• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

অনু গল্প

গহন মায়া

নীহার চক্রবর্তী

  সাহিত্য ডেস্ক ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৪৭

অনু গল্প: গহন মায়া

ওপার বাংলার ফারুক এপার বাংলায় বেড়াতে এসেছে ওর এক ফেসবুকের বন্ধু মন্মথদের বাড়িতে। শুরুতে ওকে দেখে মন্মথর মা, বাবা আর দিদি খুব চমকে উঠলো। পরের ফারুকের ব্যবহারে তারা সবাই মুগ্ধ। মন্মথর তো আনন্দের শেষ নেই।

ফারুক মন্মথদের বাড়িতে ছিল চারদিন। তার মধ্যে একদিন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। ফারুক নিজে খেলে। ঢাকার মাঠে গিয়ে দেশের জয়ের জন্য চিৎকার করে অন্যের গলা কান ফাটায়।

এবার সমস্যা তৈরি হল। বাংলাদেশ ভালো খেলতে শুরু করলে ফারুন বারবার চেঁচাতে শুরু করলো। বেমালুম ভুলেই গেলো ও এখন ওর ভারতের মাটিতে। বন্ধু মন্মথ আর ওর পরিবারের সবাই ভারতের নাগরিক।

মন্মথ একবার খুব বিরক্তির সঙ্গে বলল ফারুককে, ‘তোমার বোঝা উচিৎ এ দেশ বাংলাদেশ নয়। ভারত। এ দেশ তোমাদের স্বাধীনতা পেতে সাহায্য করেছে একসময়।’
মন্মথর কথা শুনে ফারুক হেসে ফেললো।

ও হেসে-হেসে বলল, ‘সব মানছি । কিন্তু আমার মন-প্রাণ জুড়ে আমার প্রিয় দেশ। আমি এখানে দেশ-বিদেশ বুঝি না।’

সেই থেকে সে রাতে ফারুকের সঙ্গে মন্মথর এক ব্যবধান তৈরি হয়ে গেলো। ভারত জিতেছে সে ম্যাচে। ফারুক ভারতীও দলের প্রশংসা করলো বেশ। কিন্তু মন্মথ তা কানেও নিলো না। বিরক্তি আর বিরক্তি তখন ওর। মন্মথর বাবাও খুশী নয় ফারুকের ব্যবহারে।

সে রাতেই ফারুক সিদ্ধান্ত নিলো দেশে ফেরার । মনে মনে বলল, আর একদিন থাকা যেতো। কিন্তু আর এক মুহূর্ত থাকলে আমার দেশের অপমান। আর নয়। সকাল হলেই দেশের দিকে পা বাড়াচ্ছি।

তাই করলো ফারুক। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মন্মথকে জানিয়ে দিলো ওর সিদ্ধান্ত। মন্মথর তাতে কোন হেলদোল নেই। ওর বাবাও শুনল।
সে বিরস বদনে বলল, ‘ঠিক আছে।’
কিন্তু মন্মথর মা শুনে চমকে উঠলো। 

সে ফারুকের হাত ধরে সস্নেহে বলল, ‘আর একদিন থেকে গেলে হয় না, বাবা?’
ফারুক তখন ছলছল চোখে প্রায় অস্ফুট-গলায় তাকে বলল, ‘আর হয় না,মা। আমি আমার দেশের সম্মান বাঁচাতে মরীয়া। তার সাথে আপনার সম্মানও জড়িত। আপনার দেশ ছিল তো সেই পাবনা। তবে? আসি, মা। সবাই মিলে ভালো থাকবেন’
সেই প্রথম। সেই শেষ ফারুক আসে এপার বাংলায়। তারপর আর ভাবতেই চায়নি। অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল ওর। তাও হেলায় দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নিজের দেশের ধূলি-কণা দেহমনে মাখতে ও কি যে আনন্দ পায়। সে আর ভাষায় কহতব্য নয়।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড