• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

সাক্ষাৎকার

‘আমি একটা ভাষার ঘোরের মধ্যে ছিলাম’

  শব্দনীল ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:২০

প্রচ্ছদ
ছবি : অরণ্য আপন ও ( প্রচ্ছদ : বাঙালি)

কবি অরণ্য আপন। যার কবিতার প্রতিটি পঙক্তিতে নারী-পুরুষ, প্রেম-প্রকৃতি, সামাজিকতার সাথে জ্ঞান ও যুক্তিসন্ধান এক একটি বিষয় জড়িয়ে রয়েছে নিবিড়ভাবে। তিনি মূলত গদ্যকার এবং অনুবাদক। দীর্ঘ অধ্যয়নে একাধিক ভাষা আয়ত্তে এনে করছেন সাহিত্য চর্চা। যে মৌলিক তাড়না থেকে তিনি সাহিত্যচর্চা করছেন, বলা যায় তা সাহিত্য-সমাজের দায় কিংবা সাহিত্যের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকে। তিনি ১৯৯৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার খামারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বেলাল মণ্ডল, মা রাহেলা মণ্ডল।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন বগুড়ায়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় সম্পন্ন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে।

তার জীবনের প্রতিটি পদে রাখতে চান সাহিত্যের ছোঁয়া এবং ভালোবাসতে চান মানুষ, কবিতা এবং প্রকৃতিকে। তারই হাত ধরে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রোলাতারিয়েত সাহিত্যের পত্রিকা ‘বাঙালি’। ‘বাঙালি’ মূলত কাজ করছে নতুন এবং তরুণ লেখকদের নিয়ে। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘বাঙালি’র প্রথম সংখ্যা প্রকাশ পাচ্ছে। পাশাপাশি লিখে চলেছেন প্রতিনিয়ত সাথে করছেন অনুবাদও।

এই তরুণ কবির লেখালেখি, অনুবাদ ও বাঙ্গালিকে নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক অধিকারের

দৈনিক অধিকার: কেমন আছেন অরণ্য আপন?

অরণ্য আপন: এইতো চলে যাচ্ছে। ভালো আছি। খারাপ আছি বললে তো সরকারের সমালোচনা হয়ে যায়, সরকার মানুষকে ভালো রাখতে পারছে না। আমি আর সমালোচনা করতে চাই না। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সরকারের সমালোচনা করে কলেজ প্রভাষকের চাকরি খুইয়ে ফেলেছি। আমার এই ভুলের খেসারত এখন পরিবার দিচ্ছে। আর সমালোচনা করে জীবন খোয়াতে চাই না। আমার আরও অনেক কিছু লেখার বাকি আছে, লিখে যেতে চাই।

দৈনিক অধিকার: বাঙালি সম্পর্কে কিছু বলুন-

অরণ্য আপন: বাঙালি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রোলাতারিয়েত সাহিত্যের পত্রিকা। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্ররাই এখানে পড়েন, কিন্তু তারা সাহিত্য থেকে অনেকটা দূরে। যেহেতু বাজারে কর্মসংস্থান নেই, তাই তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে বিসিএসের দিকে ছুটছেন। এই বিসিএস সৃষ্টিশীল মানুষ গড়ার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সাহিত্যের দিকে ফেরাতে এই বাঙালির আবির্ভাব। আমরা সারা বাংলাদেশের কলেজ - ভার্সিটি থেকে বাঙালির সদস্য সংগ্রহ করছি।

দৈনিক অধিকার: বাঙালির প্রথম সংখ্যা আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। সম্পাদক হিসেবে প্রথম সংখ্যা নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?

অরণ্য আপন: বাঙালিতে বেশিরভাগ তরুণ লেখকরা লিখছেন, তারা মাসব্যাপী লিখতে থাকেন। প্রচুর লেখা আমাদের হাতে জমা পড়ে। এখান থেকে অনেক নিরীক্ষা করে পত্রিকার জন্য লেখা বাছাই করে থাকি। তাই বাঙালি নিয়ে আমি একটু বেশিই আশাবাদী। খুব হাতে গোনা কয়েকটা সাহিত্যের পত্রিকা বাজারে আছে, আমরা এই শূন্যতা পূরণ করতে চাই। দৈনিক অধিকার: বাঙালি মূলত কাদের নিয়ে কাজ করছে?

অরণ্য আপন: আমি আগেই বলেছি, বাঙালি তরুণদের নিয়ে কাজ করছে।

দৈনিক অধিকার : লক্ষ্য করলে দেখা যায় ছোট কাগজ বা ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগে। এটার কারণ কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন- অরণ্য আপন: এটা স্বাভাবিক, যেহেতু নামই ছোট কাগজ, তাই বড় পরিসর পেতে সময় একটু বেশিই লাগে। আকারে ছোট হওয়াতে নজর কাড়তেও বেগ পেতে হয়, হা-হা-হা।

দৈনিক অধিকার: এবার নিজেকে নিয়ে কিছু বলুন।

অরণ্য আপন: নিজেকে নিয়ে বলাটা মুশকিল। এই কাজটা আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম, এই কাজটা আপনাদেরই বটে। তবে সময়টা এখন নিজের বলার, এখন কেউ কাউকে বলে না। এ জন্য অনেক বড় মাপের সাহিত্যিকদের নাম আড়াল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করতে পারত কিন্তু মিডিয়ার পেশাদারিত্ব নেই বললেই চলে। নিজেকে নিয়ে বলতে গেলে একটা কথাই বলব যে সমস্ত সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে, সবকিছু ছেড়ে দিয়ে সাহিত্যের সাথে আছি এবং থাকব।

দৈনিক অধিকার: লেখালেখির যাত্রা শুরু কিভাবে?

অরণ্য আপন: লেখালেখি শুরুটা সপ্তম শ্রেণি থেকেই। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা করতোয়ায় লেখা ছাপা দিয়ে হাতেখড়ি। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই আমি ঢাকার অনেক মাসিক পত্রিকায় লেখা পাঠাতাম। অনেক লেখা ছাপাও হত। লেখা ছাপা হলে ডাকযোগে ঢাকা থেকে সেই বগুড়ার একটা অঁজপাড়া গায়ে সৌজন্য কপি পাঠিয়ে দিত। এইভাবেই লেখা শুরু। আমার শৈশব ছিল ভাষাময়। চারটে ভাষাই মূলত স্কুল বয়সেই শিখে ফেলেছিলাম। আমি যে এখন বিভিন্ন ভাষা থেকে বিশ্ববিখ্যাত কবিদের কবিতা অনুবাদ করছি তার বুনিয়াদ আমার ছোটবেলায় হয়েছিল। আমি একটা ভাষার ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এজন্য অনেকটা দায়ী রুমি, গালিব, হাফিজ, আল্লামা ইকবাল, শেখ সাদী। আমি তো ভাবতাম, তাদের বাইরে কোনো কবি নেই। এখনো এই ভাবনাকে জীবনানন্দ দাশ ছাড়া আর কেউ নাড়িয়ে দিতে পারেননি। শেখ সাদীর কবিতার বই গুলিস্তাঁ ফার্সি ভাষায় পড়েছিলাম। এইভাবেই শুরু। বাকিটা ইতিহাস।

দৈনিক অধিকার: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কী কী বই আসছে এবার?

অরণ্য আপন: ৫টা বই আসছে। তোমাকে দেখার চোখ নেই (মৌলিক কাব্যগ্রন্থ)। আত্মার দরোজা, (অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ), মূল- জালাল উদ্দিন রুমি। পাওয়া যাবে তিউড়ি প্রকাশনে ৫৮৯ নং স্টলে। সার্টিফিকেটহীন মানুষ ( + অরিত্রী সিরিজ)। মৌলিক কাব্যগ্রন্থ, এই শহরে কান্না প্রধান সত্য, (অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ) মূল- মাহমুদ দারবিশ, নিঃশ্বাসের পয়গাম (অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ), মূল- আহমদ ফারাজ। পাওয়া যাবে বেহুলা বাংলা ১২৩ - ১২৪ স্টল নং স্টলে।

দৈনিক অধিকার: এই বইমেলাতেও আসছে আপনার অনূদিত বই। এতে মৌলিক এবং অনুবাদ পরস্পর সাংঘর্ষিক হয় কি না?

অরণ্য আপন: সাংঘর্ষিক হওয়ার সুযোগ নেই।

দৈনিক অধিকার: বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশের প্রবণতাকে কিভাবে দেখেন আপনি?

অরণ্য আপন: সবকিছুরই একটা কেন্দ্র থাকে। বইমেলা কেন্দ্রিক বই করাও তেমনি, এটা সমস্যা হিসেবে দেখছি না। সমস্যা হল রাষ্ট্রের বইমুখী সমাজ গড়ার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। স্কুল-কলেজের লাইব্রেরিতে নতুন বই নেই। এত চ্যানেল! অথচ বই নিয়ে অনুষ্ঠান খুবই কম।

দৈনিক অধিকার: একটা কথা শুনছি অনেকদিন ধরে যে তুলনামূলক হারে পাঠকের সংখ্যা কমছে। পাঠক কমে যাওয়ার পিছনে কি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন আপনি?

অরণ্য আপন: পাঠক কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বিনোদনের অনেক সহজ মাধ্যম এসে গেছে। বই পড়া কঠিন কাজ। তবু মানুষ বই পড়ে কারণ বই-ই একমাত্র মানুষের বন্ধু। আমাদের নাটক, সিনেমাতে প্রধান চরিত্রে বই পড়ার অভ্যাস দেখা যায় না। একজন হিরোকে কখনই বই পড়তে দেখা যায় না, বই কেনার কোনো দৃশ্য নেই। মিডিয়া মানুষকে প্রভাবিত করে, সেই মিডিয়া বই শূন্য হয়ে পড়েছে।

দৈনিক অধিকার: বাঙালি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো কিভাবে সাজিয়েছেন?

অরণ্য আপন: বাঙালি সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে চায়। বইয়ের দিকে যুবসমাজের ঝোঁক বাড়াতে চায়। বাঙালি যেমন পাঠক তৈরিতে কাজ করবে ঠিক তেমনি বাঙালি থেকে উদীয়মান লেখক তুলে আনার কাজও করে থাকবে। আমরা শিগগির প্রকাশনীতে হাত দেব। দেবদাস নামে আমরা একটা প্রকাশনীও দাঁড় করাতে ইচ্ছুক।

দৈনিক অধিকার: ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য। আপনার এবং আপনার প্রকাশিত বইয়ের জন্য শুভকামনা রইলো।

অরণ্য আপন: আপনাকেও ধন্যবাদ। দৈনিক অধিকারের সাফল্য কামনা করছি। দৈনিক অধিকার যেন সাহিত্যের কথা বলে।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড