• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

বই আলোচনা

অ্যালিস মুনরোর ‘দ্য প্রোগ্রেস অব লাভ’

  জুলফিকার হায়দার ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:০৯

প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : দ্য প্রোগ্রেস অব লাভ

১৯৬৮ তে কানাডীয় প্রকাশনী থেকে ছোটগল্প সংকলন Dance of the Happy Shades-এর প্রকাশনা দিয়ে মুনরোর লেখক জীবনের সূচনা (এ বইটি ১৯৭৩ সালে আমেরিকা থেকেও প্রকাশিত হয়েছিল)। সেই থেকে শুরু করে এর পর একে একে তিনি লিখে গেছেন Lives of Girls and Women, Something I’ve Been Meaning to Tell You, The Beggar Maid, The Moons of Jupiter আর নতুন সংকলন, The Progress of Love। প্রথম গল্পগ্রন্থ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অ্যালিস মুনরো নাতিদীর্ঘ গদ্য রচনায় মনোনিবেশ করেন যাতে তিনি একেবারেই অখ্যাত নর-নারীর জীবনকে, বিশেষত ওন্টারিওর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের নারীকে চিত্রায়িত করেছেন। Miles City, Montana গল্পে দেখা সেই দম্পতির মতো তার চরিত্ররা যখন অন্যত্র বসবাস করে তখনো তাদের হৃদয়জুড়ে জেগে থাকে ওন্টারিও, তাদের ঘর। 

যদিও বিগত কুড়ি বছরে মুনরোর গল্পের ভাববৈচিত্র বেশ খানিকটা ধুসরতায় আক্রান্ত, তবে তার গদ্য বলার ধরনটি খুব একটা বদলায়নি, যেমন বদলায়নি তার চরিত্ররা। সময়ের হিসেবে নিশ্চই তারা পুরনো হয়ে গেছে। এদের বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে লেখকের প্রথমদিককার একটি গল্প ”Walker Brothers Cowboy” (Dance of the Happy Shades) তে বর্ণিত অবশ্যম্ভাবী পরিণতি যেন পূর্ণতা খুঁজে পায়, ‘আমি আমাদের গাড়ী থেকে সবশেষ বিকেলে পেছনের দিকে বয়ে আসা অন্ধকারে নিমজ্জমান আর অদ্ভুত অবয়বধারী আমার বাবার জীবনকে অনুভব করি, অনেকটা একখণ্ড ভূমির মতে যার একটা জায়গা উঁচু হয়ে আছে, যতক্ষণ তুমি একে দেখেছ সে যেন করুণাভরে নিজেকে পরিচিত আর সাধারণ করে রেখেছে, কিন্তু যেইমাত্র তুমি ঘুরে দাঁড়িয়েছ, সে তাকে বদলে ফেলল এমন কিছু একটায় যে তুমি কখনো জানবে না, সব ধরনের আবহাওয়া আর দূরত্বের জন্য তুমি তা ভাবতেও পারবে না।’ The Progress of Love গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ১১টি গল্পের সবচে শক্তিশালী গল্পগুলোর সরাসরি উপজীব্য মূলত মরণশীলতা, আত্মপ্রতারণা আর নিয়তির ব্যাখ্যাতীত পরিহাসে সৃষ্ট চিত্ত-প্রহেলিকা ।

‘A Queer Streak’ শীর্ষক গল্পটি ভায়োলেট নামক এক উচ্চাভিলাষী তরুণীর এক বেদনাময় হাস্যরসাত্মক (অথবা হাস্যরসাত্মক বেদনাময়) উপাখ্যান। যৌবনে ‘হলী টেরর’ হিসেবে খ্যাত এই নায়িকার জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে তার এক মানসিক বিকারগ্রস্ত ছোট বোনের উদ্ভট আচরণে। ভায়োলেট এক পরিচিত লোভের ফাঁদে আটকে যায়, তার ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে সে সিদ্ধান্ত নেয়, প্রেমিকের চলে যাওয়া তার জীবনের কোনো দুর্দশা নয় বরং সুবর্ণ সুযোগ। সেই থেকে সে নিজের জীবন উৎসর্গ করে অন্যের জন্য বেঁচে থাকে। ‘এভাবেই ভায়োলেট তার বেদনাগুলোকে পেছনে পড়ে থাকতে দেখে। তার বুক থেকে একটা ভার নেমে যায়। যদি সে নত হতো আর তার আপন সত্বাকে আর তার জীবন কেমন হতে পারতো এসব ভাবনাকে আড়াল করে রাখত, সেই ভার, সেই কষ্ট, আর সেই অপমান সব জাদুর মতো মিলিয়ে যেত। আর তাকে এখনও কারো ভালো লাগতে পারে.. .. .. যদি সে যথেষ্ট প্রার্থনা করে, যদি সে যথেষ্ট চেষ্টা করে, সেটা সম্ভব হতেও পারে।” কিন্তু যেমনটি দেখা যায়- এই আত্মস্বীকারের মুহূর্তটিই ভায়োলেটের জীবনে সবচে তাৎপর্যময় হয়ে থাকে।’

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড