• রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির অব্যক্ত কথা

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের গল্প ‘তিন নাম্বার সেল’

  এ আর চৌধুরী রাহি

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:৪১
গল্প
প্রচ্ছদ : গল্পগ্রন্থ ‘তিন নাম্বার সেল’

‘তিন নাম্বার সেল’ একটি ভিন্নরকম গল্পগ্রন্থ। বইটি বিভিন্ন জনের গল্প দিয়ে সাজানো। এই গল্পগ্রন্থ থেকে অনেক ধরনের সাদ গ্রহণ করতে পারবেন। লিখালিখিটা আমার পেশা নয় আবার নেশাও নয় আমি লিখি শখের বসে। অবসর সময়ে টেবিলে কাগজের উপর কলমের আচর দেওয়াটা আমার এক ধরনের শখ। আমি অবসর সময় পেলেই লিখতে বসি। সাদা কাগজে কালো কালির আচরে গল্প বলতে চাই সবাইকে। লেখালেখিটা শখ থেকে হলেও আমি চাই আমাদের দেশের পরিবর্তন হোক। সমাজের পরিবর্তন হোক । বদলে যাক সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি । ‘তিন নাম্বার সেল’ গল্পগ্রন্থটিও আমি চেয়েছি পরিবর্তন। লিখেছি পরিবর্তনের গল্প। আমাদের সমাজের সকল অপকর্মের অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। গ্রন্থটি কথা বলবে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সড়ক দুর্ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ, নেশাগ্রস্ত সমাজের।

মরণ রোগ-

মনোয়ারের কাছে এখন কেউ যায়না, শরীরে পচন ধরেছে। ঘরে পচা দুর্গন্ধ। বিকট দুর্গন্ধ। মানুষ পচে গেলে কেমন দুর্গন্ধ হয় সেটা মনিকা ভাল জানে। দুর্গন্ধ নাকের ভিতর দিয়ে ঘ্যাত করে মাথায় চলে যায়। মনিকা নাকে গামছা বেধে ঘর পরিষ্কার করে, অন্য কেউ এক দণ্ড চোখের দেখাও দেখে না। একসময় শরীরের জোরে মনোয়ার অনেক কিছুই করেছে, কিন্তু আজ সে বড্ড একা। তার পাশে কেউ নেই। এমনকি তার সন্তানেরাও নেই। যাদের সে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে তারাও আজ তাকে দেখলে থু থু ছিটায়। ইদানিং ঘরের বাইরেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঘরের পাশ দিয়ে কেউ যাতায়াত করতে পারেনা। খাবারের টেবিলে বসলে গন্ধ নাকে আসে। এই দুর্গন্ধে খাওয়া খুব কষ্টসাধ্য। বমি চলে আসে। মনোয়ারের ছোট ছেলের নাম রুয়েল। মাঝে মাঝে মনোয়ার রুয়েল ও রুয়েল বলে চিৎকার করে। তখন রুয়েল এসে একবার চোখের দেখা দেখে যায়।

তদন্ত-

দিন কাটতে লাগলো আমি আমার কাজে মনোযোগ দিয়েছি। সাতদিন কেটে গেল কোন খবর নেই আমিও আর যাইনি থানায়। কনস্টেবলকে বলে এসেছিলাম কোন সুরাহা হলে আমাকে ফোন দিয়ে জানাইয়েন, কনস্টেবল ও আর কিছু জানায়নি।

সাতদিন চলে যাওয়ার পর অষ্টম দিনে স্থানীয় একটা পত্রিকায় হেডলাইন দেখে আমি রীতিমতো অবাক! ‘হবিগঞ্জের বেওয়ারিশ লাশের প্রধান আসামী গ্রেফতার’ নিউজটা দেখে আমি আর বেশিক্ষণ বসে থাকিনি তড়িঘড়ি করে থানায় চলে এলাম। থানায় এসেই দেখি প্রচুর ভিড়, সাংবাদিক আর প্রশাসনের লোকে গিজগিজ করছে। ভাবলাম এই জায়গায় আমি কিছু করতে পারবোনা আমার যা শুনার আর জানার আমাকে কনস্টেবল ভাইয়ের কাছ থেকেই জানতে হবে।

নেশাখোর-

মনে মনে ভাবছিলাম আজ আমার নিঃশ্বাসে মিশে থাকা হেরে যাওয়া কাহিনীর মূল চরিত্র তুমি , হে প্রাক্তন তোমার মতো কেউ কখনো আমায় এতোটা পাল্টে দেয়নি। আমি শুধু শুনেছি ইচ্ছে করছিল বলব কেমন আছো কিন্তু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।গত তিন বছর স্নেহলতার জন্ম দিন আমি কেক কেটেই পালন করেছি। এবার ও একটা কেক কাটবো কিন্তু একটা পার্থক্য থাকবে। অন্যবছর কেক কাটায় স্নেহলতা পাশে থাকতো আর এ বছর থাকবে গাজা। তোমায় চেয়েছিলাম নিজের জন্য, তোমায় ভুলেও থাকি নিজেরই জন্য দেখো কতো স্বার্থপর আমি।

উদয়ন এক্সপ্রেস-

সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতের অন্ধকারে ঢেকে গেছে চারিপাশ। সোডিয়াম লাইটের আলোতে আলোকিত শহরের অলিগলি। কতো চিৎকার চেঁচামেচি, জন মানুষের হাটা-চলা সন্ধ্যার পর বেড়ে যায়। সবাই যারা যার কাজ ঘুচিয়ে বাড়ি চলে আসে। রাত বাড়ে। পাগলেরা রাস্তার পাশে শুয়ে থাকে। কিছু পাগল বসে বসে ঝিমায়। সোডিয়াম লাইটের আলোর দিকে তাকিয়ে কথা বলে। কি কথা বলে কেউ বুঝে না। পাগলেরা সবসময় একা একাই কথা বলে, পাগলের কথা কেউ শুনে না।

এক্সিডেন্ট-

চারদিক কেমন জানি অন্ধকার হয়ে আসছে। মাথার ভিতর কেমন একটা ঝিঝি পোকার মতো শব্দ হচ্ছে। নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে দেহের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। নিস্তেজ দেহ নিয়ে আমিনুল সাহেব ছুটছেন হাসপাতালের দিকে। এই রাস্তা যেন কোন ভাবেই শেষ হচ্ছেনা।

পাপের বিচার-

ভর দুপুরে হঠাৎ করেই টিনের ঘর থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসছে। ব্যথায় কাতরাচ্ছে ময়না। ব্যথার তীব্রতায় চোখ মুখ কুঁচকে গেছে। । বট গাছের পাখির শব্দ আর ময়নার চিৎকারের শব্দে চর কেঁপে উঠেছে। তবুও রমিজ থামছে না।

আরও পড়ুন- পথে পথে আলো বিলিয়ে দেওয়াদের গল্প ‘আলোর ফেরিওয়ালা’

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড