• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘অতি উত্তম সাহিত্যে আমিও এখন অংশীদার’ 

  সাহিত্য ডেস্ক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৪০
সাফায়েতুল ইসলাম এবং আকবর হোসেন রবিন
সাফায়েতুল ইসলাম এবং আকবর হোসেন রবিন (ছবি : সংগৃহীত)

করোনাকালীন সময়ে ঘরবন্দী অবস্থায় সাফায়েতুল ইসলাম এর ছোটগল্পের বই ‘লাবিবের বিভ্রম’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে গতিধারা প্রকাশনী। লেখক তার নতুন বই প্রকাশকালের অনুভূতি এবং সমসাময়িক সাহিত্য প্রসঙ্গে বিবিধ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন আকবর হোসেন রবিন এর সঙ্গে।

সম্প্রতি আপনার প্রথম বই ‘লাবিবের বিভ্রম’ প্রকাশিত হলো। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

আমাদের গভীর কিছু আবেগ থাকে যা অব্যক্ত। ‘লাবিবের বিভ্রম’ বইটি প্রথম হাতে পাওয়ার পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। ক’ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছিল প্রচ্ছদের উপর, আর আমি ফ্যালফ্যাল করে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল- সূর্যের আলোয় চিকচিক করতে থাকা চোখের জল বিন্দুটি ডায়মন্ডের ছোট্ট কণা, আর বইটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা তীব্র আলোয় জলমল করতে থাকবে সহস্রকোটি বছর ধরে।

বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখকদের বই প্রকাশের স্রোত থাকে, আপনি স্রোতের বিপরীতে গেলেন; এর পিছনে কি বিশেষ কোন কারণ আছে?

হঠাৎ করে মনে হলো আমি মারা যাচ্ছি। হাতে সময় নেই। পৃথিবীর বুকে পদচিহ্ন রেখে যাওয়া দরকার। মূলত সেই চিন্তা থেকে ‘লাবিবের বিভ্রম’ বইমেলার জন্য অপেক্ষা করেনি।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

মানুষ বই নিয়ে এতো সচেতন, তাদের এতো ভক্তি আগে জানা ছিল না। বিশেষ করে মানুষ করোনাকালীন ঘরবন্দী থাকায় বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে দিগুণ। মানুষের প্রচুর আগ্রহ দেখে মনে হল; হুট করে আমার বই প্রকাশটি সত্যি মোক্ষম সময় ছিল, মানে সঠিক সময়ে ঢিল মেরেছি।

আপনার বইয়ে গল্পের সংখ্যা তের, এই সংখ্যা নিয়ে কি বিশেষ কোন গল্প আছে?

লাবিব আমার মামাতো ভাই। আমি জেনেছি সে তের বছর বয়সে মারা গেছে, তাই বয়সের হিসাব মিল রেখে তেরটি গল্প দিয়ে বই প্রকাশ করেছি। পরবর্তীতে বইয়ের কাজ শেষে জানতে পারলাম লাবিবের বয়স মূলত চৌদ্দ বছরে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মারা যায়। এছাড়া আরো একটি যৌক্তিক কারণ আছে; আমি লাবিবকে শেষ দেখেছি তের বছর বয়সে। সে মূলত তের বছর বয়সে আমার স্মৃতিতে আঁটকে আছে, সে জন্য তেরটি গল্প রেখেছি।

আপনি এবং আপনার গল্পের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো কী?

প্রত্যেকটি গল্পের সময়কাল আলাদা, প্রেক্ষাপট আলাদা। পাঠক প্রতিটি গল্পে সম্পূর্ণ আলাদা করে স্বাদ পাবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি প্রত্যেকটি গল্পে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে। চেষ্টা করেছি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা গভীরতা তুলে আনতে। পাঠক পড়তে গিয়ে নড়েচড়ে বসবে, মানসিক পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে বড়সড় ধাক্কাও খেতে পারে।

নিজের লেখার প্রতি আত্মবিশ্বাস কতটুকু?

যেকোন কাজের আত্মবিশ্বাস সেই কাজটিকে আরো বেশী সহজ করে দেয়। ‘লাবিবের বিভ্রম’ বইটি তেমনই একটি আত্মবিশ্বাসী কাজ, যা আমাকে আরো ভালো লেখার জন্য অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এছাড়া এখানে সিনেমা নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের মত বলতে পারি; ‘আমি প্রতি মুহূর্তে আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বোঝাব যে, ইট ইজ নট এন ইমোজিনারি স্টোরি বা আমি আপনাকে সস্তা আনন্দ দিতে আসিনি।’

লেখার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, এই কথাটি অনেকে বলেন। সেক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতির কথা জানতে চাই।

যেকেউ চাইলেই খুব সহজে বই প্রকাশ করতে পারবে, কিন্তু একটি মানসম্মত ভালো বইয়ের পিছনে লুকিয়ে থাকে প্রচুর শ্রম আর অর্জিত সৃষ্টিশীল মেধা, যা অধ্যাবসায় ছাড়া সম্ভব না। লেখার জন্য তো আগে পড়তে হবে, জানতে হবে, শিখতে হবে। আমাকেও পড়তে হয়েছে- ভালো বই, মানুষ, নিজের চারপাশ। আমার কাছে মনেহয় এটি একটি গন্তব্যহীন জার্নি, সেই জার্নিতে বসে আমার গল্পগুলো লেখা।

পান্ডুলিপি গোছানের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে বেশি নজর দিয়েছেন?

আমার গল্পগুলো সব বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলো। আমি একেক সময়ে একেকটি গল্প লিখে ফেলে রাখি। খেয়াল করলাম এভাবে প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে, ধীরে ধীরে আমার গল্পের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরে বই প্রকাশের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পর গল্পগুলো কাছের বেশ কয়েকজনকে পড়তে দিয়েছি। গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একেকজন একেক দৃষ্টিকোণ থেকে পরামর্শ দিয়েছে। আমি নিজেও পাঠক হিসেবে বেশ কয়েকবার পাঠ করেছি, ভুল-ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছি। আমার টার্গেট ছিলো একটি পরিচ্ছন্ন বই প্রকাশ করার, যাতে পড়ার সময় পাঠকের মনের সাথে চোখেরও আরামবোধ হয়। পান্ডুলিপি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এসব আমার মাথায় ছিলো।

আপনি যা করতে পারেন না কিন্তু আপনার তৈরি চরিত্র তা করেছে, বইয়ে কি এমন নির্দিষ্ট কোন পছন্দের চরিত্র অছে?

হ্যাঁ, আছে। ‘নির্বান’ গল্পে মারজুক ঘুম ভেঙে নিজেকে ভিন্নভাবে আবিষ্কার করে। পুরো গল্পে সে বুঝতে পারে না আদতে মারজুক বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। পাঠক গল্পটি শেষ করে বিশাল ধাক্কা খাবে, কারণ মারজুকের সাথে যা ঘটছে তার সবকিছু ভিন্ন ডাইমেনশনে। মানব জাতি যুগ যুগ ধরে খুঁজে ফিরছে মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থান। মানূষ মারা গেলে কোথায় যায়? আমাদের মৃত্যুর পর কি হয়? এতোসব প্রশ্নের উত্তর দিবে নির্বান। মারজুকের ভেতর দিয়ে পাঠক আবিষ্কার করবে মৃত্যুর পরের অবস্থান। এতোকিছুর জন্যই বোধয় নির্বান গল্পের মারজুকের চরিত্রটি আমার ভীষণ প্রিয়।

একজন পাঠক হিসেবে যখন নিজের বই দেখছেন/ পড়ছেন, তখন বইটিকে কেমন মনে হচ্ছে?

এককথায় অসাধারণ। নিজের কাজে প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস আছে বলেই হয়তো এতো ভালো লাগছে। যতবার বইটির দিকে নজর পড়ে ততবার নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করি। আমি থাকবো না কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী আমার কাজটি থেকে যাবে, এটা ভাবতেই নিজের প্রতি ভীষণ গর্ববোধ হয়। এছাড়া মানব সম্প্রদায়ের জন্য অসীম ভালো কাজের সমুদ্রের মধ্যে আমিও একফোটা ভালো জল ঢেলে দিলাম। অতি উত্তম সাহিত্যে আমিও এখন অংশীদার। এই ভালো লাগা সত্যি অভাবনীয়, যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়।

ওডি

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড