• রোববার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩০  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

'লেখালেখি আমি নিজের জন্য করি, মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য লেখি'

  সাকি সোহাগ

০৫ অক্টোবর ২০২৩, ১৮:৩৮
সাজেদুর আবেদীন শান্ত

সাজেদুর আবেদীন শান্ত একাধারে কবি, ফিচার লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী। তবে নিজেকে কবি হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। জন্ম গাইবান্ধার সাঘাটায়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার ফিচার প্রদায়ক হিসেবে কাজ করছেন। ভালোবাসেন ভ্রমণ করতে। তার প্রকাশিত কবিতা বই— 'আষাঢ়, তুই এবং মৃত্যু' ও 'স্নিগ্ধ ভোর অথবা মৃত্যু'। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সম্পাদনা করছেন শিল্প সাহিত্যের সাময়িকী 'উন্মেষ'।

সম্প্রতি লেখালেখি, সমসাময়িক বিষয় ও বই প্রকাশ নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক অধিকারের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক সাকি সোহাগ—

দৈনিক অধিকার: কেমন আছেন শান্ত?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: এইতো আছি। বেঁচে আছি, ভালো আছি।

দৈনিক অধিকার: লেখালেখি কেমন চলছে?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: চলছে ভালোই। ইদানীং একটু কম লিখছি। পড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। বই কম পড়লেও অনলাইনে বিভিন্ন সমসাময়িক ও অগ্রজ কবি, লেখক, গবেষকদের কবিতা, গল্প, কলাম, সাক্ষাৎকার পড়ছি। তাদের নিয়ে স্মৃতিচারণও পড়ছি।

দৈনিক অধিকার: আপনি তো প্রচুর ঘুরে বেড়ান, এ পর্যন্ত কতগুলো জেলা ঘোরা হলো? এই ঘোরাঘুরি নিয়ে কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: হ্যা। ঘোরাঘুরি করা হয়। সুযোগ পেলেই ঘুরতে বের হই। আসলে ভ্রমণ আমার মৃত্যুর মতো প্রিয়। ঘোরাঘুরি ছাড়া এখন আমার একদম ভালো লাগেনা। তবে যে অনর্থক ভাবে ঘুরছি বিষয়টি এমন না, ভ্রমনের উপর শীঘ্রই আমার একটা বই আসবে। আশাকরি ২০২৫ এর বইমেলাতেই পাঠকদের হাতে বইটি তুলে দিতে পারবো। তবে এখনও বিভিন্ন পত্রিকায় ভ্রমন নিয়ে ফিচার লিখে চলছি। বলতে পারেন একসাথে তিন লাভ। মানষিক প্রশান্তি, ভ্রমণ ফিচার লিখে অর্থ আয়, আর বইতো বেড়চ্ছেই। আর বাংলাদেশ ভ্রমন প্রায় শেষের পথে। যেটুকু বাকি তা আগামী দুইমাসেই শেষ হয়ে যাবে আশা করছি।

দৈনিক অধিকার: জ্ঞান অর্জনের বেশ কিছু মাধ্যম আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, ঘুরে ঘুরে মানুষ দেখা। যেটা আপনি করেন। এর বাহিরে কি আপনি কিছু করেন?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: একেকটি মানুষের মুখ আমার কাছে একেকটি উপন্যাস। একজন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে, তার সঙ্গে কিছুক্ষণ মিশলে বা চলতে ফিরলে মনে হয় একটি উপন্যাস পড়া শেষ করলাম। তাই চেষ্টা করি যেখানেই যাইনা কেন সে অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে অন্তত কিছু সময় কাটানোর, তাদের নিজেস্ব সংস্কৃতি, আঞ্চলিক ভাষা সম্পর্কে জানার জন্য। এছাড়াও আরও যেটা করি তাহলো যে যায়গায় ঘুরতে যাই ওই এলাকার স্থানীয়/আঞ্চলিক খাবার গ্রহণ করা। আমি মনে করি প্রধানত দুইভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়, এক মানুষের মুখ দেখে বা মানুষের সঙ্গে মিশে, দুই বই পড়ে।

দৈনিক অধিকার: 'আমি যখন মদ খেয়ে সত্য বললাম, লোকে তখন আমাকে মাতাল বললো' আপনার লেখার গভীরতা বেশ ভাবায়। আপনি লেখেন কেন?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: এটা বেশ কঠিন প্রশ্ন। লেখি কেন? কেনো লেখি নিজেই তো জানিনা। হয়তো অন্য কিছু করার ক্ষমতা নেই বলে লেখি। তবে এইটা বলতে পারি লেখালেখি আমি নিজের জন্য করি, মানুষিক প্রশান্তি লাভের জন্য লেখি।

একটা ঘটনা বলি, আমি যখন ক্লাস নাইনে তখন কবিতা লিখে বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠাতাম। বগুড়ার লোকাল পত্রিকা চাঁদনী বাজারে বেশিরভাগ সময় লেখা পাঠানো হয়েছে। চাঁদনী বাজারের সাহিত্য পাতা বের হতো প্রতি শুক্রবার। তখন সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন কবি সিক্তা কাজল। তো আমার কাজ ছিলো লেখা পাঠানো আর শুক্রবারে খুব সকালে উঠে পত্রিকার খোঁজ করা। প্রতি শুক্রবারই প্রায় খুব সকালে উঠে পত্রিকা কিনতাম কিন্তু লেখা পেতাম না। এভাবে অনেকদিন চলার পর হুট করে পত্রিকায় নিজের নাম দেখতে পেলাম। তখন তো আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। অনেকটা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। সাথে সাথে বেশকয়েকটি পত্রিকা কিনে নিলাম। কিনে এসেই প্রথমে আমার বাবাকে দেখালাম। আমি যতটা না আগ্রহ নিয়ে বাবাকে দেখালাম ততটা আনন্দ তিনি মনে হয় পেলেন না। তার কাছে মনে হলো খুব সামান্য বিষয়। তো আমি খানিকটা মনখারাপ করে রইলাম। বাহিরে গেলাম। বাহির থেকে এসে দেখি আব্বু নেই। কয়েক কপি পত্রিকাও নেই। পরে আম্মু বললো, তোর আব্বু পত্রিকাগুলো নিয়ে গ্রামের বাড়ি গেছে। আমি তো বুঝলাম না, ব্যাপারটা। যে কোনো আগ্রহ দেখালো না সে আবার পত্রিকাগুলো নিয়ে বাড়ি গেলো কেন? পরে কোনো এক সময়ে আমিও গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর অনেকেই বলছিলো, তুমি নাকি লেখালেখি করো, পত্রিকায় তোমার লেখা পড়লাম। তোমার বাবা পত্রিকা এনে গ্রামের অনেককে তো দেখাইছে! শুধু তাই না আমার প্রথম বই প্রকাশ হওয়ার পর আব্বু কয়েকটি বই আমাকে না বলেই গ্রামে নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসছে। পরে বিষয়টি অনেকেই আমাকে বলেছে। বলতে পারেন লেখালেখি করার এইটাও একটা কারণ। আর আমার লেখায় গভীরতা আছে কিনা তা জানিনা, আপনারা পাঠক, এই বিষয়ে আপনারাই ভালো বলতে পারবেন।

দৈনিক অধিকার: বর্তামান আমরা দেখতে পাই, বাংলা সাহিত্য দুইটা ভাগে বিভক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ফেসবুকীয় সাহিত্য। ফেসবুকীয় সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের কতটা কাজে আসছে বলে আপনি মনে করেন?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: দেখুন, আমার কাছে সাহিত্য সাহিত্যই। এখানে ফেসবুকীয় কি বা অন্য কোনো বিষয়ইবা কি! তবে হ্যা, ফেসবুকের সাহিত্যকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের লেখা খুব সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া যায়। পাঠক খুব সহজেই পড়তে পারে। তবে আরেকটি বিষয় হলো কপিবাজদের দৌরাত্ম্য। ফেসবুকে কোনো লেখা খুব সহজেই কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া। এছাড়াও আরেকটি সমস্যা হলো লেখকের চেয়ে ফেসবুকের সাহিত্যগ্রুপের সংখ্যা বেশি। যা আমার কাছে একদম বাজে লাগে। শুধু তাই না এই গ্রুপগুলো থেকে আবার আজকের শ্রেষ্ঠ লেখা, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ লেখা এগুলো নির্বাচিত করে অনলাইনেই সার্টিফিকেট দেয়। এই বিষয়টিও আমার কাছে খুব দৃষ্টিকটু লাগে। এগুলো কমানো উচিত। সর্বোপরি এগুলো বাদে ফেসবুকীয় সাহিত্যকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি।

দৈনিক অধিকার: কবিতা কবিকে লিখতে বাধ্য করে! আপনার মত কী?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: এই কথাটির সাথে আমি পুরোপুরি একমত। কবিতাই কবিকে লিখতে বাধ্য করে। মনের ভিতর যখন কবিতার ছন্দ খেলা করে তখন বাধ্য হয়ে একজন কবি তা লিখে ফেলে কবিতায়। এক্ষেত্রে কবি'রা অসহায়, তারা কবিতার কাছে অসহায়। কবি'রা গর্ভবতী নারীর মতো। কবিতা না লিখলে তারা যেনো গর্ভবতী নারীর মতো প্রসববেদনায় ছটফট করে। তাই আমি আপনার কথার সাথে একমত।

দৈনিক অধিকার: অনেকেই তো কবিতা লেখে, এগুলো কি আদৌ কবিতা?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: হাহাহা (অট্টহাসি)। আসলে আমার লেখাই কি আদৌ কবিতা নাকি এইটা তো আমি নিজেই জানি না। মানুষের কবিতাকে কি বলবো, বলুন! আমি নিজেই কবিতা লিখে আমার কয়েকজন অগ্রজ কবিকে দেখাই। এরমধ্যে কবি শফিক হাসান, কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, রাশেদুজ্জামান রণসহ আরও কয়েকজন। তাদের বলি, দেখেন তো আমার এইটা আদৌ কোনো কবিতা হলো নাকি! তবে আমি মনে করি, যে যাই লেখুক না কেন সেইটাই কবিতা। আমার কাছে কবিতা অনেকটা এক টুকরো গরম লোহার মতো। কারিগর নিপুন হাতে সেই লোহাকে পিটিয়ে তৈরি করে দা, বটি, কুড়াল। অথবা এই লোহাকে পিটিয়ে দশজন তৈরি করছে দশটি বটি। তবে প্রত্যেকটা বটি দেখতে এক হলেও দশটা বটির ডিজাইন দশরকম, দশটা বটির কোয়ালিটি দশরকম, দশটা বটির ধার দশ রকম। মূলত একজন লেখক শব্দের খেল দেখিয়ে, উপমার ব্যবহারে তার কবিতাকে সতন্ত্র রাখে।

দৈনিক অধিকার: এ পর্যন্ত আপনার দুইটি কবিতার বই এসেছে। আগামীতে বই নিয়ে কী প্লান?

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: বই নিয়ে কোনো প্লান নেই। আসলে আমি প্লান মাফিক চলতে পছন্দ করিনা বা চলিও না। কখন কি প্লান করি তার ঠিক নেই। তাই আগে থেকে বলা মুসকিল। তবে আমার কয়েকটি পান্ডুলিপি প্রস্তুত। অণু কবিতার একটা পান্ডুলিপি, এইটা হয়তো সামনের বইমেলাতেই আসবে। অন্যগুলো হলো উদ্যোক্তা বিষয়ক 'উদ্যোক্তার সাত-সতের', 'বিসিএস জয়ের গল্প'। আশা করছি খুব শীঘ্রই বইগুলো প্রকাশ হবে। পাঠকদের হাতে পৌঁছে যাবে।

দৈনিক অধিকার: আপনার জন্য শুভ কামনা। ধন্যবাদ। সাজেদুর আবেদীন শান্ত: আপনাকেও ধন্যবাদ।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড