• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

গল্প : সাইকো

  ফারিয়া হাওলাদার ঐশী ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৪

গল্প
ছবি : প্রতীকী

অনেকদিন পর আজ শহরের আকাশে মেঘের আনাগোনা, বোঝা যাচ্ছে বৃষ্টি হবে। বাইরে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে, আর যাই হোক এই অবস্থায় ঘরে বসে থাকলে বৃষ্টির আমেজ ঠিকভাবে পাওয়া যাবে না। তাই আমি ছাদে চলে গেলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। হঠাৎ মনে হলো এমন সময়ে রাস্তায় হাঁটলে মন্দ হয় না। যেহেতু হালকা বাতাস এবং হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। বাইরে যাওয়ার আগে একবার জানালায় চোখ পড়লো, দেখলাম কেউ একজন দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিজছেন। লোকটিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে শখের বশে ভিজছে না। সে এক দৃষ্টিতে দক্ষিণ দিকের রাস্তাটার দিকে চেয়ে আছে, মনে হচ্ছে তিনি কারো অপেক্ষায় আছেন। আমি আর সময় নষ্ট না করে রেনকোট পড়ে বেড়িয়ে পরলাম ( ছাতা জিনিসটা কেনো জানিনা আমার খুব অপছন্দের)। তবুও সেদিন হাতে ছাতা নিলাম। ভাবলাম হয়তো অপেক্ষমাণ মানুষটির কাজে লাগতে পারে। বাইরে যেয়ে আমি লোকটিকে জিগ্যেস করলাম, ‘আপনি কি কাওকে খুঁজছেন?' 

সে উত্তর দিলো না, আমি আবার বললাম আপনি মনে হয় কারো অপেক্ষায় আছেন। তবে আপনি বৃষ্টি মোটেই উপভোগ করছেন না, আপনি এই ছাতাটা রাখতে পারেন পরে না হয় দিয়ে যাবেন। ওই যে সাদা রঙের দোতলা বাড়ি ওটা আমাদের। তাই আপনি ছাতাটা নিতেই পারেন। লোকটি এবার ও কিছু বললো না, তবে ছাতাটি নিজেই হাত থেকে নিলো। আমি ভাবলাম পাগল নাকি? নাকি সভ্যতা-ভদ্রতা শেখেনি! ভাবতে ভাবতে আমি অনেকটা হেঁটেছি হঠাৎ পিছন থেকে ডাক শুনতে পেলাম। দেখলাম সেই লোকটি ছাতার নিচে দাড়িয়ে আছে। সে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসলো, তবে তখন আমি কোনো কথা বলিনি। সে জানতে চাইলো আমার নাম কি? আমি উত্তর দিলাম, ‘সিনথি জামান’। আমি তার নাম জানতে চাওয়ার আগেই সে আমাকে বললো,  আমি নাকি বেশি বুঝি! আমি রেগে তাকে বললাম আমি বেশি বুঝি মানে?

- বেশিই বোঝেন। আমি কি আপনার কাছে ছাতা চেয়েছিলাম?

- ওওওও বাবা! এখন দেখছি কারো সাহায্য করা অপরাধ। দিন আমার ছাতা ফেরত দিন!

- কেমন মেয়ে আপনি? ছাতা দিয়ে এখন আবার ফেরত চাইছেন!

- কি আজব! ছাতা দিলেও সমস্যা আবার চাইলেও সমস্যা! আপনি কি পাগল?

- উহু! ছাতা দিতে এসেছিলেন সেটা আপনি বেশিই বুঝেছিলেন তবে দেয়ার পরে ফেরত চাওয়াটা আপনার অন্যায়!

- আমাকে ঠিক-ভুল শেখাতে আসবেন না। আপনি নিজেই সৌজন্যতা জানেন না, জানলে অন্তত ছাতা নিয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানাতেন। সেটা না করে উল্টো আমাকেই বলেন আমি নাকি বেশি বুঝি!

- আপনি দেখছি রাগ ও করেন!

- আপনি আপনার রাস্তা মাপেন। সাহায্য করতে এসে দেখছি ফেঁসে গেলাম!

- আমার নাম রেহান।

- তো? আমি কি করবো আপনার নাম শুনে? বললাম তো আপনি আপনার রাস্তা মাপেন।

- সরি।

- সরি কেনো?

- আপনাকে রাগানোর জন্য!

- আচ্ছা, এবার আপনি আসতে পারেন।

- জানেন তো চার বছর পর আজ কাওকে সরি বললাম।

- আশ্চর্য! আপনি কি করেছেন, কবে করেছেন এসব শুনে আমি কি করবো? আপনি আমাকে একা ছেড়ে দিন। বৃষ্টিতে আমি একা আমার মতো রাস্তায় হাটতে চাই।

- বৃষ্টি আপনার খুব পছন্দ?

- হুম।

- জানেনতো! মেঘলাও বৃষ্টি খুব ভালোবাসতো।

আমি মনে মনে ভাবতেই লাগলাম রেহান নামের লোকটি নিশ্চই পাগল। কখন কি যে বলে যাচ্ছে! আমি তাড়াতাড়ি হাটতে লাগলাম। তবে সে পিছু ছাড়লোনা। বলা শুরু করলো আবার,

- জানেন শেষ চারটে বছরে কেউ আমায় বৃষ্টির দিনে ছাতা এগিয়ে দেয়নি।

- কেনো?

- ছোটবেলায় পরিবারের সবাইকে হারাই তারপর অনেক কষ্টে ফুপুর কাছে মানুষ হই। ফুপু দেশ ছেড়েছেন আট  বছর আগে। তারপর নিজেই নিজের মতো ছিলাম। হঠাৎ আমার জীবনে মেঘলা এলো। অনেকটা ভালোবেসে ছিলাম। সে বৃষ্টিতে ভিজতো তবে একা ভিজতে চাইতো না। তবে আমার আবার বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগতো না। তাই সে ভিজতো আর আমাকে ছাতা এগিয়ে দিয়ে বলতো চলো হাটি। এভাবেই চলছিলো বেশ...
- তারপর? সে কোথায়?

- চির নিদ্রায় শায়িত। জানেন আমরা বিয়েও করেছিলাম তবে মাত্র ছয় মাসের ছিল সে সংসার। এক বৃষ্টির রাত কেড়ে নিলো তাকে।

 (কথাটি শুনে কিছুটা চমকে উঠলাম এবং তারদিকে  শুধু চেয়ে রইলাম)

- আপনাদের বাড়ির ঐদিকে যে, দক্ষিণ দিকের রাস্তাটা সেখানেই তাকে হারিয়েছিলাম। তাই তো আজও পথ চেয়ে থাকি যদি সে কখনো কোনো বৃষ্টির দিনে আমায় ক্ষমা করে আমায় দেখা দেয়!

- ক্ষমা?

- হ্যাঁ, ক্ষমা। তাকে যে আমিই গলা টিপে হত্যা করেছিলাম শুধু মাত্র সন্দেহের বশে এবং আমিই তাকে মাটির নিচে রেখে এসেছিলাম। সেদিন আমরা গাড়িতে করে ফিরছিলাম। মেঘলা গাড়ি থামাতে বলে বৃষ্টিতে ভিজতে লাগলো এমন সময়ে তার ফোনে কয়েকটা অশ্লীল ম্যাসেজ আসে। তবে তা আনসেইভড নম্বর থেকে এসেছিল। আমি তাকে কিছু জিগ্যেস না করেই তাকে হত্যা করেছিলাম। তাকে খুব বেশি ভালোবেসে ছিলাম আর সে ছাড়া তখন আমার কিছুই ছিল না। তাই বেইমানি সহ্য হয়নি। পরের দিন ভাবলাম মেঘলা একা কেনো শাস্তি পাবে, অপর জনের ও পাওয়া উচিত তবে। তাকে তাকে খুঁজে বের করার জন্য যখন খবর জোগাড় করছিলাম তখন জানতে পারি ম্যাসেজ আসলে রং নম্বর এ চলে এসেছিলো। যখন জানতে পারি তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আমি কথাগুলো শুনে রীতিমত কাঁপতে কাঁপতে বেহুশ হয়ে গেলাম। যখন চোখ খুললাম দেখতে পেলাম আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি, বাবা নাকি আমাকে নিয়ে এসেছে!

পুনশ্চ : রেহান একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি যে সেইদিন মেন্টাল হসপিটাল থেকে পালিয়ে এসেছিলো।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড