• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা সাহিত্যের পরিচিত কিছু প্রেমের কবিতা

কবিতা
ছবি : প্রতীকী

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা 
শহীদ কাদরী 

ভয় নেই 
আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী 
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে 
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে 
এবং স্যালুট করবে 
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা। 

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে 
কাঁটা-তার, ব্যারিকেড পার হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে 
আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে 
ভায়োলিন বোঝাই করে 
কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা। 

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো- 
বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো 
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে 
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
চকোলেট, টফি আর লজেন্সগুলো 
প্যারাট্রুপারদের মতো ঝরে পড়বে 
কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা। 

ভয় নেই...আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী 
এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় 
সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক, প্রিয়তমা! 

সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা, ঠিক জেনো, শেষ হবে যাবে- 
আমি এমন ব্যবস্থা করবো, একজন গায়ক 
অনায়াসে বিরোধীদলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন 
সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয় পাহারা দেবে সারাটা বৎসর 
লাল নীল সোনালি মাছি- 
ভালোবাসার চোরাচালান ছাড়া সবকিছু নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, প্রিয়তমা। 

ভয় নেই আমি এমন ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে 
শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন 
আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে 
গণচুম্বনের ভয়ে 
হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি, প্রিয়তমা। 

ভয় নেই, 
আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
শীতের পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন আক্রমণের মতো 
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে, 

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
স্টেটব্যাংকে গিয়ে 
গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে 
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান। 
ভয় নেই, ভয় নেই 
ভয় নেই, 
আমি এমন ব্যবস্থা করবো 
নৌ, বিমান আর পদাতিক বাহিনী 
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-ঘিরে 
নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা। 


যাত্রাভঙ্গ 
নির্মলেন্দু গুণ 

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে 
মন বাড়িয়ে ছুঁই, 
দুইকে আমি এক করি না 
এক কে করি দুই। 

হেমের মাঝে শুই না যবে, 
প্রেমের মাঝে শুই 
তুই কেমন কর যাবি? 
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া 
আমাকেই তুই পাবি। 

তবুও তুই বলিস যদি যাই, 
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই। 

তখন আমি একটু ছোঁব 
হাত বাড়িয়ে জড়াব তোর 
বিদায় দুটি পায়ে, 
তুই উঠবি আমার নায়ে, 
আমার বৈতরণী নায়ে। 

নায়ের মাঝে বসবো বটে, 
না-এর মাঝে শোবো, 
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ 
দুঃখ দিয়ে ছোঁব। 


প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী 
আবুল হাসান

 
অতো বড় চোখ নিয়ে, অতো বড় খোঁপা নিয়ে 
অতো বড় দীর্ঘশ্বাস বুকের নিশ্বাস নিয়ে 
যতো তুমি মেলে দাও কোমরের কোমল সারশ 
যতো তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা 
যতো আনো ও-আঙ্গুলে অবৈধ ইশারা 
যতো না জাগাও তুমি ফুলের সুরভী 
আঁচলে আগলা করো কোমলতা, অন্ধকার 
মাটি থেকে মৌনতার ময়ূর নাচাও কোন 
আমি ফিরব না আর, আমি কোনদিন 
কারো প্রেমিক হবো না; প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী চাই আজ 
আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী হবো। 


কথোপকথন --৪ 
পুর্ণেন্দু পত্রী 

- যে কোন একটা ফুলের নাম বল 
- দুঃখ । 
- যে কোন একটা নদীর নাম বল 
- বেদনা । 
- যে কোন একটা গাছের নাম বল 
- দীর্ঘশ্বাস । 
- যে কোন একটা নক্ষত্রের নাম বল 
- অশ্রু । 
- এবার আমি তোমার ভবিষ্যত বলে দিতে পারি । 
- বলো । 
- খুব সুখী হবে জীবনে । 
শ্বেত পাথরে পা । 
সোনার পালঙ্কে গা । 
এগুতে সাতমহল 
পিছোতে সাতমহল । 
ঝর্ণার জলে স্নান 
ফোয়ারার জলে কুলকুচি । 
তুমি বলবে, সাজবো । 
বাগানে মালিণীরা গাঁথবে মালা 
ঘরে দাসিরা বাটবে চন্দন । 
তুমি বলবে, ঘুমবো । 
অমনি গাছে গাছে পাখোয়াজ তানপুরা, 
অমনি জোৎস্নার ভিতরে এক লক্ষ নর্তকী । 
সুখের নাগর দোলায় এইভাবে অনেকদিন । 
তারপর 
বুকের ডান পাঁজরে গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে 
রক্তের রাঙ্গা মাটির পথে সুড়ঙ্গ কেটে কেটে 
একটা সাপ 
পায়ে বালুচরীর নকশা 
নদীর বুকে ঝুঁকে-পড়া লাল গোধূলি তার চোখ 
বিয়েবাড়ির ব্যাকুল নহবত তার হাসি, 
দাঁতে মুক্তোর দানার মত বিষ, 
পাকে পাকে জড়িয়ে ধরবে তোমাকে 
যেন বটের শিকড় 
মাটিকে ভেদ করে যার আলিঙ্গন । 
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত হাসির রং হলুদ 
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত গয়নায় শ্যাওলা 
ধীরে ধীরে তোমার মখমল বিছানা 
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে সাদা । 
- সেই সাপটা বুঝি তুমি ? 
- না । 
- তবে ? 
- স্মৃতি । 
বাসর ঘরে ঢুকার সময় যাকে ফেলে এসেছিলে 
পোড়া ধুপের পাশে । 


বনলতা সেন 
জীবনানন্দ দাশ 

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, 
সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয়-সাগরে 
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে 
সেখানে ছিলাম আমি; আরও দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে; 
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, 
আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন । 

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, 
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর 
হাল ভেঙ্গে যে নাবিক হারায়েছে দিশা 
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর, 
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' 
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন। 

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মত 
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল; 
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন 
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল; 
সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন; 
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। 


প্রস্থান 
হেলাল হাফিজ 

এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পএ দিও 
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালীর তাল পাখাটা 
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পএ দিও। 
ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত 
ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পএ দিও। 
কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে 
কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে 
পত্র দিও, পত্র দিও। 

আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেও, আপত্তি নেই। 
গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে? 
আমি না হয় ভালবাসেই ভুল করেছি ভুল করেছি, 
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে 
পাঁচ দুপুরে নির্জনতা খুন করেছি, কি আসে যায়? 
এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে, 
এক মানবী কতোটা বা কষ্ট দেবে 


দোতলার ল্যন্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট। একজন সিঁড়িতে, একজন দরোজায় 
আহসান হাবীব 

: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি? 
: চ’লে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব। 
: বছর দু’য়েক হ’লো, তাই নয়? 
: তারো বেশি। আপনার ডাকনাম শানু, ভালো নাম? 
: শাহানা, আপনার? 
: মাবু। 
: জানি। 
: মাহবুব হোসেন। আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন। 
: কে বলেছে। আপনার তো অনার্স ফাইনাল, তাই নয়? 
: এবার ফাইনাল 
: ফিজিক্স-এ অনার্স। 
: কি আশ্বর্য। আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ? 
: মা চান না। মানে ছেলেদের সঙ্গে ব’সে… 
: সে যাক গে, পা সেরেছে? 
: কি ক’রে জানলেন? 
: এই আর কি। সেরে গেছে? 
: ও কিছু না, প্যাসেজটা পিছল ছিলো মানে… 
: সত্যি নয়। উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে… 
: ধ্যাৎ। খাবার টেবিলে রোজ মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো? 
: মা বলেছে? 
: শুনতে পাই? বছর দুয়েক হ’লো, তাই নয়? 
: তারো বেশি। আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে? 
: নেবেন? না থাক। রিকসা এলো, মা এলেন, যাই। 
: যাই। আপনি সন্ধেবেলা ওভাবে পড়বেন না, 
চোখ যাবে, যাই। 
: হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই। 
: যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই। 


রাত্রি 
অমিয় চক্রবর্তী 

অতন্দ্রিলা, 
ঘুমোওনি জানি 
তাই চুপি চুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে 
বলি, শোনো, 
সৌরতারা-ছাওয়া এই বিছানায় 
—সূক্ষ্মজাল রাত্রির মশারি— 
কত দীর্ঘ দুজনার গেলো সারাদিন, 
আলাদা নিশ্বাসে— 
এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে ছুঁই 
কী আশ্চর্য দু-জনে দু-জনা— 
অতন্দ্রিলা, 
হঠাত্ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোত্স্না, 
দেখি তুমি নেই। 

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড