• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘হতভাগ্য বাতিওয়ালা’-এর তৃতীয় পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : হতভাগ্য বাতিওয়ালা

  মুহাম্মদ বরকত আলী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪৫

ছবি
ছবি : প্রতীকী

তিনি দ্বিতীয় বারের মত ক্যাঁক করে বললেন, ‘আমি তো সেটাই জানতে চাচ্ছি কি ভুল পড়িয়েছি?’
 
আপনি যখন পড়াচ্ছিলেন তখন আমি ক্লাস শেষ করে অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। আপনি মশা সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন। কানে এলো আপনি বলছেন, ‘মশা আড়াই দিন বেঁচে থাকে। একটা জানা বিষয়ে কেউ যদি ভুল তথ্য দেয় তাহলে কি চুপ থাকা ঠিক হবে স্যার? নিজের কানে শুনে কি করে চুপ থাকি? কবে কোন বিজ্ঞানী বলে গেছে মশা আড়াই দিন বাঁচে, আর আপনি সেটাই পড়াচ্ছেন। দিন বদলাচ্ছে না? আগেকার কত আবিষ্কার এখন বাতিল হয়ে যাচ্ছে খবর রাখেন? এই পৃথিবীর আকারের কথাই ধরুন। এক বিজ্ঞানী বললেন, পৃথিবীর আকার চ্যাপ্টা, আর এক জন বললেন, গোলাকার। কে কখন মন গড়া বলছে আর আমরা তা বিশ্বাস করছি। তবে বিশ্বাস না করেও কি উপায় আছে? আমরা তো আর সব কিছু ওদের মত গবেষণা করতে পারি না। তবে কি কিছু কিছু প্রমাণ আমরা নিজেরাই করতে পারি। 

হেড স্যার বললেন, ‘উনি তো ঠিকই পড়িয়েছে। আমরাও তো এটাই পড়ে এসেছি যে মশা আড়াই দিন বাঁচে। এর আবার ভুল দেখলে কোথায়?’
এদের বোঝাতে হলে আগে দুএকটা উদাহরণ দিতে হবে। তা না হলে এদের বোঝানো কঠিন হয়ে যাবে আমার পক্ষে। স্যার একটা গল্প শুনেছেন? মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প। বাদশা বললেন, আচ্ছা নাসিরুদ্দিন বলো তো পৃথিবীর কেন্দ্র কোন জায়গাটা? 
নাসিরুদ্দিন বলেছিলো, ‘হুজুর আপনার পায়ের নিচের অংশটা।’ 
বাদশা বললো, ‘কিভাবে?’ 
নাসিরুদ্দিন বলেছিলো, ‘হুজুর বিশ্বাস না হয় মেপে দেখুন।’
 
বাদশা কি সারা পৃথিবী মেপে এসে দেখতে যাবে কোন জায়গাটা পৃথিবীর কেন্দ্র?  এটা কি সম্ভব?  তখন আর কি করার বাদশার পায়ের নিচের অংশকেই পৃথিবীর কেন্দ্র মেনে নিতে হলো। ঠিক তেমনি কোনো এক বিজ্ঞানী বললো মশা আড়াই দিন বেঁচে থাকে আর আমরা সেটা মেনে নিলাম। এই কথার কোনো ভিত্তি আছে স্যার? নেই স্যার। আমি নিজে পরীক্ষিত। আমি ও তো বোকা নয় স্যার। একটা মশা ধরে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি মশা এক সপ্তাহের বেশি বাঁচে। অযথা কার কথা শুনবো? তাই কয়েক দিন আগে একটা মশা ধরে হোমিওপ্যাথি ঔষধ দেওয়া কাঁচের শিশির ভিতরে আটকিয়ে রেখেছিলাম। মুখে একটা জাল দিয়ে বেধে রেখে দিয়েছিলাম যেনো অনায়াসে শ্বাস নিতে পারে। প্রতিদিন মুখের অংশটা আমার হাতে ঠেকিয়ে ধরতাম। রক্ত না খেলে তো আর বাঁচবে না। কিন্তু আমার রক্ত সে চোষেনি। হয়তো বা রাগ হয়েছিলো আমার উপর। মনে হয় পণ করেছিলো যে, না খেয়ে মরবে তবুও বন্দি থেকে রক্ত খাবে না। কেউ কি আর পরাধীনতা চায় স্যার? সব প্রাণীই চাই স্বাধীনতা। কি করবো, গোটা এক সপ্তাহ পর ছেড়ে দিলাম। 

ফরিদ সাহেব লেখা বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ছেড়ে দিলেন?’ 
 - হ্যাঁ। এতটুকু প্রাণিকে বিনা কারণে হত্যা করবো কেনো? বুড়ো মেরে খুনের দায়ের মত। মশাটা তো আমার কোনো ক্ষতি করেনি। শরীরে বসেছিল বটে রক্ত চোষার আগেই আমার হাতে সে বন্দি। হা হা হা হা। বরং কয়েক দিন ওকে আটকিয়ে রেখে আমিই অন্যায় করেছি। 
মৌসুমি আপা বললেন, ‘ছাড়লে কেনো, প্রদর্শনীর জন্য চিড়িয়াখানায় রেখে আসতে পারতে। মানুষজন তোমাকে বড় বিজ্ঞানীর উপাধি দিতো।’ 
হেড স্যার বললেন, ‘আচ্ছা যা হবার হয়েছে। এমনটি আর করো না।’

মৌসুমি আপা চোখ বাঁকা করে বললেন, ‘এমন আজগুবি গল্প অন্য জায়গায় দিও, অন্তত আমাদের কাছে না। আমরা পড়াশোনা না করে এখানে আসিনি। হাওয়ায় সার্টিফিকেট পাইনি।  আর হ্যাঁ এটাও মনে রেখো যে আমরা সকল স্টাফ তোমার সিনিয়র। পণ্ডিতি দেখাতে এসো না।’

তা আমি কখনো অস্বীকার করেছি? সম্মানিত হান্নান স্যার অরফে হানু স্যারের বিনা বেতনে রিটায়ার্ড হওয়ার সুবাদেই আমার এই মহান পেশায় যোগদানের সুযোগ হয়েছে। 

কিছুক্ষণের জন্য সবাই চুপ হয়ে গেল। আমার মনে হয় বিনা বেতনে রিটায়ার্ডের কথাটা সরাসরি বলাটা ঠিক হয় নি। বিনা বেতনে অবসর। কেমন যেন একটা খারাপ শোনায়। শুনেছি বেসরকারি একটা চাকুরি করতো। ভালোই তো ছিলো। কার কথা শুনে এখানে এসে বিনা বেতনে জীবনটা শেষ করল। আমি না হয় এসেছি নিজেকে সেই ভাবে তৈরি করে। বেতন হোক বা না হোক কখনো কষ্ট পাব না। কিন্তু উনি তো এসেছিলেন বেতনের আশায়। আর কিছু না হলেও মানব সেবা তো করে গেলেন।

(চলবে...)

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড