• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘মেঘভোর’ উপন্যাসের চতুর্দশ পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : মেঘভোর

  রোকেয়া আশা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৪

ছবি
ছবি : প্রতীকী

মরা বাড়ি, চুলা ধরানো নাকি বারণ এখানে। বাসায় রান্না হয়নি আজ। আমাদের আত্মীয় বাড়িগুলো বেশ দূরে, কাছাকাছি কেউ থাকে না। যদিও এরমধ্যেই প্রায় সবাই চলে এসেছে। দাদীকে দেখতে। 

আমাদের জন্য আমাদের পাশের বাড়ি দুটো থেকে খাবার দিয়ে গেছে । কেউই খাইনি আমরা। এমনকি মাহিনও না। শাহীন ভাই তখন থেকেই ছোটাছুটি করছে। দাফনের, জানাজার ব্যবস্থা করছে হয়তো। ভাই এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় পেলে আমায় আর মাহিনকে অন্তত জোর করে খাইয়ে যেতো। 

আমি আনিসাকে আব্বুর ঘরে নিয়ে আসি, এখানে মানুষ নেই। শুধু আব্বু আর মাহিন আছে ঘরে। আব্বুর কাছে কেউ আসবেনা, এখানে একটা ভ্যাপসা গন্ধ। আব্বু নড়তে পারেনা, এখানেই সবরকম প্রাকৃতিক কাজ করে ফেলে প্রায়ই । আম্মা যদিও নিয়মিত পরিষ্কার করে সব, কিন্তু আব্বুর আশপাশ থেকে অসুস্থ অসুস্থ গন্ধটা যায়না কোনমতেই। আমরা পরিবারের ক’জন ছাড়া আর কেউ আব্বুর পাশে এসে বসতে পারেনা। কিংবা হয়তো, বসতে চায় না। 

আমি আনিসার দিকে তাকাই, ও চোখ দুটো বড় বড় করে আব্বুর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ তাকায় থেকে আমার গলা জড়ায় ধরে সহজভাবে প্রশ্ন করে বললো, ‘ওটা কে?’ 

আমি ওকে আস্তে করে কোল থেকে নামিয়ে বলি,‘ উনি তোমার মামা।’
 
আনিসা কিছু না বলে টুকটুক করে হেঁটে যায় আব্বুর কাছে। শিশুরা কি আসলেই পৃথিবীর সব কাঁদার বাইরে থাকে? ও একটুও নাক কুঁচকাচ্ছে না। কি সুন্দর সাবলীলভাবে গিয়ে আব্বুর নিচু বিছানাটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আব্বুর মাথার পাশে। তারপর আব্বুর রুক্ষ হয়ে যাওয়া রূপালী চুলগুলোতে আঙ্গুল ছুঁয়ে দিলো বারকয়েক। তারপর আমার দিকে তাকালো। তাকায় বললো, ‘আমার মামা তোমার কি হয়?’
 প্রশ্ন করে চুপ হয়ে গেলো তারপরেই। কি যেন ভাবলো, তারপরই আবার প্রশ্ন করলো, ‘তোমার নাম কি?’
 
আমি তখন ঘরের কোণার দিকে দেয়ালের সাথে সেঁটে রাখা মিটসেফ থেকে খাবারের পাতিল নামাচ্ছি। ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম। তারপরে বললাম, ‘উনি আমার আব্বু। আর আমার নাম মেঘনা’।
- মেঘনা আপু? 
- হ্যাঁ
- আমি মেঘাপু বলি?
আমার কেমন লাগে হঠাৎ। মেঘ বলে শাহীন ভাই ছাড়াও পৃথিবীর আরো একটা মানুষ ডাকবে আমাকে! অবাকের রেস ধরে বললাম আনিসাকে বললাম, ‘তোমার যেটা ভালো লাগে সেটাই ডেকো।’

প্লেটে খাবার নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। ঠাণ্ডা ভাত, মুরগির মাংসের দুটো টুকরো, আলু , অল্প ডাল। আনিসা খাওয়ার সময় কি কি বাছবিচার করে কে জানে। আমি ঠাণ্ডা মেঝেতে আসন হয়ে বসি, আনিসকে টেনে আমার কোলে বসাই। ভাত মেখে ছোট ছোট বল বানিয়ে খাইয়ে দিতে থাকি ওকে। মেয়েটি এত লক্ষ্মী, কোন দুষ্টুমি না করেই চুপচাপ খেয়ে নেয়। দরজার পাশে খুট করে একটা শব্দ হতেই ফিরে তাকাই। দেখি শাহীন ভাই। 
  
ঢুকেই সোজা এগিয়ে যায় আব্বুর কাছে। মাথা নামিয়ে কথা বলে। ফুফুর কথা বলে। আব্বু উ উ করে না। ফুফুর সাথে আব্বু দেখা করতে চায় না। আমি আনিসার মুখ মুছে দিয়ে ওকে বলি ওইঘরে যেতে। মেয়েটাও সুন্দর করে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। আমি উঠে দাঁড়াই, আব্বুর পাশে গিয়ে বলি, ‘ফুফু আসলে কোন অন্যায় করেনি আব্বু।’

আব্বু চোখ দুটো স্থির করে আমার মুখের ওপর। আমি আবার বলি, ‘ঠিক এই অন্যায়টা যদি বড় আপা করতো, তাহলে আজকে বড় আপা বেঁচে অন্তত থাকতো।’

আব্বুর চোখে রাজ্যের বিস্ময়। ভাই কিছু বলে না। আব্বুর পাশ থেকে সরে আমার কাছে এসে দাঁড়ায়। আমার মাথায় একটা হাত রাখে।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড