• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘অনুভূতির ছোঁয়া’- অনন্য এক গ্রন্থ

  নাসিম আহমদ লস্কর ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৩১

প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘অনুভূতির ছোঁয়া’

কবিতা হচ্ছে সাহিত্যের এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা জগতের সবকিছু দর্পণের মতো তুলে ধরে। কবিতাকে বলা যায় সমাজ দর্পণ।  সমাজের ত্রুটি -বিচ্যুতি,  আশা, প্রত্যাশা,  কৃষ্টি, সংস্কৃতি ; মানুষের জীবনের কামনা-বাসনা, প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ-মিলন সবই ফুটে উঠে কবিতায়। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই কবিরা সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কবিদের বলা হয় সমাজ সংস্কারক। ভাবনার মৃত্তিকায় কবিরা ফলান কবিতার ফসল।

কবি এম এইচ বাছিত এক বড্ড কবিতা প্রেমিক। তার চিন্তার কুটিরে বাস করে কবিতা। জীবনের রংয়ের সাথে তিনি কবিতার রং খুঁজেন, ভ্রমণ করেন ভাবনার সাগরে। কুড়িয়ে আনেন কবিতার নুড়ি। অমর একুশে বইমেলা ২০১৮’তে সিলেটের ‘পায়রা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘অনুভূতির ছোঁয়া’। প্রকাশক:- সিদ্দিক আহমদ। বইটি উৎসর্গ করেছেন কবি তার প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশাকে যার অনুপ্রেরণায় তিনি জীবনের এতটা পথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। ৮০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে মোট ৯২টি কবিতা স্থান পেয়েছে। তার কবিতায় ফুটে উঠেছে সমাজ ভাবনা, দেশপ্রেম, প্রকৃতির শাশ্বত রূপ, প্রেম, দ্রোহ, ভালোবাসার কথা।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। স্রষ্টা মানুষকে পাঠিয়েছেন জগতে শান্তি সৃষ্টি করতে। অথচ সমাজের কিছু অসৎ লোক আছে যারা প্রতিনিয়ত সমাজকে খুবলে যাচ্ছে। সৃষ্টি করছে দাঙ্গা হাঙ্গামা; সমাজকে অস্থিতিশীল, কলুষিত করে তুলছে। এসব মূর্খ লোক একবারও ভাবে না যে, একসময় তাকে আবার স্রষ্টার কাছেই ফিরে যেতে হবে। মানুষের এসব বর্বর আচরণ কবিকে করেছে ব্যথিত। কবি ভর্ৎসনা জানিয়েছেন তার কবিতায় এসব নরপশুদের।

‘মানুষ হয়ে জন্ম নিলে মানুষ হবে কবে
আর কতকাল তুই রবে
অসতের নড়ী ধরে?
----সৃষ্টিকর্তা তোরে সৃষ্টি করে 
দিল স্বীকৃতি তুই সৃষ্টির সেরা বলে
----বিধাতার আস্থা লঙ্ঘন করে
দিলে শান্তিময় জগত বিলয় করে।’
‘অসতের নড়ী’

বিচিত্র ভাবনার সজ্জিত সমাহারকেই কবিতা বলে। চারপাশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিরীক্ষণ করেই কবি রচেন কবিতা সম্ভার। সমাজের ত্রুটি, বিচ্যুতি, প্রেম-ভালোবাসা, জীবনধারা কবি গভীর মনে অবলোকন করেন। অতঃপর রচনা করেন কবিতা। কবি তার ভাবনায় কবিতাকে অত্যন্ত সাবলীলভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

‘কবিতা আসে-
পাতাঝরা, শকুন বসা গাছের ডালে
----কবিতা আসে
চেতনার আঁচলে
রমণীর চোখের কাজলে।
----কবিতা আসে মাঝির বৈঠার টানে
----কবিতা আসে
নজরুলের বিদ্রোহী গর্জনে।’
‘কবিতার মাধ্যম’

মানুষ তার প্রিয়জনকে হারিয়ে নির্বিকার হয়ে যায়। সে তার জীবনের স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলে। শাশ্বত ভালোবাসা এমনি হয়। ফিরে যেতে চায় সুখময় অতীতের সুখময় মুহূর্তে। স্মৃতিতে পড়ে থাকে সে। কবিও ফিরে যেতে চান তার ভালোবাসার মানুষের সাথে কাটানো সুখময়, রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলোতে।

‘----বাসতে দাও আমায়
তোমার রাঙা চোখের কাজলে।
----বাঁচতে দাও আমায় 
তোমার সুরভিত আঁচল তলে।’
‘ফিরিয়ে দিওনা’

স্বাধীনতা কারও অনুগ্রহের দান নয়। প্রতিটি জাতিকেই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তার স্বাধীনতার অধিকারটি আদায় করতে হয়। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলেই মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করে। কবি তার কবিতায় তুলে ধরেছেন কাম্য স্বাধীনতা অর্জনে সংগ্রামের কথা।

‘বাংলার স্বাধীনতা আসেনি
ভোরের কিরণের সাথে 
হঠাৎ করে একদিন যাজক ভেসে।
----বাংলার স্বাধীনতা এসেছে
লাখো মায়ের সন্তান বলিদানের ফলে।’
‘বাংলার স্বাধীনতা’

আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি আমাদের স্রষ্টা। জগত সংসারে তিনি ছাড়া কেউ আমাদের আপন নেই। দুনিয়া-পরকালের কল্যাণের জন্য করজোড়ে আমরা তার কাছেই প্রার্থনা করি। দয়াময় আমাদের প্রার্থনা কবুল করেন, উপহার দেন সুখ আর সমৃদ্ধি। কবিও প্রভুর কাছে আপন কল্যাণের জন্য প্রার্থনায় নিমজ্জিত হন।

‘হে মহান আল্লাহ
তুমি রহিম
তুমি আর-রহমান
----আমি পাপী গুনাহগার
কবরের সওয়াল জবাব
করিও সহজ আমার
হে আল্লাহ পরওয়ারদিগার।’
‘মোনাজাত’

যা কিছু মানবজীবনকে স্পর্শ করে তার সবকিছুই কবিতার উপকরণ। কবিতা হচ্ছে জীবনের দর্পণ। কবির এ গ্রন্থটিতে ফুটে উঠেছে সমাজ ভাবনা, দেশপ্রেম, নারী অধিকার, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম-ভালোবাসাসহ নানারকম বিষয়। বইটিকে বলা যায় বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। আমি বইটির পাঠক প্রিয়তা কামনা করি। কবিতায় কবির মুনশিয়ানা বেশ পরিলক্ষিত। একজন কবিতার পাঠক হিসেবে আমার প্রত্যাশা তিনি যেন আমাদের আরও নতুন নতুন কবিতা উপহার দেন, সমৃদ্ধ করেন প্রিয় বাংলা সাহিত্যকে।

লেখক: নাসিম আহমদ লস্কর
শিক্ষার্থী, বিবিএ প্রোগ্রাম
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড