• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রথম বাঙালি নারী গ্র্যাজুয়েট কামিনী রায়

  সাহিত্য ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৩২
ছবি
ছবি : বিদুষী বাঙালি কবি কামিনী রায়

‘সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’  

স্কুল জীবনের পাঠ্য বইয়ে ‘সুখ’ কবিতাটি আমরা সবাই পড়েছি। কবিতাটির লেখিকা কামিনী রায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কবিতাটি লিখেছিলেন তিনি। অথচ তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেছেন তখন সমাজপতীদের চোখে নারী শিক্ষা ছিল একটি জঘন্য অপরাধের সামিল। সে সময়ে নারী শিক্ষার প্রচলনই ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম বাঙালি গ্র্যাজুয়েট। আজ এই বিদুষী বাঙালি কবির জন্মদিন।

তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কামিনী রায় একাধারে ছিলেন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা। লেখালেখির শুরুতে তিনি ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ নাম ধারণ করে লিখতে শুরু করেন। কামিনী রায়ের এটিই ছিল ছদ্মনাম।

অতি শৈশবে তার পিতামহ নিমচাঁদ সেন কামিনী রায়কে কবিতা এবং স্তোত্র পাঠ করতে শিখিয়েছিলেন। এই জন্যই খুব কম বয়স থেকেই কামিনী রায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন এবং কবিত্ব-শক্তির স্ফুরণ ঘটান। আঠারো শতকে যেখানে মেয়েদের লেখাপড়াকে একান্তই নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হতো সেখানে কামিনী রায়ের জননী তাকে গোপনে বর্ণমালা শিক্ষা দিতেন। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখতে শুরু করেন।

কামিনী রায় তার কালজয়ী কবিতা ‘সুখ’ রচনা করেন কৈশোর কালে। এই কবিতা সম্পর্কে তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘সকলের ভালো লাগিয়াছে বলিয়া এটা রাখিয়া দিয়াছিলাম। নতুবা বয়সের অনুচিত পাকামি হইয়াছে বলিয়া কবে ছিঁড়িয়া ফেলিতাম। সাড়ে পনের বৎসর ছিল তখন আমার বয়স।” 

তিনি ছয় বছর বয়সে কলকাতার কেশবচন্দ্র সেনের ‘ভারত আশ্রম মহিলা বিদ্যালয়ে’ প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি মাইনর পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ‘কুমারী এফ্রয়েডের হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে’ ভর্তি হন। এরপর পড়ালেখা করেন কলকাতার বিখ্যাত বেথুন স্কুলে। 

১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৮৮৩ সালে এফএ পাস করেন। তিনি সংস্কৃত ভাষা সাহিত্য নিয়ে ১৮৮৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। যেটা ছিল ভারতের প্রথম নারীর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন। 

তৎকালীন কামিনী রায় অত্যন্ত আধুনিক মনসিকতার প্রতীক ছিলেন। তিনি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়েও আন্দোলন করেন। এমনকি তিনি ব্রিটিশ শাসিত সময়ে নারীর ভোটাধিকার আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। সেই আন্দোলনের ফলেই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি নারীর ভোটাধিকার প্রদান করে।

কামিনী রায় আজীবন সাহিত্যচর্চা করে গেছেন। প্রকাশিত হয়েছে তার অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আলো ও ছায়া’, ‘গুঞ্জন’, ‘মাল্য নির্মাল্য’, ‘অশোক সঙ্গীত’, ‘অম্বা নাট্য কাব্য’, ‘ঠাকুমার চিঠি’, ‘দীপ ও ধূপ’, ‘জীবন পথে’ প্রভৃতি। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কামিনী রায়কে তার সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৯ সালে ‘জগত্তারিনী’ স্বর্ণপদক প্রদান করে। তিনি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের ২৯তম অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন। তিনি ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ৬৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড