• বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

অভিনয়ে অভিমানী ভালোবাসা

  শাফিউল কায়েস ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:১১

গল্প
ছবি : সংগৃহীত

সয়েল সায়েন্স ক্লাস নিচ্ছেন আব্দুর রহমান স্যার। তিনি অনেক নরম মনের মানুষ। প্রথম ক্লাসে মনে কেড়েছে সবার। এই স্যারের ক্লাসে প্রক্সি চলে ভীষণ রকম। যার ফলে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সবসময় কম  থাকে । একজনের পরিবর্তে আরেকজন প্রক্সি দেয়। ক্লাস শেষ হতে আর মাত্র দশ মিনিট বাকী। ক্লাসের পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ে লতু। স্যার বুঝতে পারলেও না বোঝার মত থাকে। প্রতিদিনের মতো আজও সায়েদ পিছনের বেঞ্চে বসেছে। বলা যেতে পারে সে পিছনের বেঞ্চের ছাত্র। ক্লাশ শেষ স্যার নাম ডাকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পিছন থেকে
-এই;  
ডাক শুনতে পেলেও সাড়া দিলাম না।
-এই, সায়েদ! 
-হুম, বলো।
- ৮৩ রোল নাম্বারে পোক্সিটা  দিয়ে দিস।
আমি অজান্তেই বললাম, ঠিক আছে চেষ্টা করে দেখবো।

সে সবার সাথে মিশতে পারে, ঠিক আমার  উল্টো। অনেক ভালো একটি মেয়ে। আমার চোখে সে অনেক সুন্দরী, উচ্চতা খুব বেশি না, আমার সাথে মিলে যায় অনেকটা। তবে তাকে ক্লাসে যেদিন প্রথম দেখি,  সেদিন থেকে আমার মনটা শুধু তার দিকেই হেলে থাকে। তাহলে আমি কি তার প্রেমে পড়েছি! 

দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ম্যামের এগারোটার ক্লাস দুটার দিকে হবে। এর মধ্যে আর কোনো ক্লাস ছিল না। আমরা যে যার মতো আড্ডা দিতে থাকলাম । আমি আর মাহমুদ একটা বেঞ্চে বসে গল্প করতেছিলাম। ইতোমধ্যে সে বেঞ্চের কাছে এসে বলে মাহমুদ সরে বস। আমরা দুইজন বেঞ্চের দুই ধারে গিয়ে বসলাম, ও বসলো মাঝখানে। আমি তখন মোবাইলে গেম খেলছিলাম।
মাহমুদ বলে,
-কিরে লতু?
-এইতো ভালো। তোর কি খবর?
-চলছে আর কি কোনো রকম।

ওদের দুইজনার মাঝে কথোপকথন চলছে। আমি নিশ্চুপ হয়ে মোবাইলে গেম খেলছি।
লতু বলে, সায়েদ তোর বাসা যেন কোথায়?
- দিনাজপুর।
- হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুন্দর তাই না?
- হুম, গতকাল রাতে তোমাকে ফেইজবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছি।
- হুম। একসেপ্ট করেছি।
কিছু সময় আমাদের সাথে থাকার পর সে অন্য একজায়গায় চলে যায়। 

রাত থেকে শুরু হয় লতু আর আমার ম্যাসেঞ্জারের কথোপকথন। তারপর মোবাইলে কথা, ক্যাম্পাসে দুজনে মিলে আড্ডা, ও আমার এসাইনমেন্ট-প্রজেন্টেশন স্লাইড করে দিত; আমিও মাঝে মাঝে করে দিতাম। আমাদের সম্পর্কটা  প্রায় অর্ধেক বছর পার হয়ে গেল। ক্লাস শেষ হলে এক সঙ্গে  মিলে মুড়িমাখা খাওয়া, মাঝে মাঝে শহরে ঘুরতে যাওয়া। 

ও বাড়ি থেকে ক্যাম্পাস যাতায়াত করত। আমাদের দুজনার মাঝে  শুধু ক্যাম্পাস সময়ে দেখা হতো, কথা হতো।  

আমার জানা ছিল না যে, আমার রাজ্যে সে রানী হওয়ার স্বপ্ন কোনো দিন দেখেনি । আমি শুধু স্বপ্ন দেখেছি, সে আমার প্রেম রাজ্যের রানী আর আমি তার একমাত্র রাজা। 

তার মোবাইল আমাকে কখনো ধরতে দিত না। তাছাড়া তাকে আমি খুব বিশ্বাস করতাম। একদিন আমি তার ফোন হাতে পাই। কয়েকবার কল আসলো মোবাইলে অতটা গুরুত্ব দিলাম না। মোবাইলে ম্যাসেজ, কিরে ফোন ধরিস না। আই লাভ ইউ। মেসেজ চেক করলাম, ম্যাসেঞ্জার চেক করলাম; সেদিন বুঝতে পারলাম, সে শুধু আমার সাথে অভিনয় করেছে। সে শুধু তার অসময়ের হাতিয়ার হিসাবে আমাকে ব্যবহার করেছে। কয়েকদিন পর তার প্রিয়কে কল করি। এটাই আমার দোষ তার প্রেমিককে কেন কল করলাম।

আজ এক সঙ্গে ক্লাস করলেও, দেখা হলেও কোনো কথা হয় না।

লেখকঃ শাফিউল কায়েস (শিক্ষার্থী)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল, গোপালগঞ্জ।  

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড