• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দরজার এপাশে ওপাশে হুমায়ূন

  রোকেয়া আশা

১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৬
ছবি
ছবি : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ

সাত বছরের শিশুর তখন বয়েসটা বোধ করি টেলিভিশনে বিটিভির যুগে উডি উডপেকারের জন্য অপেক্ষা আর বাইরের পড়া পড়তে গেলে চাচা চৌধুরীর কমিক বইই হওয়া উচিৎ ছিলো। ঘটনাক্রমে আমার বেলা একটু ব্যতিক্রম হয়ে গেলো।

শুক্রবারের সেই এক ছুটির দিনে বাড়িওয়ালী আন্টির ছোট মেয়ের ঘরে উঁকি দিয়ে খুঁজে পাই কালো মলাটের একটা বই। আপুর বয়েস তখন পনেরো কি ষোল। ছটফটে কিশোরী।

যেই বইটা আমি খুঁজে পেয়েছিলাম তখন, সেই বইয়ের নাম ‘কালো জাদুকর’। তা, জাদুকরের সেই বইয়ের লেখকের নাম বোধ করি বলতে হবে না। সবাই জানেনই। প্রিয় হুমায়ূন। সেই শুরু, এক বসায় বইটা শেষ করতে জাদুকরের জন্য কাঁদা। আহা, বেচারা টগর! আহা, অন্ধ গাছটা! অন্ধ সেই গাছটার জন্য প্রগাঢ় মায়া আমাকে ঘিরে রইলো এরপর থেকে। 

বহুবার কাঁদালেন তিনি আমায়। সেই সেবার যখন মাঝ পুকুরে দিলুর নিথর শরীরটা ভাসছিলো, তখন কেঁদেছি। অভিমানী কুসুম বিষের শিশিটা যখন গলায় ঢেলে নিলো- কিংবা যখন জনমদুঃখী অপালা বাবার সোনারিলের শিশির সবকটা ট্যাবলেট গিলে ফেললো; তখন কেঁদেছি। কাঁদিনি কখন? 

বাকের ভাইয়ের ফাঁসি, মন্টুর ফাঁসি, ছোট্ট টুনির মৃত্যু - কেঁদেছি বহুবার। কত শতবার নীল শাড়ি গায়ে জড়িয়ে রূপা কিংবা সবুজ শাড়ি পরে নিশাত হবার চেষ্টা! আহা মায়া! আহা!

সাত বছরের শিশু কন্যা কিশোরী হলো একসময়। আজ সে একুশ বছরের তরুণী। অথচ জাদুকরের মায়াটা আজও কাটলো না। মেয়েটির খুব গহীনে একটা দরজা আছে। সে দরজার এপাশেও হুমায়ূন, ওপাশেও।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড