• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির অব্যক্ত কথা

লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার আগে

  সানাউল্লাহ সাগর

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:১৫
উপন্যাস
ছবি : গল্পগ্রন্থ ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার আগে’

বিক্রিকে মূখ্য বিষয় ধরে আমি বই প্রকাশ করি না। আমি চাই না কোনো রকম পাঠপ্রস্তুতি নেই এমন পাঠকরা আমার বই পড়ে তাদের সময় নষ্ট করুক। আমি চাই আমার লেখাগুলো এমন কিছু মানুষ পড়বে যাদের অন্তত কিছুটা পাঠ প্রস্তুতি আছে। আমি বিশ্বাস করি একেক লেখকের লেখা পড়ার জন্য পাঠকের পাঠ প্রস্তুতি থাকতে হয়। কারণ স্বচ্ছ ইমেজের লেখা পড়ার প্রস্তুতি নিয়ে কখনো কেউ নীরিক্ষাধর্মী লেখা হজম করতে পারবে না। শুধু শুধু তার সময় নষ্ট করবে। এবং বলবে এ লেখকের লেখা কিচ্ছু হয় না। হাবিজাবি লেখে। আমি কোনো লেখককে অসম্মান করতে চাই না। কারণ আমি এটা বিশ্বাস করি যে, প্রত্যেকে তার মতো। সবাই নিজের মতো করে ইমেজ তৈরি চেষ্টা করে। 

কারো ইমেজ পাঠক কানেকশন তৈরি করতে পারে আবার কারোটা পারে না। তাই বলে আমরা সে লেখককে অস্বীকার করতে পারি না। কিংবা সাইট করে রাখতে পারি না। আর নীরিক্ষায় সব সময়ই একটা রিস্ক থাকে। তারপরও প্রতিটি লেখায় নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা থাকে আমার। কখনো আবার উপস্থাপন শৈলীর চেয়ে ভাবনার জায়গাটা বড় করে দেখার চেষ্টা করি। নিজের ভেতরের নিজেকে ভেঙে আবার নিজেকে তৈরি করি। কিন্তু মঙ্গল গ্রহ কিংবা শুক্র-শনির গল্প আমি বলতে পারি না। আমি নিজস্ব ডুব-সাঁতার কিংবা চিন্তার দৌড় নিয়ে ছুটতে পারি। যতদূর মন যায়। যতদূর চিন্তা যায়। তবে সেটা অবশ্যই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। আমি মানুষের জীবন আঁকতে চাই। কিংবা কেবলই আমার জীবন! যা দেখা যায় কিন্তু আবার দেখা যায় না। আবছা আলোর গহীনে।

কোনো লেখার গল্প কিংবা থিম আমাকে ধারাবাহিকভাবে পেইন না দিলে সেটা নিয়ে আমার বসা হয় না। মানে সেটা কলম থেকে কাগজে আসে না। যদিও এই বিশ্বায়নের সময় কাগজে কলমে খুব রাইটাররাই লিখেন। মাঝে মাঝে আমিও লেখার জন্য কম্পিউটারকেই বেছে নিই। তবে লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর গল্পের বইয়ে সংকলিত হওয়া দশটি গল্পই হাতে লেখা। কম্পোজ করার আগেই একাধিকবার সম্পাদনা করা হয়েছে। কিন্তু সম্পাদনার কি কোনো শেষ আছে? না নেই। তেমন শিল্পিরও তৃপ্তির শেষ নেই। তবে একটা সময় তো থাকতেই হয়। তারপরও প্রকাশকের কাছে পাণ্ডুলিপি দেয়ার আগে অন্তত এই আত্মবিশ্বাসটার জন্য আমি অপেক্ষা করি যে এই লেখা নিয়ে যেন আমি নিজের পাঠরূচির সামনে দাঁড়াতে পারে। অন্তত এইটুকু না হলে আমি কোনো লেখা প্রকাশকের টেবিলে পাঠাই না। আবার আমি এও চাই যে প্রকাশকের যদি সম্পাদনা পরিষদ থাকে তারা এটাকে সম্পাদনা করুক। যদিও বাংলাদেশে এরকম প্রকাশনীর সংখ্যা কম যাদের সম্পাদনা পরিষদ আছে। আবার অনেক লেখকরা চান না তাদের লেখা সম্পাদনা করা হোক। কিন্তু আমি চাই।

আমি মূলত কবিতার মানুষ। কিন্তু গদ্য লেখার তাড়না যখন থেকে নিজের উপর চাপ তৈরি করেছে তখন থেকেই মনে মনে খসড়া করেছি। কাগজে করেছি। লিখেছি। কেটেছি। ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেকা হওয়ার পর’ বইয়ের গল্পগুলো গত তিন বছরে লেখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়। বিভিন্ন স্থানে। যদিও প্রথম গল্প লিখেছিলাম ২০০৪/৫ সালের দিকে। কিছুদিন পর মনে হলো পুরো লেখায় আমার থেকে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় বেশি উপস্থিত। সে কারণে লেখাগুলো কোথাও প্রকাশ করিনি, সংরক্ষণও করিনি। 

এরপর আবার কয়েকটি গল্প লেখি ২০১৩ সালের দিকে। দু’টি গল্প পত্রিকায় ছাপাও হয়। গল্প পড়ে এক কবি বন্ধু বলেন , ‘কি লেখছো এসব! এগুলো ছোট কালে লিখছি .. ’ যদিও কেউ কেউ প্রশংসাও করলেন। কিন্তু আমার মনে খটকা লেগেই থাকলো। আবার বিরতি। আবার বিরতি ভেঙে ২০১৭ সালে গল্প লেখা শুরু করলাম। একটি- দুটি করে বেশ কিছু গল্প লেখা হলো। ছাপাও হলো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পত্র-পত্রিকায়। তারপর এই পান্ডুলিপি গুছানো। তারপরও ভরসা পাচ্ছিলাম না। ‘লাভন্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর’ পাণ্ডুলিপিটি কয়েকজন প্রকাশকের হাত ঘুরলো। তার পাণ্ডুলিপির উপর আস্থা রাখতে পারলেন না। 

অবশেষে ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’র আবু মোহাম্মদ ইউসুফ ভাইকে পাঠালাম। বললাম আপনার সম্পাদনা পর্ষদ মত দিলেই বইটি প্রকাশের ব্যাপারে উৎসহ পাবো। আসলে কেন জানি বিশ্বাস পাচ্ছিলাম না। একদিন সম্পাদনা পর্ষদ থেকে ছাপানোর জন্য সুপারিশ করা হলো। ছোট ভাই আল নোমান সুন্দর এই প্রচ্ছদটিও করে দিলো। বাকীটা যারা পড়বেন তাদের কাছ থেকে শুনবো।

আরও পড়ুন : মর্মন্তুদ জীবন-বেদনার গল্প ঘানি

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড