝতে পারেনি। পারেননি জীবননান্দের চিন্তা-চেতনার ধারা বুঝতে। এজন্যই বলা যায় জীবদ্দশায় ছিলেন অবহেলিত।

জীবনানন্দ সৌন্দর্য ও বোধের কবি। তিনি কবি হয়ে জন্ম নেননি। কবিতা লালন করেছিলেন আজন্ম। আজ আমরা যে কবিকে তার কবিতার জন্য কবিদের সিংহাসনে বসিয়ে অলঙ্কৃত করছি, সেই কবিই তার কবিতার জন্য বারবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন এই মনুষ্যসমাজেই। তিনি কবিতা লিখতে গিয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন অনেক বার। রুদ্ধ হয়েছে তার জীবন-জীবিকার পথ। বারবার হয়েছেন ব্যথিত এবং নিক্ষিপ্ত হয়েছেন বিভীষিকাময় যন্ত্রনায়। কবিতা দিয়ে জীবনের গভীরতা মাপতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন তবুও তিনি কবিসত্তাকে সমুন্নত রেখেছে। 

‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ জীবনানন্দ দাশ কবিসত্তার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই মত পোষণ করেন। তারই কথিত বক্তব্যে কেউ কেউ কবির মধ্যে তিনি একজন বিশিষ্ট উজ্জ্বলনক্ষত্র। বলা যায় তার লিখনি শক্তির জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র।

সময়চেতনার অপরিহার্য বোধই কোনো কবিকে জীবন্ত করে রাখে শতাব্দী ধরে। এইখানে জীবনানন্দ দাশ সফল। সফল বলছি কারণ তিনি যে সবার থেকে আলাদা, সে সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন। ‘সকল বোধের মাঝে বসে/ আমার নিজের মুদ্রাদোষে/ আমি একা হতেছি আলাদা।’ 

পৃথিবীর অনেক প্রতিভাবান শিল্পীই নিজের আলাদা সত্তা চিনিয়েছে আবার এভাবেই ঘোষণা করেছেন নিজেকে চেনানোর জন্য। কারণ সাধারণ মানুষ আলাদা সত্তার খোঁজ পেতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। জীবননান্দ নিজের জাত বা সত্তা চেনানোর জন্য কোনো ভুল করেনি। তার প্রমাণ তিনি নিজে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড