• বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

গল্প : সামান্য ক্ষতি

  সঞ্জীব চৌধুরী ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৬

কবিতা
ছবি : প্রতীকী

মহিষী করুণা। রাণী তিনি। অসীম তাঁর ক্ষমতা। অনন্তকাল ধরে পাটরাণী। যে দেখে, মুগ্ধ হয়। কথিত আছে, তাঁর শরীর বেয়ে পড়ে জ্যোৎস্না – ধবলকান্তি। কুয়াশা। যখন জনতার দিকে তাকিয়ে তিনি হাত নাড়েন, তখন চুম্বকত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি সচেতন। কোনো কিছুই তাঁকে বিচলিত করে না। উদাসীন তিনি, অথবা নন। তবু বৃষ্টিতে চিক্কন। আর কদাচিৎ বলেন, আমাকে রচনা করো হে রবীন্দ্রনাথ, মৃত্যুর আগেই! তখন রাত। একটু পড়েই বারোটা বাজবে। মহিষী করুণা বসে আছেন ড্রেসিং টেবিলের সামনে। সাজাচ্ছেন নিজেকে। একটু একটু করে। চোখের কোণে কাজল। ক্ষীণ বাঁকা ভুরু। হালকা লিপস্টিক। শরীরে সারাক্ষণ সুরভীর প্রতিশ্র“তি। কী অপূর্ব তিনি, যেন প্রসাধনীর চিহ্ন মাত্র নেই। স্তনবৃন্ত ফুটে ওঠে চিরযৌবনের ভারে। আয়নায় নিজের মুখ। এক চিলতে হাসি ফোটে – বহুদূরের রহস্য। জানতেন দা ভিঞ্চি। মহিষী করুণা তাঁর নাইটির ফিতায় ঢিল দেন। তখনই নামে জ্যোৎস্নার ঢল। আর তা ছাপিয়ে যায় পাশের ঘরে। সেখানে উলঙ্গ রাজা। তাঁর হাতে গোটা-দুই ট্যাবলেট – কামবর্ধক। তিনি গলাধঃকরণ করেন। আর ভাবেন, আমি পুরুষ, আমি পুরুষ…তিনি ভাবতেই থাকেন। মেডিটেশন। মহেঞ্জোদারোর ষাঁড়। অ্যারাবিয়ান ঘোড়া। বাৎসায়ন।

আর তখন বারোটা বাজতে না বাজতে লুটিয়ে পড়েন রাজা। রাণীর উলঙ্গ পায়ে। তৃষ্ণার্ত ক্ষুধার্ত রাণী হিংস্র চোখে প্রতিদিনের মতো বলেন, ছিঃ! রাজাকে পায়ে দলে উঠে দাঁড়ান। ছুটে যান পাশের ঘরে। ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন একান্ত সহচরীকে। আর রাত দু’টো গড়িয়ে গেলে তৃপ্ত, অবসন্ন তাঁরা দু’জন মেঝের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন – উলঙ্গ, বিবস্ত্র।

ও ঘরে নিদ্রাহীন রাজা তখনও মন্ত্র জপেন, আমি পুরুষ, আমি পুরুষ…তিনি জপতেই থাকেন। দ্বন্দ্বের সূত্রপাতটা কখন হয়েছিলো? কেই জানে না। কেউ বলতে পারে না। এমনকী রবীন্দ্রনাথও না। রাজা আর রাণীর মধ্যে কী বিস্তর দূরত্ব জনতা জানে না। এ সম্পর্কে কোনো কিংবদন্তী রচিত হয় নি। কেননা রাজা আর রাণীকে নিয়ে সমালোচনা সংবিধান-বিরোধী। তাই জনতা প্রতিদিন এই শুনে আশ্বস্ত হয় – আমাদের রাজা-রাণী অমর। তারা অনন্তকাল অবধি সুখী।

কিন্তু রাণীর সহচরী বিশাখা পরে কিন্তু কথা ফাঁস করে দেয়। আমরা যতোটুকু শুনেছি বিশাখার কাছ থেকেই শুনেছি। আমরা জানি, এসবই সত্য। এর পরের ঘটনা অবশ্য খুবই সংক্ষিপ্ত। রবীন্দ্রনাথ তা বিশ্বস্তভাবে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তার বিবরণ বাইরে বিশাখা কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী মাঘ মাসের এক দিনে শীতের বাতাস বইতে থাকার দরুন রাণীর ভীষণ শীত বোধ হয়। তিনি গ্রাম জ্বালিয়ে আগুন পোহান। অক্ষম পুরুষত্বহীন রাজা এবার তার পৌরুষ দেখাতে এগিয়ে এলেন, কঠিন শাস্তি দিলেন তিনি প্রগল্ভ রাণীকে। আদেশ করলেন, যতো ঘর পোড়ানো হয়েছে, সবগুলোর মেরামত করার খরচ যোগাতে হবে রাণীর নিজেকেই। রাজকোষ থেকে কানাকড়িও দেওয়া হবে না। 

রাজা মনে করেছিলেন খুব জব্দ করা গেলো। নিজের অপমানের শোধ তুলতে পেরে খুব আত্মপ্রসাদ লাভ করেছিলেন তিনি। কিন্তু রাণী এবারও হারলেন না। তিনি বেসরকারীভাবে সাহায্যের আবেদন জানালেন জনগণের কাছে। বললেন, দান করুন, মুক্তহস্তে। জনগণ হুমড়ি খেয়ে পড়লো সাহায্য দিতে। একজন ব্যবসায়ী একাই দিলেন পাঁচ লক্ষ টাকা। এক লাখ, পঞ্চাশ হাজার – এরকমও দিলেন অনেকে। আর হাজার একশ’র তো হিসাবই নেই। সবার মুখে একই কথা – একটা ভুল হয়তো রাণী করেছেন, কিন্তু দেখো কী তাঁর জনদরদী মন। আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়েছেন। তাঁর দানবাক্সে জমা হলো প্রায় দশ কোটির মতো। দু’কোটি টাকা খরচ করে গ্রামটাকে আগের চাইতেও দশগুণ সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। সকলে ধন্য ধন্য করলো। আর রাণীর হাতে থাকলো নেট আট কোটি টাকা। রাজা আবারও হারলেন – গোপনে।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড