• সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মানুষ- আমার প্রাকৃত কবিতা

  আঁখি সিদ্দিকা

১৩ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৫৭
বিমূর্ত চিত্রকলা
অলঙ্করণ : আইয়ুব আল আমিন

‘আধখানা মুখ বাইরে রেখো আধখানা মুখ অন্ধকারে’ -শঙ্খ ঘোষ

সেই ছোট্টবেলার আমি- যখন আলো-আঁধার কিছুই বুঝি না, কবিতা-অকবিতা কিছুই না, কেবল- ‘ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বুনোফুল’; বুনোফুল যেমন ছন্দে দোল খায় আনন্দ পায়, তেমনি আমি কেবল সবকিছুতে আনন্দিত হই, আত্মহারা হই সকল ছন্দে, সকল কবিতায়। প্রকৃতির দিকে তাকালেও দেখতে পেতাম চারপাশে ছন্দের ছড়াছড়ি। ছন্দ ছাড়া যেন সব মন্দ। ছন্দের গন্ধে যেন বুঁদ হয়ে আছে সব। গাছে আমের মুকুল এসেছে কী চমৎকার! সার বেঁধে আছে ছন্দে, মৌন বৃক্ষরাজি দাঁড়িয়ে আছে, পানিতে মাছ ভাসছে, বাগানে ফুল ফুটেছে, চাঁদ উঠছে, সূর্য ডুবছে, ধানখেতে ধান শিস দিয়ে যাচ্ছে, পাখি ডাকছে; সবকিছুতে মাত্রার হিসাব, ছন্দের দ্যোতনা। শুধু কি প্রকৃতিতে? মানুষ যে প্রকৃতির এই শিক্ষা তার জীবনে প্রতি পদে পদে ছন্দের তালে তালে রেখে যাচ্ছে। আমি অবাক হই, যখন দেখি অশিক্ষিত সবজি দোকানদার, ফলের দোকানদার কী অপরূপ ছন্দে তার সবুজ, হলুদ সবজি, ফলগুলো সাজিয়ে রাখে; তার তো কোনো মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ছন্দের জ্ঞান নেই। এমনিভাবে মাছওয়ালা, মুরগিওয়ালা, ছাইওয়ালা বা কাগজওয়ালা আমার জানালার পাশ ধরে হাঁক দিয়ে ডাকতে ডাকতে যায়- ‘এই লাগবে ছাই?’, ‘লাগবে কাগজ?’ ফেরিতে ডিমওয়ালার হাঁক, ‘ডিম ও ডিম, লাগবে ডিম?’ আবার বাসের হেল্পার ডাকছে- ‘দশ নম্বর, ছাইড়া গেলো মিরপুর’। এই যে হাঁক, ডাক, সুর, তাল, লয়, সবই শোনার দেখার ছন্দ। আর আমরা যখন শিশুটি থাকি, আধোবোলটি পর্যন্ত শেখা হয় না, তখনই আমাদের কানে মা-নানুরা ফিসফিস করে সুরের তালে যে ধ্বনিটি প্রবেশ করান, তা এই ছন্দের যোগ। ছন্দের স্বরূপটির নাম ছড়া বা কবিতা। মা-মাসীর কাছে আমরা কখনো চাঁদ, কখনো ফুল হয়ে উঠি। আমাদের দোলনাখানি দুলিয়ে এই ছন্দের তালে দোল দেয়া হয়- ‘দোল দোল দুলুনি, রাঙা মাথায় চিরুনি’। ছড়ার দোলে দোল খেতে খেতে আমরা শৈশবে আসি- বই, জ্ঞান, পড়া, ব্যাকরণ কিছুই জানি না। স্কুলের চৌকাঠে পা রাখবার আগেই মা আওড়াতে থাকেন কানের কাছে সেই ছড়ার ধ্বনি। সেইভাবে শৈশবে, কৈশোরে কিছু ব্যঞ্জনাময় ধ্বনি শুনে শুনেই মুখস্ত হয়ে গিয়েছিলো, যা আজো আমি চোখ বন্ধ করলেই টের পাই। সেগুলো অনুভবে সব সময় আছে। এখনো মস্তিষ্কে, মননে বুনোফুলের মতো দোল দেয়। খুউব মন খারাপ হয়ে গেলে মন আপন মনেই ওগুলো মাথার মধ্যে অন করে দেয়। মায়ের সেই আবৃত্তি করা কখনো ছড়া কখনো কবিতা এখনো আমায় বিভোর করে। তখনো কবিতা বা ছড়ার আলাদা মানে বুঝি না। ছন্দের মিষ্টি গন্ধগুলো আমার চারপাশে গন্ধ ছড়াতো। ছড়ায় ছড়ায় আমি আবিষ্ট হতাম। অনেক ছড়ারই তখন মানে বুঝতাম না। কেবল অন্ত্যমিলের দ্যোতনায় নূপুর বাজতো কানে কানে। একটু বড় হয়ে পড়তে শিখে একটু একটু বুঝতে পারতাম। আমাদের বাসায় মায়ের জন্যই নতুন বই আসতো। আর আমার জন্য স্পেশাল ছড়ার, কবিতার বই। রঙিন মলাট, ভেতরে ছবি আঁকানো, গন্ধওয়ালা বই। এক নিমিষে পড়ে ফেলা আর মুখস্ত করা ছিলো তখনকার ব্রত। এভাবে শিখে গেছিলাম অনেক কবিতা। মজার, অকারণ কারণের, দেশপ্রেমের, বিদ্রোহের, স্বাধীনতার, ভালোবাসার কত ছড়া কত কবিতা প্রিয় হয়ে গেঁথে আছে আমার পরানের গহীনে। একাকী গুনগুনিয়ে আবৃত্তি করি নিজের মতো করে। বইয়ের তাক থেকে কেন যেন প্রিয় বইগুলোই হারিয়ে যায় বার বার! তাই অন্তর্জালেই ব্যক্তিগত পুকুর খনন করতে যেয়ে প্রিয় কবিতা জলে নিরিবিলি সাঁতার কাটতে গিয়ে ভাবি আমার কবিতা ভাবনা কী...

ভেতর থেকে একটা কথাই আসে- প্রকৃতি আর প্রকৃতির আড়ালে বেড়ে ওঠা আমার শৈশব আমার কৈশোরের মাথা দোলানো সেই ছন্দ, যা আমার প্রথম লেখা; কোনো এক ঘটনা ছন্দ আর শব্দের দুয়ে লিখে ফেললাম। সবাই বললো কবিতা। আর আজ বুঝি সেই কাঁচা হাতের গোটা লেখা কেমন করে কবিতা বা ছড়া হয়ে উঠেছিলো। তাই সেই ছেলেবেলার মতো ভাবনাটা আমার রয়েই গেলো যে, আমার কবিতার ঈশ্বর আমার প্রকৃতি। কোনো কবিতাই আমার আমাকে প্রেসারাইজড করে না, বাধ্য করে না, কবি হয়ে ওঠার জন্য তাগিদ দেয় না... এ যেন কোনো পাঠকের জন্যও না। এ কেবল আমার। আমার ভালোলাগা বা মন্দলাগা শব্দের দেয়ালে কেবল ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। গতকাল রাতেই আমার অনুজ আমাকে বলছিলো, তুমি কবিতা লেখো কেন? তোমার কবিতা হয় না; তোমার গদ্য বা গবেষণামূলক কাজ খুব ভালো, সেখানে সময় দাও। ওর কথা শুনে মুখটা ভার হয়ে উঠলো, মনটা একটু হলেও দুলে উঠলো... পরক্ষণেই নিজেকে বললাম, এ আমার একান্ত ভালোলাগা। এ কেবল আমার ভেতর থেকে উঠে আসা অনুভব। তারপর তা আমি; আমার অনুভব পাঠককে ছুঁতে পারলে পাঠক আর আমি একাকার হয়ে গেলে তা আমার উপরি পাওনা। তবে আমার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো নয়, আমি লিখতে চাই আমার আর পাঠকের ভালোলাগার অনুভবটুকুকে প্রশ্রয় দেবার জন্য। প্রকৃতির দেয়া শব্দের সাথে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা।

কিছুদিন আগে একটি বই পড়েছিলাম, বইটার নাম ÔDiscovering PoetryÕ. বইটির লেখক আমাদের জানাচ্ছেন যে, কবিতার raw material হলো human experience. মানুষের যে কোনো অভিজ্ঞতাই কবিতার বিষয় হতে পারে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাকে কবি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা করেন। prose statement ও poetry- এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য ঘটে যায় দু’টি কারণে- (ক) অভিজ্ঞতা অর্জনের পদ্ধতির কারণে, (খ) শব্দের কারণে। একই অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষ অর্জনের পর তার প্রকাশ বা মনোকাঠামোতে সেই অভিজ্ঞতার অবস্থান আর কবির অর্জনের প্রকাশ বা মনোকাঠামোর অবস্থান এক হয় না। তিনি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে অর্জন করেন। সাধারণ মানুষ সেই অভিজ্ঞতাকে যে ভাষায় বর্ণনা করেন, কবি সেই ভাষায় বর্ণনা করেন না। poetry is a special use of word অর্থাৎ সাধারণভাবে একটি শব্দকে আমরা দৈনন্দিন কথাবার্তায় ব্যবহার করি, কবিতায় সেই শব্দকে অন্যভাবে ব্যবহার করা হয়। যেমন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি কবিতা এরকম- ‘লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশি বাতাস’। উপমাটিকে বাদ দিলেও ‘বিদেশি বাতাস’ শব্দটি ভাষার ভিতরে রহস্যময়তার সৃষ্টি করেছে; যদি লেখা হতো ‘বিদেশি যুবক’, তাহলে তা হয়ে উঠতো স্পষ্ট আর রহস্যহীন। হয়ত হয়ে উঠতো গদ্য। কবিতার ভাষা নিশ্চয়ই মুখের ভাষা, কিন্তু মুখের ভাষা পুরোপুরি কবিতার ভাষা নয়। ÔDiscovering PoetryÕ বইটার আরেকটি লাইন খুব মনে পড়ছে- কবিতা হলো Ôa certain ordering of the experienceÕ অর্থাৎ কবিতায় কবি যেসব অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন, তা সুবিন্যস্ত। এ কারণেই কবিতায় ছন্দের প্রয়োজন। ছন্দ কবির অভিজ্ঞতাগুলোকে সুবিন্যস্ত হতে সাহায্য করে। যে ছন্দের দ্যোতনা শৈশব থেকে রয়ে যায় আমাদের অন্তরালে কবিতার বীজ হয়ে। আমার কবিতায় ভাবনায় ছন্দের তাই আলাদা জায়গা আছে। ছন্দ মানেই শব্দের সাথে শব্দের অন্ত্যমিল নয়, এ আমরা সকলে জানি। আবেগ, চিত্রকল্প, শব্দ, ঘটনা বা অভিজ্ঞতা যেমন কবিতার জন্য অপরিহার্য, তেমনি ছন্দও অপরিহার্য। ছন্দ কবিতাকে মধুর করে তোলে। বিনয় মজুমদারের একটি লাইন- ‘মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়’- এ লাইনটি শাশ্বতবাক্য হয়ে উঠেছে, এই শাশ্বতবাক্য হয়ে উঠার কারণ ছন্দ। আবার অন্যদিকে ছন্দহীনতাও কবিতাকে সুন্দর করে, তবে ভুল ছন্দ কবিতাকে অকবিতা হয়ে উঠতে সাহায্য করে। অরুণ মিত্র তার ‘কুঞ্জ ও বাঁধাকপি’ কবিতাকে ছন্দহীন বলেছেন- ‘এ কী কম বাহাদুরি, কুঞ্জ! খাওয়াদাওয়া আর ভালোবাসা এই যে এক সঙ্গে আঁটো করে বেঁধে দিলে তোমার বাঁধাকপির পাতা দিয়ে।’

অলঙ্কারহীন, নিরাভরণ নির্ভার কবিতাও কবিতা হয়ে ওঠে। এক মুহূর্তের বিশেষ এক অনুভূতির প্রকাশও কবিতা। আসলে কবিতা চেষ্টা করে লেখা যায় না, ভেতর থেকে উঠে আসে। হেরমান হেস কোথায় যেন বলেছিলেন- Ôthe strength of every true feeling belongs to eternityÕ. অলঙ্কার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ঠিকই, কিন্তু অলঙ্কার প্রকৃত সৌন্দর্যকে আড়ালও করে। প্রকৃত সৌন্দর্য নগ্নতায়। যেমন- দেয়াল তুললেই ঘর ভেঙে ফেললেই পৃথিবী অলঙ্কারহীন এই কবিতা তার প্রকৃত সৌন্দর্য নিয়েই উদ্ভাসিত।

আসলে কবিতা কবিতাই। এ নিজের মতো করে আসে। এ নিজের মতো করে যায়। ওর এই আসা-যাওয়ায় কোনো বার্তা নেই। কোনো আগমনীধ্বনি নেই। যেন পর্দার আড়ালে ঘাঁপটি মেরে বসে থাকা আরেকটি হৃদয়। কবিতা ইতিহাসের চাইতে জীবনে অত্যাবশ্যক সত্যের বেশি কাছাকাছি। আমার কাছে কবিতা ভোরের ভেজা শিউলি, কখনো চটচটে প্রবল দুপুর। কখনো কনকনে ঠান্ডায় উষ্ণতা। আমার সন্তান আবার আমার অভিভাবক, কখনো আমার কাছে না আসা দুরন্ত প্রেম। সালভাদর কোয়াসিমন্দো’র মতো বলছি- ‘কবিতা সেই অনুভবের প্রকাশ, যা কবি তার অন্তর্গত ও ব্যক্তিগত বলে বিশ্বাস করেন, যা পাঠক আবিষ্কার করেন তার নিজের বলে।’

আর আমি এবং আমার কবিতার কথা একান্তই যদি বলি : সন্ধ্যার শুরুতেই যে আলো আমি দেখি, প্রকৃতিতে যে সবুজ পাতারা গজায় আর বুনোহাঁসেরা যখন উড়ে আসে বহু দূরের পথ, শেষে খুঁজে পায় একটু আশ্রয়, আমার কবিতাও তাই। আমার কবিতার ভাষার সাথে আমি উড়ে বেড়াই, দিগন্তে দিগন্তে। সে এখন আমার সাথে রিক্সায় রিক্সায় ঘোরে। মাঝে মাঝে রোদে পুড়ে খাক হয়ে ক্লান্ত হলে নেমে আসে খাতায়, নীল কাপড়ে মোড়া ডাইরির পাতায়। আমি আমার ভেতরের ছোট্ট কোমল আর দুর্লভ আমিকে যখন দেখি, তখন বিস্ময়ে আবিষ্কার করি আমার এই নতুন কবিতার। দেশে দেশে কালে কালে কবিতার জন্যে কী-ই না হয়েছে! নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে নামলেন প্রথম, লেখা হলো নতুন একটা কবিতা। শেকড়ে আমার বেঁচে থাকা ঈশ্বরকে যখন দেখলাম ড্রেনের পাশে শুয়ে থাকতে নাঙা, তখন তৈরি হলো আর একটি কবিতা। ভাঙনের গান অনেককাল আগেই শেষ হয়েছে; এখন গড়েপিটে নেওয়ার পালা। আদিমতর শব্দ বুকে বেঁধে আমি গেয়ে উঠলাম- বাঙলা। শত নদীর সুরের মোহে আটকে তাই আর গাওয়া হয়নি গান, এখন কবিতা লিখছি। কেবলই আমার কথা। নন্দন দিয়ে তো কবিতা হয় না। প্রাণে যখন গানের সুর, বেদনার সুর আর আনন্দের বন্যা বইতে থাকে, তখনই তো নতুন শব্দরা ভিড় করে, প্রকৃতি যেন একটি লাইন ঢুকিয়ে দেয় মাথার মধ্যে। অচেতন আমি ব্যথা পাই না, কিন্তু যন্ত্রণা হয়; তারপর লিখে উঠে মনে হয় যেন এ কবিতার প্রসববেদনা। আর তাই কবিতাকেই ভালোবাসি। কবিতাও সকল ক্লান্তি শেষে ফেরে আমারই নীড়ে। এরপর তো জেনেছি আমার কবিতার শরীর প্রথম ছোঁয়ার কথা। একান্তে খুব গভীরে সে স্পর্শের নাম অনুভূতির প্রকৃতি। অন্ধকারে এই প্রকৃতিই আমাকে শব্দ দেয় ক্ষুধা দেয় আর ক্ষুধা মিটানোর দায় নেয়। তখন একাকী- আমার ছোট্ট এই পায়ে অসাড় মাটি/ গেয়ে ওঠো কোন সুরে হাওয়া নদীর গান!

তারপরও আমি জানি, পৃথিবীতে যেদিন প্রথম আলো জ্বলেছিলো, সেদিনও আমি কবিতা লিখলাম। আমার এই কবিতার নাম- মানুষ!

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড