• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

জিয়ার পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী : রেলমন্ত্রী||কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়া ২ বাংলাদেশিকে পিষে মারল জাগুয়ার||ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের ফরম বিক্রি শুরু ||ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রস্তাব নাকচ করে দিল মার্কিন সাংসদ||ভারতকে অবিলম্বে কাশ্মীরের কারফিউ তুলতে বলেছে ওআইসি||‘তদন্ত করতে হবে কেন এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে’||ইউক্রেনের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের প্রাণহানি||‘অগ্নিকাণ্ডে কেউ চাপা পড়েছে কিনা তল্লাশি চলছে’ ||মুক্তিপ্রাপ্ত ইরানের সুপার ট্যাঙ্কারটি আটকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট জারি||অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  
eid

বই আলোচনা

একই সুতোয় গাঁথা আইন ও সাহিত্য

  শাত শামীম

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৩
প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : গ্রন্থ আইনের ভাব ও অভাব

ড. মাসুম এর বলার আলাদা একটা ভঙ্গি আছে, লেখার নিজস্ব একটা রীতি মানেন। সেটা প্রতিষ্ঠিত করলেন এই বইয়ে। তিনি বলেন, ‘বই এর নাম প্রথমে ভেবেছিলেন, আইনের ভাব স্বভাব এবং অভাব কিন্তু পরে ভাবলেন, ভাবের ভেতরই তো স্বভাব থাকে! এভাবেই তিনি বুনন শুরু করেন শব্দের।’

আইনের আরশী, সংবিধান, অর্ঘ্য ও আইন, চিঠি, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক এবং আইন ও অতি-আইন এই অধ্যায়ে সাজানো বইয়ের ছোট ছোট লেখাগুলো পড়ে আমার কেবলই মনে হয়ে হয়েছে আইনের বিষয়গুলো’কে যেন এক রোমান্টিক প্রেমিক, সহজ কবিতার মত করে লিখছে তাঁর আইন বুঝে না এমন সাবালিকা প্রেমিকাকে। আইন তত্ত্ব এর ভেতর যে সাহিত্য মজবুত বাসা বানাতে পারে প্রতি লাইনে যেন সেটাই দেখানো হয়েছে। বাংলায় এমন সুন্দর করে আর কে কবে কোথায় আইনকে বিশ্লেষণ করেছে!

আইন ও সঙ্গীত অংশে তিনি লিখেন, সংবিধানে ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নেয়া নিয়ে, ‘আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভালবেসে স্নেহ-মায়া দিয়ে এমন একটি দেশ গড়া, যেখানে স্বদেশের ‘বদনখানি মলিন হলে’ ‘নয়ন জলে ভাসবে’ সুখের সময় ‘প্রাণে বাঁশি’ বাজবে। মানবতার বাত্তি- জ্বালানি দিয়ে আমরা একসাথে সুর মেলাব ‘মরি-হায়, হায়রে।’

সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহা যখন যাবৎ জীবন মানে আমৃত্যু বুঝান, ড. মাসুম বলেন, ‘কিন্তু স্যার, জীবন এত বড় আর বাঙময় যে, এর সঙ্গে কোন পূর্বাপর শব্দ যোগ করেও একে মৃত্যু নামক নশ্বর কোন ধারণার সমান অর্থ দেয়া যায় না।’

সাক্ষ্য আইনের সমালোচিত ৫৪ ও ১৫৫(৪) ধারাতে তিনি শাণিত করেন এভাবে, ‘ আমাদের দেশে নারীর যৌনতার একটা সাংস্কৃতিক মানদণ্ড ও সীমারেখা আছে। সেটিকে হতে হবে মধুমাখা, পরিশুদ্ধ, দয়ালু, অবাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত। এই সাংস্কৃতিক বলয় ভাঙলে নারীর যৌনতা বাজারের বিষয় বলে গণ্য হয়। যে নারী শারীরিক চেতনায় বাজারিক, উন্মুক্ত, উদ্বাহু বা বাণিজ্যিক তার যৌন সংসর্গ প্রতিশ্রুত, সুলভ ও সু-অভিগম। সুতরাং তার প্রতিরোধের দেয়াল সু-অতিক্রম্য।

ড. মাসুমের এই বই সুখপাঠ্য, অ-আইনি মানুষের জন্যও। আর আইনের ছাত্রদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমি পাঠ্যবই হিসেবেই সংগ্রহ করতে বলব।

আইন সাহিত্যের যে যাত্রা ড. মাসুম শুরু করেছেন তা হয়ত এখনি ভাইরাল হবে না, কিন্তু হারিয়ে যাবে না, এই বই ড. মাসুম’কে হারিয়ে যেতে দিবে না আর।

বইটি মেলায় পলল প্রকাশনীতে পাওয়া যাচ্ছে। স্টল নং ১৭৮-৭৯। গ্রন্থটির মূল্য ধরা হয়েছে ২৬০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন রায়হান রনি এবং মুখবন্ধ লিখেছেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। 

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড