• রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘তোমার শহর’ উপন্যাসের পঞ্চম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : তোমার শহর

  রোকেয়া আশা ১৯ মে ২০১৯, ১২:০৭

গল্প
ছবি : প্রতীকী

- ত্যাগ করার মত হেয়ার এন্ড স্কিন টাইপ কাজ আমি করি না ভাই। 
আমার কথা শুনে নিবিড় ভাই মুচকি একটু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হেয়ার এন্ড স্কিনটা কি তুনু?’ 
- বালছাল। 
আমার উত্তরটা শুনে উনি বোধহয় ছোটখাটো একটা শক পেয়েছেন। এই দুই বছরে উনি কখনো আমার মুখে কোনধরনের স্ল্যাং শোনেন নি। অবশ্য আমি এসব বলিও না। কিন্তু আজকে বললাম ইচ্ছা করেই। এই শকের জন্য উনি আমাকে ট্র‍্যাপে ফেলার কথা ভুলে যাবেন। 
আমি হাসি উনার দিকে তাকিয়ে। তারপর ব্যাখ্যা করি, ‘হেয়ার মানে চুল; চুলের হিন্দি বাল। আর স্কিন মানে চামড়া বা ছাল। তাহলে হেয়ার এন্ড স্কিন মানে কি দাঁড়ায়? বালছালই তো, না?’ 
নিবিড় ভাই ভ্রু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। আমরা কেউই হাঁটার গতি কমাই না। বিশমাইলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আমাদের আর কোন কথা হয় না। একাবারে খাবারের হোটেলে ঢুকে উনার গলাটা আবার শুনতে পেলাম। 
- তুই কি খাবি? 
- এইখানে অনেক মেনু তো নাই ভাই। 
উনি আবারও ভ্রু কুচকে ফেলেন। হয়তো মেলাতে পারছেন না। আমি মেলাতে দিচ্ছি না। 
- নিবিড় ভাই শোনেন, আমি আসলে আজকে ঘুমটুম ত্যাগ করি নাই। আমি তখন জেগেই ছিলাম। আসলে কালকে রাতে হলে ঢুকেছিই একটায়। আমার আবার সাড়ে এগারোটার মধ্যে না ঘুমালে পরে ঘুমাতে সমস্যা হয়। 
- তুই সাড়ে নয়টায় টিএসসি থেকে চলে গিয়েছিলি কাল রাতে। এতরাত পর্যন্ত তাহলে বাইরে কি করছিলি? 
- হেঁটেছি। ঘুরেছি। চাঁদ দেখেছি। 
- একা? 
- না। তন্ময় ভাইয়া ছিলো সাথে।
উনি সাথে সাথেই ‘ও’ বলে চুপ হয়ে গেলেন। 
মানুষের মধ্যে পৈশাচিক আনন্দের ব্যাপারটা অনেকটা আত্মবিধ্বংসী ধরনের। এই যে নিবিড় ভাইকে জেলাস করার জন্য আমি কথাগুলো ঘুরিয়ে এভাবে বললাম, এই কাজটা করে আমার মধ্যে একটা পৈশাচিক আনন্দ আমি টের পাচ্ছি। প্রেমে পড়লে সব মেয়েই এমন পৈশাচিক হয়ে যায়। কিন্তু একইসাথে এও বুঝতে পারছি, আমার এই কাজটা আত্মবিধ্বংসী ফলও আনতে পারে। হতেও পারে আমার আজকের আচরণের জন্য উনি আমার থেকে আরও দূরে সরে গেলেন। অসম্ভব কিছু না। 

নাস্তা সেরে হলে ফিরেই আমি আবার একটা ঘুম দিলাম। যত যাই হোক, আমি ঘুমপ্রেমী মানুষ। আমার যখন ঘুম ভাঙলো, তখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। এতক্ষণ ঘুমিয়েছি? 
ভুলটা ভাঙলো ফোনের স্ক্রিনে সময়টা দেখে। দুপুর হয়েছে মাত্র। বাইরে মেঘ। আমাদের ছোট শহরের সাতশো একরকে দক্ষিণ থেকে উড়ে আসা মেঘ অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছে। দরজায় নক করার শব্দ। উঠতে ইচ্ছে করছেনা। কিন্তু তবুও উঠলাম। উঠে দরজা খুলতেই দেখি জেরিন।
আমি ঘুমে ঢুলতে ঢুলতেই ওকে বললাম, ‘ভেতরে আয়।’ 
ও আমাকে পাত্তা না দিয়েই আমার বিছানার ওপর হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো। আমি দরজাটা আর লাগালাম না। 
- এ তুনু, জামাকাপড় পাল্টা। রেডি হ। 
- অসম্ভব। আমার ঘুমানো লাগবে। পৃথিবীর কোন শক্তি এখন আমাকে বের করতে পারবে না। 
- আমি পারবো। রেডি হ, নাইলে দিলাম খামচি! 
কথা বলতে বলতেই উঠে বসে ও। আমি ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলি। ও যখন বলছে তখন সত্যি সত্যিই খামচে দিবে। এর আগেও বেশ কয়েকবার ওর লম্বা লম্বা নখ দিয়ে আমাকে খামচে দিয়েছে। প্রতিবারই দাগ শুকাতে দেড় সপ্তাহ করে লেগেছে। 
আমার চেয়ারের উপর জামাকাপড়ের ভয়াবহ একটা স্তূপ জমে থাকে। সেখান থেকে নীল জিন্সটা হাতে নিতেই জেরিনের কড়া আপত্তি, ‘এইসব বালছাল পরিস না এখন। সাদা শাড়িটা বের করে পর।’
আমি এতক্ষণে খেয়াল করি, জেরিন আজকে শাড়ি পরে এসেছে। গোলাপি জর্জেট!
- শাড়ি কেন পরবো? 
- যাতে আমার সাথে তোকে বেমানান না লাগে। তোর যা জামাকাপড়ের সেন্স, ইয়াক! তোরে নিয়া হাঁটতে গেলেও আমার প্রেস্টিজে লাগে। ক্ষ্যাত মাইয়া! 

আমি মুখ টিপে হাসি ওর কথার তোড় দেখে। বরাবরই এমন। আমার জীবনে একটা ভীষণ জলপ্রপাতের মতন, জেরিন।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড