• বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

বইয়ের আলোচনা

'নীলিমার প্রেম’ কবিতার উন্মুক্ত দুয়ার

  নাসিম আহমদ লস্কর ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৬

প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘নীলিমার প্রেম’

জীবন যেখানে যেমন/ মন সেখানে হয়তো তেমন; নয়তো তেমন৷ প্রবাস জীবন ব্যস্ততায় ভরপুর৷ দেশের মাটি থেকে দূরে গিয়ে বসবাস, সেই সাথে জীবনের কৃত্রিমতা মানুষের মনকে আন্দোলিত করে তুলে৷ নিজ মাটির জন্য মানুষের মন আকুল হয়ে উঠে৷ স্মৃতিতে ভরিয়ে তুলে জীবনের সুখময় ঘটনাগুলো৷ ভাবনার আবেশে  হারিয়ে যায় মানুষ৷ কেউবা রচনা করে কবিতা, গল্প কিংবা উপন্যাস৷ কেউবা গুনগুনিয়ে সুর তুলে নিজের ভায়োলিনে৷ প্রবাসী কবিদের কবিতায় ফুটে উঠে দেশকথন, দুঃখকথন, সুখকথন, স্মৃতিকথন ইত্যাদি নানা বিষয়৷

কবি ফাহমিদা ইয়াসমীন বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার এক কৃতি সন্তান৷ বর্তমানে তিনি লন্ডনে প্রবাস জীবন পার করছেন৷ দেশমাতৃকার প্রতি তাঁর রয়েছে প্রচণ্ড নাডির টান৷ প্রিয় স্বদেশ, গ্রাম্য পরিবেশ, জ্যোৎস্না মাখা রাতের রূপালী পর্দা, প্রিয়মুখ সবই এখন তাঁর চোখের অন্তরালে; মনকে হাতছানি দেয় নানারূপে; ব্যাকুল করে তুলে তাঁর মন৷ বাঙালি, বাংলাদেশ, বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর রয়েছে প্রচণ্ড ভালোবাসা৷ তাইতো তিনি ইংরেজ ভূখণ্ডে গিয়েও ভুলতে পারেননি বাংলাকে৷ নিজের ভাষার অবিরত রচনা করে যাচ্ছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস৷ এ পর্যন্ত তাঁর দুটি একক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই সাথে কয়েকটা যৌথ গ্রন্থও আলোর মুখ দেখেছে৷ অমর ২১শে বইমেলা ২০১৮ তে সিলেটের প্রাকৃত প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘নীলিমার প্রেম’। প্রকাশক:- আব্দুল্লাহ আল মামুন৷ ৮০ পৃষ্ঠার এ বইটিতে মোট ৭২টি কবিতা স্থান পেয়েছে৷ বইটির প্রতিটি কবিতাই গভীর অর্থ বহন করে৷ এ নিবন্ধে কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো৷

মানবজীবনের সাথে আধ্যাত্মিকতা বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ প্রতিটি মানুষ পার্থিব জীবনে পুণ্য কাজ করে পরজীবনে স্বর্গ লাভের আশায়৷ দিদার লাভ করতে চায় প্রিয় রবের৷ কবিও তাঁর প্রিয় রবের দিদার লাভ করতে চান৷

‘রিক্ত হস্তে চাইনা যেতে
ওগো দয়াময় তুমি দয়া করো৷
সেই পথের দিশা দাও যে পথ পূর্ণতায় ভরা।
তোমার প্রেমে মগ্ন রাখো’ 

একাকি জীবন বড়ই একঘুঁয়ে৷ মানুষ যখন তাঁর প্রিয়জন থেকে দূরে চলে গিয়ে একাকিত্ব জীবনের ফাঁদে পা দেয় তখন সে সমগ্র জগতকে টুকরো টুকরো করে কষ্টের কষ্টি পাথরে ঘষে ঘষে বিশ্লেষণ করে৷ অগোছালো ভাবনাগুলোকে কালের দর্পণে দৃশ্যমান করতে রচনা করে কবিতা|  কবিও তাঁর প্রবাসজীবনে ভাবনার বালুকরাশিকে সাজান কবিতার পিরামিডে৷

‘আজকাল হৃদয়টা বড্ড এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে
রাত গভীর হয়ে এলে এক অজানা উন্মাদনায়
মগ্ন হয়ে থাকি৷

------- জানিনা এসব ভাবনায় কতকাল মগ্ন থাকবো
হয়তো আজীবন আড়ষ্ট মনে ভেবে ভেবে
কাতর হয়ে সাজাবো কবিতার কোলাহল।’
‘কবিতার কোলাহল’

আপন মাটি, যে মাটিতে মানুষ তাঁর শৈশব, কৈশোর কাটায় সে মাটির প্রতি তাঁর থাকে নাড়ির টান৷ এ মাটির প্রতি কখনো বিচ্ছেদ ঘটেনা৷ কবি প্রবাস জীবনে আপন মাটির প্রতি তাড়িত হয়েছেন৷ সেই তাড়নার পরিচয় মিলে তাঁর কাব্যিক ভাবনায়৷

‘যত দূরে থাকি বারবার কাছে টানে মাটির ঘ্রাণ
----------বারবার ফিরে পেতে চাই
অমলিন স্মৃতিময় বাংলা মাটির সবুজাভ সুন্দর।’
‘মাটির ঘ্রাণ’

প্রকৃতির সাথে বাঙালি মনের রয়েছে গভীর সখ্য৷ বর্ষার মায়ামাখা আশীর্বাদে প্রকৃতি নবরূপে সজ্জিত হয়৷ প্রকৃতির এমন রমণীয় রূপ দেখে কবি হৃদয়ও আনন্দে নেচে উঠে৷ তাইতো বর্ষার সৌন্দর্য তিনি বন্দি করেন কবিতার ফ্রেমে৷

‘এসেছে আষাঢ় কদম ফুটেছে ডালে
বিমুগ্ধ মনে শুনছি বৃষ্টির গান
---------- প্রকৃতির নবসাজ দেখে মনে বাজে আনন্দসুর৷'
                    'আষাঢ়ের অনুভূতি’

দুঃসময়ে মানুষ সান্নিধ্য চায় প্রিয়জনের৷ দুর্ভাগা এ সময়টাতে মানুষ তাঁর আপনজনের ছায়া পেতে চায়৷ নিকষ কালো অমানিশা যখন মানুষের জীবনে নেমে আসে তখন সে প্রিয়জনের একটুখানি সাহায্যের প্রত্যাশায় থাকে৷ কবিও তাঁর জীবনের প্রতিকূল সময়টুকু কাটিয়ে দিতে চান প্রিয়জনের হাত ধরে৷ একান্ত আপনভাবে পেতে চান প্রিয়জনকে দুঃসময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে৷ 

‘ঘোর অমাবস্যায় তোমার চোখের আলোয় খুঁজে নেবো পথ
----------- দূরের দিগন্তে লীন হবো প্রেম আয়োজনে।
----------- মধুচন্দ্রিমায় কেটে যাবে জগতের যাবতীয় জঞ্জাল।’
‘অমাবস্যায় দেখা হবে চাঁদের আলো’

‘নীলিমার নীল’ গ্রন্থটির নাম কবিতা। ভালোবাসা যখন মানুষের সুতোয় ধরা দেয় তখন সে জগতের যাবতীয় জঞ্জাল ভুলে যায়৷ প্রিয় মানুষটির সাথে কাটিয়ে দিতে চায় ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর৷ পৃথিবী হয়ে উঠে স্বর্গময়৷

‘নীলিমা বলে ডাকলে আমায়, মন চলে যায় নীলাচলে
----- তোমার চোখে দেখি আকাশবাতাস চিরসবুজ হবে
সারাবিশ্ব যেন সুখের নীলাকাশ।’
                   ‘নীলিমার প্রেম’

প্রবাস জীবনের একাকিত্ব কবির ভাবনাকে করে তুলেছে শৈল্পিক৷ তাঁর এসব ভাবনার সুগন্ধ কাব্যিকরূপে স্থান পেয়েছে বইয়ের পৃষ্ঠায়৷ বইটির প্রতিটি কবিতার শব্দচয়ন বেশ ভালো৷ আমি বইটির পাঠক প্রিয়তা কামনা করছি।

লেখক : নাসিম আহমদ লস্কর
শিক্ষার্থী : বিবিএ প্রোগ্রাম
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড