• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অনুবাদ কবিতা

পাবলো নেরুদার তিনটি ভালোবাসার সনেট

  অনুবাদক : আনন্দময়ী মজুমদার

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩১
কবিতা
ছবি : প্রতীকী


বলেছিলাম, সঙ্গে এসো। কেউ জানত না ঠিক কোথায়,
কেমন করে, আমার বেদনা ধুকপুক করে উঠেছিলো তখন
আমার জন্য কোনো সুমধুর কার্নেশন বা নদীর বুক চিরে-ওঠা দেহাতি সংগীত
ছিলো না; শুধু ছিল একটি অনাবৃত ক্ষত, ভালোবাসার উপহার।

বলেছিলাম, সঙ্গে এসো, যেন আমি বাঁচব না আর,
কিন্তু কেউ আমার মুখের ভিতর নিঃশব্দ জ্যোৎস্নার রক্তপাত
দেখেনি তখন। ভালোবাসা, তারার আলোয় যে কাঁটা থাকে,
সে যন্ত্রণা হয়তো আমরা এখন ভুলতে পারি।

তাই তোমার গলায় ফের ‘সঙ্গে এসো’ শুনে আমার মনে হয়
তোমার তাবৎ জমে-থাকা শোক, ভালোবাসা, উষ্ণ প্রস্রবণ,
ফুঁসে-ওঠা মদের পুঞ্জিভূত ক্রোধ, সব যেন বেরিয়ে পড়েছে।

আর আমার মুকের ভিতর তখন আবার আমি ফিরে পাই
সেই আগুন, সেই রক্তপাতিত ফুল
সেই কঠিন পাথর, দগদগে স্বাদ।



তোমার চোখে যদি চাঁদের রং থাকত না লেগে
কাদা-মাখা দিন, শ্রমের জলক, লালচে আগুন,
এইসব আঁচ, আভা না থাকত যদি, যদি এতটা জড়ানো থেকেও
না হতে তুমি বাতাসের মতো ফুরফুরে, শিল্পময়,

যদি না হতে হলুদাভ বাদামি পাথর, হরিৎ লহমার মতন
যে লহমায় হেমন্ত আঙুরের লতা বেয়ে ওঠে;
না হতে যদি সুগন্ধি চাঁদের আঙ্গুলে ময়ান দেওয়া সেই অখণ্ড রুটি
তোমার সাদা সুরভিত গুঁড়ো না ছড়াতে আকাশ গায়,

তাহলে হয়তো, প্রিয়তমা, তোমাকে ভালোবাসতাম না
ততটা, যতটা বাসা যায়। কিন্তু যে মুহূর্তে
তোমাকে ছুঁয়ে থাকি, ধরে থাকি তোমায়
যে মুহূর্তে যা কিছু আছে, সময়ের করতলে, তা-ই যেন পাই:

বালুকণা, মুহূর্ত-স্পন্দন, বৃষ্টি-ঝরানো বৃক্ষরাজি,
সবকিছু জীবন্ত, আমিও জীবিত তাই: এসব অনুভব করি, নিষ্কম্প থেকে,
তোমার জীবন আমাকে জীবন শেখায়।



এই তো সেই ঘর, সেই সমুদ্র, সেই উড্ডীন পতাকা,
দিঘল দেয়াল ধরে অনেক হেঁটেও খুঁজে পাইনি যার,
সিংহদুয়ার, শুনতে পাইনি আমাদের
না- থাকার শূণ্যতাকে- যেন ও মৃত।

অবশেষে বাড়িটি তার নৈঃশব্দ্যের পাল্লা খুলে দেয়
আমরা ভিতরে আসি, এলোমেলো পরিত্যক্ত সামগ্রীর
ওপর পা, মেঝেতে মৃত ইঁদুর, শূন্যময় প্রস্থানের
বিদায়ী চিহ্ন, নলিতে জলের ব্যর্থ কান্না জমে আছে।

বাড়িটা কেঁদেছে দিন-রাত, মাকড়সার জালে জবুথুবু,
আধখোলা, মর্মহত, পোড়া-খাওয়া,
কালমিটে লেগে আছে চোখ।

আমরা এসেছি জেনে জীবন ফিরে পেয়েছে সে, নিমেষে
অথচ, আমাদের স্থায়িত্বের পরও হতচকিত বাড়িটা
পারে না ঠাওরাতে, কীভাবে হাসতে হয়, কীভাবে ফোটাতে হয় ফুল।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড