• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৫তম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  রিফাত হোসেন

১৬ আগস্ট ২০১৯, ১১:১৮
উপন্যাস
ছবি : প্রতীকী

বাড়ির কাছাকাছি চলে এলো সবাই। বাস থেকে নেমে শুভ বলল, ‘তোরা বাড়িতে যা। আমি রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনছি।’

সুমাইয়া ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আমি রান্না করে নিতে পারব। কোনো সমস্যা হবে না।’
- আমি জানি তুমি রান্না করতে পারবে। কিন্তু সেই সময়টা এখন নেই। তোমরা বাড়িতে গিয়ে রেস্ট। আমি খাবার নিয়ে আসছি।

- আচ্ছা।

শুভ খাবার কিনতে গেল। ইরা বলল, ‘তাহলে আমি বাড়িতে চলে যাই এখন।’

- এখন যেতে হবে না। আমাদের সাথে সকালের খাবার খেয়ে জ্যোতির সাথে যাবে।

- ওকে।

আদিত্য চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে। সুমাইয়া আদিত্যর দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, ‘তা আদিত্য ভাইয়া। বারবার ঠোঁট মুছছেন যে। মিষ্টিটা কী একটু বেশি হয়ে গেছে?’

আদিত্য বিস্ময় নিয়ে তাকাল সুমাইয়ার দিকে। সুমাইয়া হাসছে। আদিত্য কিছুই বুঝতে পারছে না। মুখে কিছু না বলে হাঁটতে লাগল। সুমাইয়া আবার বলল, ‘এতবার করে ঠোঁট মুছছেন কেন?’

আদিত্য করুণ দৃষ্টিতে তাকালো জ্যোতির দিকে। জ্যোতিও হাসছে। 

আদিত্য বলল, ‘মনে হচ্ছে আমার ঠোঁটে কিছু একটা লেগে আছে। হাত মুছছি, তবুও মনে হচ্ছে কিছু লেগে আছে।’

পাশ থেকে জ্যোতি হাসতে হাসতে বলল, ‘স্পেশাল মিষ্টি খেয়েছেন তো, তাই মিষ্টির আবেশটা এত সহজে যাবে না।’

আদিত্য চমকালো। সুমাইয়া আর জ্যোতি অনবরত হাসছে। আর ইরা রাগে কটমট করছে৷

কথা বলতে বলতে বাড়িতে পৌঁছে গেল ওরা। সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় আদিত্য জ্যোতির হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে আড়ালে নিয়ে এলো। ইরা আর সুমাইয়া উপরে চলে গেল। 
আদিত্য বলল, ‘ভাবী তখন হাসছিল কেন? আর মিষ্টি খাওয়ার কথাটা কেন বলল?’

- হয়তো ভাবী কিছু বুঝতে পেরেছে, তাই ওই কথা বলেছে।

আদিত্য কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বলল, ‘যদি শুভ ভাইকে বলে দেয়।’

- আমাকে না জিজ্ঞেস করে কাউকেই কিছু বলবে না ভাবী। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে চলাফেরা করে আসছি৷ এইটুকু বিশ্বাস তার প্রতি আমার আছে।

আদিত্যর মন থেকে তবুও ভয় কাটল না। শুভ ভাই জানতে পারলে ওকে ভুল বুঝবে৷ তাছাড়া তার আশ্রয়ে থেকে তার সাথে বেইমানী করতে পারবে না আদিত্য। ও মনে মনে ঠিক করল, যতদিন না এখান থেকে চলে যাবে। ততদিনে জ্যোতির থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে।

জ্যোতি আর আদিত্যও উপরে গেল। জ্যোতি শুভর ঘরে গেল। আর আদিত্য নিজের ঘরে গেল। ঘরের দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবিটা খুলতে লাগল আদিত্য। পাঞ্জাবিটা শরীর থেকে খোলার পর আদিত্য আয়নার দিকে তাকাল। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে হাতটা আবার ঠোঁটের কাছে চলে গেল। কাল রাতে গোলাপের পাপড়ির মতো দু'টো ঠোঁট ওর এই ঠোঁট স্পর্শ করেছিল। কথাটা তাবতেই শিউরে উঠছে আদিত্য। ঠোঁটে কিছু লেগে নেই অবশ্য। তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে জ্যোতির মিষ্টি ঠোঁট দু’টোর আবেশ এখনো লেগে আছে। অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করছে আদিত্যর মনে। ইচ্ছে করছে আবারও সেই ঠোঁটের স্পর্শ পেতে। 

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এইসব ভাবছিলা আদিত্য। হঠাৎ থমকে গিয়ে বলল, ‘পাগলের পাগলামি দেখে কী এখন নিজেও পাগল হয়ে গেলাম? এইসব কী উদ্ভট কথা ভাবছি আমি।’

ওয়াশরুমে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শরীর ভেজালো। ঘরে এসে কমলা রঙের টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরে ড্রয়িংরুমে এলো। শুভ ততক্ষণে খাবার নিয়ে চলে এসেছে। সবাই একসাথে খাবার খেয়ে নিলো। জ্যোতি বলল, ‘ভাইয়া এখন আমরা যাই। আর তোরা সাবধানে যাস। রিসোর্টে পৌঁছে আমাকে অবশ্যই ফোন দিবি।’

- আচ্ছা ফোন দিবো। তুই নিজের যত্ন নিস।

- ঠিক আছে ভাইয়া।

- আর আদিত্য, তোকে তো এই কয়দিনে আমি অনেকগুলো রান্না শিখিয়ে দিয়েছি। তাই বলছি, বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরেই রান্না করে খেয়ে নিবি। তাছাড়া কোনো সমস্যা হলে জ্যোতিকে জানাবি।

আদিত্য বলল, ‘ঠিক আছে ভাই।’

শুভ মানিব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে আদিত্যর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘এই টাকাগুলো রাখ এখন। আমি ঢাকায় এসে তোর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবো।’

- আদিবা আমাকে ১০০০ টাকা দিয়েছিল। প্রায় ৫০০ টাকার মতো এখনো আছে। আমি ফোন ব্যবহার করি না। কোনো নেশা করি না। আর বাইরের খাবার ও খাই না তেমন। কোথাও যাইও না। সুতরাং আমার এত টাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তুমি ভাবীকে নিয়ে একটা জায়গায় যাবে। টাকাগুলো তোমার কাছেই রেখে দাও।

- তবুও দরকার হতে পারে তোর।

আদিত্য হাসি দিয়ে বলল, ‘সেই কবে থেকে তোমার এখানে আছি। এই কয়দিনে একটা টাকাও খরচ হয়নি আমার। তোমাদের গ্রামে গিয়ে চা খেতে যা লেগেছে আরকি। এখানে তো বাড়িতেই চা আছে। তাই বলছি এত টাকার প্রয়োজন নেই আমার।’

শুভ ধমকের স্বরে বলল, ‘এত কথা না বলে টাকাগুলো রাখ। সাতটা দিন তুই ঘরের মধ্যে বসে থাকবি নাকি? তোর এই সময়টা আমিও পেরিয়ে এসেছি। এভাবে জীবন চলবে না। তোর ফ্রেন্ডরা আছে। তাছাড়া জ্যোতি আর ইরা আছে। ওদের সাথে ঘুরাঘুরি করবি ভালো লাগবে।’

শুভ কিছু বলল না। টাকাগুলো নিলো। জ্যোতি আর ইরা চলে গেল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে শুভ আর সুমাইয়া বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। আদিত্য দরজাটা আটকে দিয়ে নিজের ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

শুভ আর সুমাইয়া বাড়ি কাছ থেকে একটা রিকশায় ওঠে অফিসের দিকে যেতে লাগল। শুভর বাসা থেকে অফিস খুব একটা দূরে নয়, তাই অল্পকিছু সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেল। অফিসের সামনে নেমে রিকশা ভাড়া দিতে দিতে শুভ বলল, ‘স্যারের রুমে গিয়ে কাগজপত্র সব কালেক্ট করতে হবে৷ অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। স্যার নিশ্চয়ই অনেক কথা শোনাবেন।’

- হুম।

রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে দু'জনে হাঁটতে লাগল। গেইটের কাছে আসতেই শুভ দেখল দারোয়ান লোকটি ওদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। লোকটাকে খুব পছন্দ শুভর। অনেক মজার একজন মানুষ সে। শুভ তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘হাসছেন কেন কাকা?’

- এই হাসিটা হলো আনন্দের হাসি। আপনাদের বিবাহ জীবন সুখের হোক।

- অনেক ধন্যবাদ কাকা।

- কিন্তু স্যার, বিয়া তো করলেন। এবার প্রজেক্টের কাজ শেষ করে এসে জমিয়ে একটা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন। অনেকদিন ধরে কোনো বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা হয় না। আপনারা হলো এই অফিসের সম্মানিত ব্যক্তি। আপনাদের বিয়েতে তো আরো জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া করব।

শুভ আর সুমাইয়া হাসতে লাগল। শুভ বলল, ‘জ্বি কাকা। দোয়া করবেন আমাদের জন্য। আপনাকে সবার আগে দাওয়াত দিবো আমি। আপনি আমার পছন্দের একজন মানুষ। আপনাকে দেখে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি এই এক জীবনে।’

শুভর কথা শুনে লোকটা হো হো করে হাসতে লাগল। শুভ আর সুমাইয়া চলে এলো উপরের দিকে। নিজেদের কাজের জায়গার দিকে খেয়াল করে শুভ বলল, ‘কী ব্যাপার? আমাদের কলিগরা সব গেল কোথায়?’

সুমাইয়া বলল, ‘নিচে তো দেখলাম সব স্টাফ'রা কাজ করছে৷ কিন্তু এখানকার লোকগুলো কোথায় গেল?’

কথা বলতে বলতে বসের রুমের কাছে চলে এলো ওরা। অনুমতি নিয়ে ভিতরে এলো শুভ আর জ্যোতি। বসের চেয়ারে বসে আছে বসের ছেলে। লোকটা শুভর সমবয়সী। অসাধারণ একজন মানুষ সে৷ শুভর সাথে প্রায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উনার। বস ব্যস্ত থাকলে প্রায়ই বসের জায়গায় সে বসে। লোকটার পরনে গাড়ো নীল রঙের শার্ট। জেল দেওয়া চুলগুলো সবদিক ঠিক থাকলেও মাথার মাঝের কিছু বড় চুল ফ্যানের বাতাসে খুব উড়ছে। শুভকে দেখে লোকটা বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। চেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে এসে শুভকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘অভিনন্দন শুভ সাহেব। আর অভিনন্দন ভাবী সাহেবা।’

বসের মুখে ভাবী ডাকটা শুনে বেশ লজ্জা পেলেও তা প্রকাশ করল না সুমাইয়া। দু’জনেই তাকে ধন্যবাদ জানাল। শুভ আবার বলল, ‘আমি সত্যিই অবাক। এতদিন পর আপনি অফিসে এসেছেন।’

লোকটা হেসে বলল, ‘হ্যাঁ। বাবা অসুস্থ, তাই আসলাম। এছাড়াও আরেকটা কারণ আছে অবশ্য।’

- আমার জন্য এটা বেশ বড় সারপ্রাইজ গিফট।

- আরো একটা সারপ্রাইজ গিফট অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।

শুভ কিছু বলার আগেই হঠাৎ ধুমধাম শব্দ হতে লাগল। আর পিছনের দিক থেকে অনেকগুলো মানুষ মানুষ ভিতরে এলো। হাততালি আর অভিনন্দন বলছে সবাই।  অবাক দৃষ্টিতে শুভ তাকিয়ে রইল সবার দিকে। সামনে ওদের সব কলিগ দাঁড়িয়ে আছে। সবার মুখে একরাশ হাসি। এতগুলো মানুষের মুখে ভাবী ডাক শুনে লজ্জায় সুমাইয়া কিছুই বলতে পারছে না। তবে বেশ আনন্দ হচ্ছে। একদিনের মধ্যেই নতুন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে গেল। আগে যারা সুমাইয়া বলে ডাকতো, এখন তারা ভাবী বলে ডাকছে। সবার দৃষ্টিতে আছে সম্মানজনক ভাব। 

একে একে সবাই বাইরে চলে গেল। লোকটা শুভর হাতে একটা চাবি দিয়ে বলল, ‘এই গাড়িটা নিয়ে যান। আমার পক্ষ্য থেকে আগামী এক সপ্তাহে গাড়িটা আপনাদের। অবশ্য অফিস থেকে একটা গাড়ি দিয়েছে আপনাদের। তবুও আপনি বাইরে রাখা নতুন গাড়িটা নিয়ে যান। এই গাড়িটা ভালো। নতুন এক জায়গায় যাচ্ছেন। কাজের ফাকে হানিমুনটাও হয়ে যাবে। অফিসের নামে সিল মারা পুরোনো গাড়ি নিয়ে গেলে কেমন দেখায় বলেন। তাই ভাবলাম নতুনটা নিয়ে যান। ওটায় এখনো সিল মারা হয়নি।’

- ড্রাইভার লাগবে তো?

- আপনি ড্রাইভ করে যাবেন।

শুভ হাসি দিয়ে বলল, ‘নতুন বিয়ে করলাম৷ এখন বউয়ের সাথে রোমাঞ্চ না করে আমি ড্রাইভ করব।’

সুমাইয়া রাগী দৃষ্টিতে তাকালো শুভর দিকে। 

লোকটা হাসতে হাসতে বলল, ‘ঠিক আছে। আমি একজন অন্ধ ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

- অন্ধ ড্রাইভার কেন?

- যাতে পিছনের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে না পায়।

কথাটা বলেই তিনি হাসতে লাগল। শুভও হাসতে লাগল। 

- আপনারা কাগজপত্র নিয়ে নিচে যান। আমি ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

শুভ আর সুমাইয়া কাগজপত্র নিয়ে নিচে এলো। কিছুক্ষণ পর ড্রাইভার-ও চলে এলো। গাড়িতে ওঠে শুভ ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে বলল, ‘সামনের দিকে তাকিয়ে ভালো করে ড্রাইভ করবা। বুঝেছো?’

ড্রাইভার বলল, ‘স্যার, আমি তো অন্ধ। সামনে ছাড়া আর কোনোদিকে কিছুই দেখি না।’

শব্দ করে হাসল শুভ আর সুমাইয়া। সাথে ড্রাইভার ও। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিলো। শুভ সুমাইয়াকে বলল, ‘বসের ছেলেটা বেশ মজার একজন মানুষ  তাই না? এতবড় লোকের ছেলে হয়েও কোনো অহংকার নেই মনে। সবার সাথেই বেশ গুছিয়ে আর সম্মানের সাথে কথা বলে।’

- হ্যাঁ।

চট্রগ্রাম পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে গেছে। জ্যোতি আর আদিত্যকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে ব্যাপারটা। সন্ধ্যার দিকে ওরা রিসোর্টে উঠল। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে কিছুক্ষণ রেস্ট নিচ্ছিল। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে অচেনা নম্বর। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশের মানুষটা বলল, ‘স্যার আপনারা যেই কোম্পানির সাথে কাজ করতে এসেছেন, আমি সেই কোম্পানির ম্যানেজার৷ আপনার বস এই নম্বর দিয়ে বলল কল করতে।’

- জ্বি বুঝতে পেরেছি। বলুন আপনি।

- স্যার আমাদের বস আপনার সাথে দেখা করতে চায়। কালকে থেকে তো কাজ শুরু। তাই সে বলল পরিচয়টা আজকেই হয়ে যাক।

- আমরা তো একটু আগে রিসোর্টে এলাম৷ আপনারা বরং রিসোর্টে চলে আসুন। ডিনারটা সবাই একসাথ করব। তখন পরিচয়ও হয়ে যাবে।

- ওকে স্যার। আমি আর স্যার চলে এসবো ডিনারের সময়ে।

- ঠিক আছে।

ফোন কেটে দিলো শুভ। সুমাইয়া জামা-কাপড় গোছাচ্ছিল। শুভ ওর হাত ধরে দিয়ে বিছানার নিয়ে আসল। কিছুটা চমকে উঠলেও নিজেকে সামলে নিলো। সুমাইয়াকে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে আদিত্য বলল, ‘কেমন লাগছে রিসোর্টটা?’

সুমাইয়া শুভর বুকে চুমু দিলো। তারপর মাথাটা বুকের উপর রেখে বলল, ‘খুব সুন্দর রিসোর্টটা।’

- খুব সুন্দরী।

সুমাইয়া বুক থেকে মাথাটা তুলে  শুভর চোখের দিকে তাকাল। তারপর বলল, ‘কে সুন্দরী?’

সুমাইয়ার ঠোঁটে চুমু দিয়ে দিলো শুভ। লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো সুমাইয়া। শুভ বলল, ‘তুমি সুন্দরী।’
 
বুক থেকে ওঠে যেতে চাইলো সুমাইয়া। শুভ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ওঠে যাচ্ছো কেন?’

মুচকি হাসি দিয়ে সুমাইয়া বলল, ‘রেডি হয়ে নাও। একটু পরেই উনারা চলে আসবে।’

- আরো কিছুক্ষণ শুয়ে থাকো তো। এখন উঠতে পারব না।

সুমাইয়া হাসি দিয়ে আবার শুভর বুকে শুয়ে পড়ল। 

(চলবে...)
আরো পড়ুন ‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৪তম পর্ব -
ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড