• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

আমার চোখে মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় (পর্ব- ১৬)

ভাইয়ার কাজকর্ম বেশ স্বাধীনচেতা ঘরানার

  অধিকার ডেস্ক    ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:২৮

উপন্যাস প্রকাশন
ছবি : সম্পাদিত

একজন ব্যতিক্রমী মননের মানুষ মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়। ব্যতিক্রমী তার লেখার ধারা। কেউ কেউ মনে করে তিনি বিচিত্র রঙের গল্পকার। কারও কাছে সুচিন্তিত সমালোচক, আবার কারও কাছে সূক্ষ্ম বিশ্লেষক। অনেকের কাছে অবশ্য তিনি বর্তমান সময়ের সেরা ক্রিকেট বোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।  

সম্প্রতি তিনি পাঠক মহলে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন ‘নামহীন দামহীন’ শীর্ষক বিশ্ব ব্যতিক্রমী এক আত্মজীবনীর মাধ্যমে। আসলে কেমন মানুষ হিমালয়? কাছের মানুষদের চোখে তার ব্যক্তিত্ব কেমন? ব্যতিক্রমী চিন্তার এই মানুষটিকে নিয়ে লিখেছেন তার সঙ্গে কিংবা আশেপাশে থাকা কিছু নিকটবর্তী মানুষ। তাদের বলা কথাগুলো নিয়েই ‘উপন্যাস প্রকাশন’ এর উদ্যোগে ‘দৈনিক অধিকার’ এর ধারাবাহিক আয়োজন, ‘আমার চোখে মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়'।  

আজ প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিক এ আয়জনের ১৬তম পর্ব। এ পর্বে লেখক হিমালয়কে নিয়ে লিখেছেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জায়েদ বিন সাত্তার। 

হিমালয় নামটা শুনি প্রথমে নটরডেম কলেজের ক্যান্টিনে। বুয়েটের এক ভাই নাকি পাইয়ের মান কয়েক হাজার ডিজিট পর্যন্ত বলতে পারে। শুনে তেমন আগ্রহ পাইনি।আমি সাধারণ মানুষ তাই বরাবরই ব্যাতিক্রমী মাত্রার ট্যালেন্টদের থেকে আমি দূরে থাকি। এরপরে ইউটিউবে ‘শেষ বলে কিছু নেই’ এই গানটা শোনার পর জানতে পারি এইটার লেখকও হিমালয় নামের ওই ভদ্রলোক। 

ধরেই নিলাম বুয়েটে পড়ে, গান লেখে, পাইয়ের মান জানে হাজার হাজার ডিজিট পর্যন্ত— এ তো বিরাট ট্যালেন্টরে বাবা! ইনি থাকেন ওই ট্যালেন্টপল্লীতে, আমাদের পাড়ায় ওনার বাস নয়। যেহেতু আলাদা পাড়ায় থাকি তাই ওনার সাথে দেখা হবার কোন সম্ভাবনা সেরকমভাবে ছিল না। তাই কিছুদিন পরে উনি মাথা থেকে বের হয়ে যান।

এরপর ২০১৪ এর মার্চের দিকে অন্যরকম গ্রুপে কাজ করার জন্য সাক্ষাতকার দেয়ার মধ্য দিয়ে ভাইয়ার সাথে প্রথম সামনা সামনি পরিচয় হয়। শুরুর দিকে ভাইয়ার চিন্তা-ভাবনা, কাজকর্ম একটু আউলা লাগতো। তবে ভাবতাম উনি ট্যালেন্ট বুয়েটিয়ান এইরকম হতেই পারে, আমি সাধারণ আমজনতা তাই অনেক কিছু হয়ত আমার অ্যান্টেনার উপর দিয়ে যাচ্ছে তাই বুঝতে পারছি না। 

তবে কাজের সূত্রে এবং কাজ ছাড়াও মাঝে মাঝে আড্ডাবাজির সূত্রে ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরপরে অফিসিয়ালি ভাইয়ার সাথে আর কাজ না করলেও যোগাযোগটা থেকে যায়- কাজে এবং অকাজে(আড্ডায়)। পরিচয়ের সময়ের ব্যাপ্তি বাড়ার সাথে সাথে ভাইয়ার কাজ কর্ম চিন্তাভাবনার প্যাটার্ন ও ধীরে ধীর পরিষ্কার হতে থাকে। আর ভাইয়ার  ‘নামহীন বই’ পড়ার পরে আরও অনেক ব্যাপার পরিষ্কার হয়।

ভাইয়ার সাথে পরিচয়ের আগে আনকনভেনশনাল কোন বিষয়কে সহজে নিতে পারার ব্যাপারে যেই সহজাত জড়তা বোধ সেটা অনেকখানি কমে গেছে। ভাইয়ার সাথে দীর্ঘসময় আড্ডার কারণে হিউমার চর্চা আরও শক্তিশালী মাত্রা পেয়েছে। তবে ভাইয়ার সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো কোন একটা ঘটনাকে/কাজকে নতুন ভাবে দেখার/করার আইডিয়া পাওয়া।

ভাইয়ার কাজকর্ম বেশ স্বাধীনচেতা ঘরানার। ভাইয়ার কাজের ধরন ও বিষয়বস্তু দেখে আমার উনাকে মাঝে মধ্যে বেশ সাহসী লাগে আবার মাঝে মধ্যে উনার বুদ্ধি-শুদ্ধি কম বলে মনে হয়। তবে বেশিরভাগ সময় সাহসীই লাগে। ভাইয়ার নানা অ্যাক্টিভিটি আমার ভালোই লাগে তবে সেগুলোর পেছনের স্ট্রাগলটা হিসেবে নিলে ওইরকম কাজে আগ্রহ পাই না। শুরুর দিকে যদিও ভেবেছি ভাইয়া বিরাট গণিতবিদ পরে অবশ্য হতাশ হয়েছি। উনি আসলে ওইরকম কিছু না। 

উনার ভাষায়- ‘আমার অংকের দিকটা আসলে সাইন্স না এইটা আর্টস’। শুরুর দিকের ধারণা এইভাবে এতখানি ভুল প্রমাণিত হচ্ছে সেটা নিতে একটু কষ্টই হয়েছিল। আর সবচাইতে অবাক হয়েছিলাম যখন বুঝলাম উনি ‘আদর্শ বুয়েটিয়ান’ না। তবে উনার এই অনাদর্শ বুয়েটিয়ান হবার কারণেই উনার সাথে হয়ত যোগাযোগ এগিয়েছে-একরকম ভাবে ভাবা শুরু করে আরেক ভাবে আবিষ্কার করেছি।

হিমালয়

মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়

 

তবে যখন যেভাবেই আবিষ্কার করি না কেন কয়েকটা বিষয় সবসময় কমন ছিলো- ভাইয়া মেধাবী লোক, উনার কাজ কর্মের ভিশন লম্বা চওড়া, আর সব মিলেয়ে উনি সহিষ্ণু লোক। ভাইয়ার সেলফ এক্সপ্লোরেশনের দক্ষতা দারুণ। আমি ‘কী’, আমি ‘কী’ না, আমার কী ভালো লাগে, কী করবো, কী করবো না- নিজের সম্পর্কে জানাশোনার এই জায়গাটা ভাইয়ার অসম্ভব শক্তিশালী। এইটা নিয়ে আমি ঈর্ষাও বোধ করি উনার প্রতি। নো দাইসেলফ (Know thyself) আর আত্নতত্ব যে জেনেছে দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে- এই দুইটা লাইন যদি আমার পরিচিত মানুষের সাথে রিলেট করতে বলা হয় তাহলে হিমালয় ভাইয়ের নাম আমার শুরুর দিকেই মাথায় আসবে। 

আগের পর্ব পড়তে : মাস্টার অফ অ্যানালেটিক্যাল থিংকিং, জ্যাক অফ নান

ভাইয়া বেশিরভাগ কাজই প্রচলিত ফরম্যাটে করে না, সৃজনশীলতার বিচারে এটা ভালো হলেও নতুন অবস্থায় বা কম সময়ের জন্য ভাইয়ার সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় সেটা অনেকের অস্বস্তির কারণ হয়। আর যেহেতু অনেক কাজই প্রচলিত ফরম্যাটে করা হয় না তাই পরে অন্য জায়গায় কাজ করতে গেলে আগের অভিজ্ঞতাটা ব্যাখ্যা করাটা কিছুটা মুশকিলের হয়। 

ভাইয়ার নানান বিষয়ে আগ্রহ আছে। তবে ভাইয়ার লার্নিং প্রসেসও বেশিরভাগ সময় প্রচলিত প্যাটার্নের বাইরে থাকে। ভাইয়ার নিজের লেসন ডিজাইন নিজের মতো হবার কারণে সেটার কার্যকারিতা বোঝা ও মূল্যায়ন উনি ছাড়া বাইরের কারও পক্ষে বোঝা মুশকিল। আর যেহেতু এই ক্রসম্যাচটা করা কঠিন তাই উনার প্রসেসে কোনো ঝামেলা থাকলে সেটা ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং ব্যাপারটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।

আরেকটা জিনিষ মাথায় আসছে সেটা হচ্ছে ভাইয়ার অনেক অদ্ভুত কর্মকান্ড নিয়ে যেসব জনশ্রুতি আছে যেগুলো মোটাদাগে নেতিবাচক ভাবে সামনে আসে। তবে ভাইয়া যদি উনার বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির উদ্দেশ্য নিয়ে ওনার আশে পাশের লোকজনকে ধারণা দিয়ে রাখতো তাইলে হয়ত এই ধরণের সমস্যা কম হত বলে মনে হয়। আবার হতে পারে ধারণা না দিয়ে কাজ করে যাওয়াটাই উনার স্ট্রাটেজি। আর ভাইয়ার ট্রাডিশনাল তো বটেই অনেক টেকনিক্যাল টুলস (টুলস বলতে কাজের কৌশল ও সে সংক্রান্ত দক্ষতা বোঝাচ্ছি) নিয়েও কিছুটা উদাসীনতা আছে বলে আমার মনে হয়।

ভাইয়ার কাছে কাজের মাইন্ডসেট বেশি গুরুত্বপূর্ণ তবে সে তুলনায় টুলস অনেক কম গুরুত্ব পায়। তবে আমার মনে হয় টুলস অনেক ক্ষেত্রেই আরও বেশি গুরুত্বের দাবি রাখে। 

অনেক কথা বললাম, এবার শেষ করি। ভাইয়া প্রায়ই বিভিন্ন ব্যাপারে এক্সপিরিমেন্ট করে এবং সেই ফলাফল তার কাজ ও চিন্তায় সন্নিবেশিতও করে। যেহেতু ভাইয়ার এই এক্সপিরিমেন্টের ব্যাপারটা একটা চলমান প্রক্রিয়া তাই ভাইয়ার সম্পর্কে চূড়ান্ত বিচারে কিছু বলা কঠিন, পাইয়ের মানের মতো- সামনে কোন সংখ্যা আসবে তা কোনো নিয়মে ফেলা যায় না। এটাই পাইয়ের সৌন্দর্য, শক্তি কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড