• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নাগরিক কবি শহীদ কাদরীর তৃতীয় প্রয়াণ দিবস আজ

  সাহিত্য ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৫০
ছবি
ছবি : নাগরিক কবি শহীদ কাদরী

‘ভয় নেই
আমি এমন
ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
এবং স্যালুট করবে
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।’

পাঠকের আড়ালে থেকে নেপথ্য ভূমিতে বাক্যচর্চা করেছেন এমন একজন কবি শহীদ কাদরী। তার কবিসত্তা সেই নেপথ্যভূমিতেই পক্বতা লাভ করেছে। তাকে বলা হয় আধুনিক নগর ভাবনার কবি। তার কবিতার শরীর জুড়ে শহরের ব্যস্ত জীবনের ছাপ সুস্পষ্ট। কবির জন্ম, সোনালি কৈশর, যৌবনের সমস্ত আয়োজনই ছিল শহরকেন্দ্রিক। আর সে কারণেই হয়তো তার কবিতায় শহর এসেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে, স্বাভাবিক নিয়মে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৬৭ সালে শহীদ কাদরীর প্রথম প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘উত্তরাধিকার’। এই সংকলন প্রকাশিত হওয়ার পর সেই সময়ের সকল সমালোচকই একমত হয়েছিলেন যে, কাদরীর কবিতা পরিণতি পেয়েছে তাঁর প্রথম গ্রন্থেই। কবি তাঁর কাব্যচর্চার পথচলায় অনেকটা প্রথাগতের উল্টো দিকের যাত্রী হিসেবেই চলেছেন বলা যায়। প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর লেখায় প্রকাশ করেছেন গাম্ভীর্যতার ভাব। লেখায় কিছুটা লঘু ভাব এনেছেন তাঁর পরের গ্রন্থগুলোয়। 

কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ তার ব্যাপারে বলেছিলেন, কাদরীর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের আগেই কবি হিসেবে তিনি প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন অনেক কম, আর জনপ্রিয় হয়েছেন অনেক বেশি। 

তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ নামক গ্রন্থ। এর প্রায় ৩০ বছর পরে ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ গ্রন্থটি। 

বাংলা সাহিত্যে প্রকাশিত সংখ্যার একটা প্রচলিত ব্যাপার থাকলেও শহীদ কাদরী বিশ্বাস করতেন, একজন লেখকের প্রধান কথাগুলো বলার জন্যে ৫০-৬০টি গ্রন্থের প্রয়োজন হয় না। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘সাধারণত দেখা যায় কি, লেখকেরা তাদের প্রধান লেখাগুলোর পর সব পুনরাবৃত্তি হয়ে যায়।’ এ কথা সত্য যে, শহীদ কাদরীর কবিতায় আমরা পুনরাবৃত্তি পাই না। এক গ্রন্থ থেকে আরেক গ্রন্থে থেকেছে নতুনত্ব। প্রতি ক্ষেত্রেই বাঁকবদল ঘটেছে। 

কবির কবিতার সংখ্যা, গ্রন্থের সংখ্যা আর এক গ্রন্থ থেকে অন্য গ্রন্থের মধ্যে ব্যবধান আমাদের শ্রদ্ধা জাগিয়ে তোলে কবির প্রতি, সেই সঙ্গে কবি আরও কেন তাঁর সৃজনশীলতা দেখালেন না সে নিয়ে আফসোসও হয়। অবশ্য একজন কবির সৃষ্টির সংখ্যা দিয়ে তার কৃতিত্ব বিচার করা যায় না, তার সৃষ্টিটাই আসল। বাংলা কাব্য-অঙ্গনকে চমকে দিতে নতুন বর্ষার প্রকৃতিকে কবি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালি পাঠকের কাছে। ‘সমকাল’ পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশ পেলে অগ্রজরাও থমকে গিয়েছিলেন। শহীদ কাদরী স্থান পেলেন ‘নাগরিক কবি’ নামে। 

কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। দশ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি প্রবাসজীবন শুরু করেন। চলে যান জার্মানিতে। সেখানে বেশ কয়েক বছর থাকার পর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছরসহ জীবনের প্রায় তিন দশক তিনি প্রবাসে বসবাস করেন। প্রবাস জীবনেও তিনি লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। 

তিনি ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। 

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড