• শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

বইয়ের আলোচনা

ভালোবাসার আয়নায় ‘মায়াবী শাড়ির আঁচল’

  নাসিম আহমদ লস্কর ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৪

প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ (মায়াবী শাড়ির আঁচল)

জীবনরে আশা-আকাঙ্ক্ষা, হাসি-কান্না ফুঁটে উঠে সাহিত্যে। সাহিত্য হচ্ছে মনের খোরাক। সমাজ সংস্কারে সাহিত্যের রয়েছে আবদায়। উন্নত, সৃজনশীল, আদর্শ জাতি গঠনে সাহিত্যের কোন বিকল্প নেই।

বাঙালী মন চিরকালই কবিতা প্রিয়। কবিতায় তারা খুঁজে পায় জীবনের স্বাদ। জীবনের উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা সবই তারা কবিতার আবহে খুঁজে। কবিরা।সমাজ জীবনের প্রবহমান ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করে কবিতায় তুলে ধরেন।

কবি রাবেয়া রুবি সাহিত্যে জগতে আবির্ভূত এক সোনালি নাম। সাহিত্য চর্চার দিক থেকে আমাদের বর্তমান নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে। অদম্য ইচ্ছা থাকলে কী আর কেউ কেউকে দমিয়ে রাখতে পারে! ব্যক্তি জীবনে তিনি অনেকে চড়াই উতরাই পেরিয়েও সাহিত্যের সাথে লেগে আছেন। স্বামী হারানোর পর অনেক নারীই জীবনের দিশা হারিয়ে পেলে। চারদিকে শুধু অন্ধকার, অসুররে থাবা দেখতে পায়। অথচ কবি দমে যাননি। জীবনরে এই প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি শোককে শক্তিতে রূপান্তর করছেনে। প্রিয় স্বামীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতে তার নামে উৎসর্গ করেছেন কাব্যগ্রন্থ। ভালোবাসার পরিচয় এমনি হয়। ভালোবাসা মৃত্যুর কাছে হার মানে না। যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকে শাশ্বত ভালোবাসা।

অমর ২১শে বইমেলা ২০১৭তে সিলেটের ‘পায়রা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াবী শাড়ির আঁচল’। কবি বইটি উৎসর্গ করছেনে তার প্রয়াত স্বামী, ভালোবাসার ধন ডা. কাজী সুপ্রিয় হিল্লোল হককে। বইটি যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি। পবিত্র প্রেম, শাশ্বত ভালোবাসা যা কখনো ফুরায় না তাই ফুটে উঠেছে গ্রন্থটির বেশির ভাগ কবিতায়। এই নিবন্ধে কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

‘মায়াবী শাড়ির আঁচল’ কাব্যগ্রন্থ নাম। ভালোবাসা কভু পরাজিত হয় না। জীবনে যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কনে মানুষ তার প্রিয়জনের সাথে কাটিয়ে দিতে চায় জন্ম তেকে জন্মান্তর। ভালোবাসা কখনো হারায় না, যৌবন হারায়; ভালোবাসার রং কখনো ফুঁড়োয় না। কালের অতল গহ্বরে সবই হারিয়ে যায়, শুধু টিকে থাকে ভালোবাসা। কবিও তার মনের আপন মানুষটিকে ভালোবাসার মাধ্যমে পার্থিব ঝঞ্ঝাট ভুলিয়ে দিতে চান। সুখের আবেশে একাকার হতে চান দুজনে। কবিতায় ফুটে উঠেছে সেই অমিয় ভালোবাসায় হারিয়ে যাওয়ার ভাবনা।

‘আমার মায়াবী শাড়ির আঁচল

বিছিয়েছি মহুয়া বনে

চন্দ্রস্নানে জ্যোৎস্না বিলাসে

এসো দুজনে মেতে উঠি

----আমি বৃষ্টি হয়ে

তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে দিবো

----এসো দুজনে মেতে উঠি।’

‘মায়াবী শাড়ির আঁচল’

প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ হয়ে যায় নির্বিকার। আপন বলতে বিশ্বজগতে তাদের তেমন কিছু আর থাকে না। পুরানো স্মৃতি আর বিষাদময় নীরব ভাবনা মানুষকে ক্রমশ নীরব জগতের দিকে ধাবতি করে। এ যেন জগতরে সবকিছুই অর্থহীন। কবির কবিতাও এমন নীরব জীবনের কথা বলে। জীবন হয়ে উঠে রূপ-রস-গন্ধহীন, কেবলি যন্ত্রণাময়।

‘নিঃশব্দের অথৈ আলোয় দিতে চাই ডুবসাঁতার

----নিঝুম রাতের সঙ্গী

আকাশের ওই চাঁদ আর তারা

প্রকৃতির কিছু বৈরী হাওয়া।’

‘নৈঃশব্দ্য’

জীবন গতিশীল। শত যন্ত্রণার মাঝেও জীবন আপন স্বভাবে এগিয়ে যায়,কখনো পিছু ফিরে তাকায় না। বেঁচে থাকার জন্য শত কষ্টের মধ্যে মানুষকে জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। স্বার্থপর পৃথিবী যেন জেলখানা। বিরহী কবি মনে গতিশীল জীবনের।

নিষ্ঠুরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

‘এলোমেলো শব্দের আলিঙ্গনে

হয়তো বদলাবে কখনো পৃথিবী

বন্ধনগুলো আধারে হারায়।

তবু বেঁচে থাকার আচ্ছাদনে

এ পথ থেকে ও পথে ঘুরে আনমনে।

‘গতমিয় জীবন’

মানবজীবন গতিশীল। শত কষ্টের মধ্যে দিয়ে মানুষ যখন জীবন নদী পাড়ি দয়ে তখন সে ভালো জীবনরে সন্ধান করে। একটুখানি সুখ যেন রংধনু হয়ে আকাশে উড়ে। মানুষ পেতে চায় সেই সুখের নাগাল। বিরহী জীবন কোনো মানুষরেই কাম্য নয়। কবিও তার যন্ত্রণাময় জীবন থেকে উত্তরণ চেয়েছেন। চেয়েছেন একটুখানি সুখ।

‘খুলে দিয়েছি দখিনা দুয়ার

আসুক বসন্ত ছোঁয়া

শান্ত স্নিগ্ধ কোমল নয়নে

ডুবে যাব নতুনত্বের আচ্ছন্নে।’

‘উত্তরণ শিখা’

মানবজীবনের উদ্দেশ্যই সুখের সন্ধান করা। মানবজীবন সুখ নামক পায়রার পিছনে ছুটে। কবিও সেই সুখময় জীবন খুঁজে ফেরেন বিশ্ব চরাচরে।

‘চলো

সুখ খুঁজি

তোমায় এক চিলতে সুখ দাবি।

----কিন্তু কথা রয়েই যায় না বলা

বিবর্ণ মনের চাওয়া

অল্পতেই তৃপ্তি খুঁজি।’

‘সুখ খুঁজি’

কবির ব্যক্তি জীবন বিরহে অতিষ্ঠ। তিনি তার ভালোবাসার ধন স্বামীকে হারিয়ে জীবন পথে কোন সুঘ্রাণ খুঁজে পান না। সংগ্রামী, গৎবাঁধা জীবন তার কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তারপরও তিনি জীবন পথে দিশা হারাতে চান না। অদম্য সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছে সুদূর জীবনের পথে। তিনি শৈল্পিক চেতনায় তার প্রিয় স্বামীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছেনে বইয়ের পৃষ্ঠায়। আমি আশা করি তিনি এই শোককে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে পাঠকদের আরো বেশি বেশি কবিতা উপহার দিবেন। আমি বইটির পাঠক প্রিয়তা কামনা করছি।

লেখক: নাসিম আহমদ লস্কর

শিক্ষার্থী, বিবিয়ে প্রোগ্রাম

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

সিলেট।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড