• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কবি ও ছোটকাগজ সম্পাদক মাসুদার রহমান-এর সাথে আলাপচারিতা (শেষ পর্ব)

  তৌহিদ ইমাম

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০৩
কবি-সম্পাদক মাসুদার রহমান
মাসুদার রহমানের প্রতিকৃতি (ছবি : সংগৃহীত)

তৌহিদ ইমাম : মাসুদার ভাই, আপনার বেশ কিছু গদ্য আমি পড়েছি, বিচ্ছিন্নভাবে। কবির গদ্য বলতে ঠিক যা বোঝায়, আপনার গদ্যগুলো তাই। গদ্যগুলো পড়ে আমি বেশ মুগ্ধই হয়েছি। আমার মনে হয়, আপনার আরো বেশি গদ্য লেখা উচিৎ। আপনার কী মনে হয়?

মাসুদার রহমান : কখনো সখনো কিছু গদ্য লিখেছি। লিখি। অনেক ক্ষেত্রে সে গদ্য কবিতার প্রভাবমুক্ত হয় না। কেউ কেউ পাঠের পর বলেন, এ যেন কবিতা! সম্প্রতি আমার গদ্যচর্চার একটি সুযোগ করে দিয়েছে ‘চিহ্ন’ পত্রিকা। ধারাবাহিকভাবে ‘ব্যক্তিগত গদ্য’ লেখা শুরু করেছি ‘চিহ্ন’তে।

তৌহিদ ইমাম : ‘অপর’ নামে একটি ছোটকাগজ সম্পাদনা করেছেন আপনি, একসময়। আমার জানা মতে, দুটো সংখ্যা বেরিয়েছিলো ‘অপর’-এর। এরপর আর বেরোলো না। কেন মাসুদার ভাই? কাগজটি নিয়ে ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা কি আছে আপনার?

মাসুদার রহমান : ‘অপর’ ঘিরে স্বপ্ন ছিলো। কুমার প্রণব, হেলাল আনোয়ার, মাহফুজ মিঠুকে নিয়ে সে স্বপ্নযাত্রা শুরু করার পর তৃতীয় ইস্যুতে আটকে গেলো। আমার শরীর স্বাস্থ্যের জন্য খানিকটা এবং বিস্তর দূর বিচ্ছিন্ন (জেলা সদর থেকে ২৭ কি.মি., উপজেলা সদর থেকে ১৫ কি.মি.) আমার অবস্থান। টাকাপয়সাও বিষয়, আবার মাটি-কাটার মতো শ্রম, আমি পারিনি।

তৌহিদ ইমাম : আপনার নিজের শহর জয়পুরহাটের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যদি আমাদের ধারণা দিতেন...

মাসুদার রহমান : এ মুহূর্তে এখানে লেখায় আছে একঝাঁক নতুন লিখিয়ে। দু’একজনকে বেশ সম্ভাবনাময় মনে করি। যতন কুমার দেবনাথ সম্পাদিত ‘শিঞ্জন’ এবং মাহফুজুর রহমান ও মুস্তফা আনছারী সম্পাদিত ‘জট’ নামে দু’টি সাহিত্য পত্রিকা উল্লেখযোগ্য। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বসবাস সত্তর দশকের বিশিষ্ট কবি সুজন হাজারীর; এখনো সচল আছেন লেখালেখিতে, যদিও বর্তমানে তিনি ভীষণ অসুস্থ।

তৌহিদ ইমাম : মাসুদার ভাই, আপনি নব্বই কালখণ্ডের কবি। এই কালখণ্ডে অন্য কবিদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? কবি হিসেবে তাদের সাথে আপনার মৌলিক পার্থক্য কী বলে মনে করেন?

মাসুদার রহমান : নব্বই দশকেই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা কবিতার উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। কবিতার ন্যারেটিভটি এড়িয়ে এই দশকে কবিতাকে আরো শিল্পমণ্ডিত সংহতরূপে পেয়েছি। কাজটি আশির দশকের কয়েকজন কবির হাত ধরে শুরু হলেও নব্বইয়ের কবিদের হাতে তা পরিণত হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি বাংলা কবিতায় নিজ রক্তঘাম সমর্পণ করেছেন। ‘প্রধানতম কবি’, ‘শ্রেষ্ঠতম কবি’ কবি-কবিতায় এমন তকমা উঠিয়ে অনেকের কাজ মান্যতা পেলো। বাংলা কবিতার জন্য এ নিশ্চয় স্বাস্থ্যকর।

তৌহিদ ইমাম : কবিতার ঘোর এমনই এক ঐন্দ্রজালিক ঘোর যে, জাগতিক সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাতে ঘর-সংসারের প্রতি যে দায়দায়িত্ব, তাতে মাঝে মাঝে ব্যত্যয় ঘটে। আপনার ক্ষেত্রেও কি তাই ঘটেছে? ভাবী কিংবা ছেলের কোনো অভিযোগ আছে আপনার প্রতি?

মাসুদার রহমান : সবকিছু মসৃণ হবে, এমন ভাবনার কোনো কারণ নেই। তাও আবার শিল্পসাহিত্যের মতো ক্ষেত্রে। ম্যানেজ করে নিতে পারলেই হয়। কবিতা সংসারের কী কাজে লাগে? তারপরও যে মেনে নেয়, সে তো ভালোবেসেই মেনে নেয়, হয়ত কবিকে কিংবা কবিতাকে। আমি সেদিক থেকে সৌভাগ্যবান।

তৌহিদ ইমাম : ছোটকাগজের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়া। কিন্তু মাসুদার ভাই, বাংলাদেশে আসলেই কি প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গে যেমন আনন্দবাজার। যদি না হয়ে থাকে, তবে এখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার স্বরূপ কী?

মাসুদার রহমান : প্রাতিষ্ঠানিকতা তো বিবিধ প্রকারের। মনে করো, কেউ বা কারা জারি করে দিলো, ‘কবিতা এমন, এর বাইরে কিছু নেই’, এই মনোভাবটিকে তুমি কী বলবে? নতুনরা কবিতা করতে আসবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে, নতুন ভাষাভঙ্গি নিয়ে। সে ক্ষেত্রে দেখা গেলো, একটি চলমান পত্রিকা কিছুতেই তাকে মেনে নিতে চাইছে না। বরাবর সে যা ছেপে আসছে, তার অবস্থান থেকে কোনো নড়চড় নেই এবং সেই সনাতন ধারাটিকেই জারি রাখার সংকল্পবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে চলমান ওই কাগজটিকে কী বলবে? নতুন লিখতে আসা নতুন লিখতে চাওয়াদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম খুব প্রয়োজন। যদি অন্য কোনো কাগজ ওইসব নতুনকে প্রশ্রয় দেয়, তো সে চলমান পত্রিকাটির প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাবের বিরুদ্ধেই প্রশ্রয় দিলো। কিংবা আরো একটি নতুন ছোটকাগজ জন্ম নিলো। তাই বলা যায়, প্রাতিষ্ঠানিকতা নানা ক্ষেত্রে নানাভাবে বিদ্যমান। আনন্দবাজার নিঃসন্দেহে একটি যথার্থ প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্ত।

তৌহিদ ইমাম : আমাদের আড্ডা এখানেই ইতি টানতে হচ্ছে মাসুদার ভাই। এতক্ষণ সময় দেবার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার সৃষ্টিশীল সুস্থ জীবন কামনা করছি। ভালো থাকুন সবসময়।

মাসুদার রহমান : আবারও আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাই তোমাদের। সাফল্য কামনা করি দৈনিক অধিকার ও অধিকার নিউজের।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড