• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির অব্যক্ত কথা

মিষ্টান্নের ইতিকথা

  নীলা হারুন

১৩ জুন ২০২০, ২২:৪০
মিষ্টান্নের ইতিকথা
প্রচ্ছদ

মিষ্টান্নের শুরুটা ঠিক কবে কীভাবে হয়েছিল, সেটা আমি ঠাহর করতে পারিনা। বোধকরি বহু আগের কিছু টুকরো টুকরো স্মৃতি আমার অবচেতন মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে সেগুলোর সমন্বয়ে মিষ্টান্নের জন্ম হয়েছে। এই স্মৃতিপটগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়- যার প্রথম ভাগের ঘটনাটিতে প্রত্যক্ষভাবে আমি জড়িত নই। একদিন আমার মা একইসাথে চা এবং ভাত রান্না করতে যেয়ে ভুলবশত ভাতের হাঁড়িতে চা পাতা দিয়ে দেন, দ্বিতীয় ভাগে রয়েছি আমি নিজে। তখন সিলেট শহরে নতুন একধরণের মিষ্টির দেখা পাওয়া যাচ্ছিল, আব্বু এসে বললেন মিষ্টিগুলো নাকি প্রকাণ্ড আকারের।

আমার জন্য সেই মিষ্টি একদিন বিকেলে আনা হল। আমি মিষ্টি খাওয়ার উত্তেজনায় তড়িঘড়ি করে নিজে নিজেই বাটি চামচ আনতে যেয়ে পা পিছলে পড়ে গেলাম। পড়ার পর আমি যে সাথে সাথে চিৎকার করে উঠিনি, বরং কিছুক্ষণ ভেবেছি চিৎকার করলে আমাকে ধৈর্যশীল না হওয়ার জন্য তিরস্কার শুনতে হবে নাকি পড়ে গেছি বলে তোষামোদ করা হবে- এটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। বাবা মায়ের মেজাজের যতপ্রকার সম্ভাব্য অনুমান করা যায় সবকিছু জ্যামিতির মত মেপে আমি তারপর আর্তনাদ করে জানাই যে আমি ভূপাতিত হয়েছি!

মিষ্টান্নের ইতিহাসের তৃতীয় ভাগটি তুলনামূলক করুণ। একদিন আমাদের বাসায় বৃদ্ধ দারোয়ান কোন এক কাজে এলে আমার মা তাকে পুডিং খেতে দেন। বৃদ্ধটি পুডিং খেয়ে শতমুখে প্রশংসা করলেন এবং খাবারটির নাম জানতে চাইলেন। তিনি এ ও জানালেন যে এই খাবারটি তিনি এর আগে খাননি।

পুডিং এর মত একটি অতি পরিচিত বস্তু ও যে সামাজিক স্তরবিন্যাসের কারণে অপরিচিত হয়ে উঠতে পারে- এই ব্যাপারটি আমার মনে আঘাত হেনেছিল। কিন্তু এইসব ঘটনাকে তখন আমি মালায় গাঁথার চেষ্টাটি করিনি। তবে আমি না চাইলেও আমার অবচেতন মন বোধকরি চেয়েছিল। কেননা প্রতিটি ঘটনার মাঝে অন্তত পাঁচ বছর করে ব্যবধান থাকলেও গত বছর যখন একদিন ল্যাপটপ সামনে নিয়ে বসি, তখন হুট করেই মিষ্টান্ন উপন্যাসের প্রথম লাইনটি মাথায় এলো। কোন খসড়া নয়, আগে থেকে ঠিক করে রাখা বা নূন্যতমভাবে সাজানো কোন ধারণা নয়, কেবল একটি লাইন!

আরও পড়ুন : খালিল জিবরানের ‘পূর্ণ চাঁদ’

এই লাইনটিকে সম্বল করেই মিষ্টান্ন এগিয়ে যেতে থাকে, অবস্থাটা এমন ছিল যে যখন ঠিক আগের লাইনটি লিখছি তখনো জানিনা যে পরের লাইনটি কি হতে পারে! মিষ্টান্ন খোদ লেখককেই কৌতূহলী করে রেখেছে শেষ পর্যন্ত, কারণ লেখক নিজেই এর ঘটনাক্রমে বা উপসংহার আন্দাজ করতে পারেনি। ব্যক্তিগত টুকরো ঘটনা মিষ্টান্ন শুরুর উদ্দীপক হলেও উপন্যাসটিতে আমার একান্ত জীবন এর কোন ছাপ নেই। ব্রিটিশ আমলের বাংলাকে পটভূমি বিবেচনা করে যে উপন্যাসটি আমি রচনা করেছি, তা সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক প্রসূত। নামটি মিষ্টান্ন হলেও এতে উঠে এসেছে নারী উদ্যোক্তা, প্রগতিশীলতা, কুসংস্কার, প্রেম, জীবন ও আধ্যাত্মবাদ। মিষ্টান্ন কেবল একটি সু-স্বাদু খাবারকে ছাড়িয়ে উপস্থাপন করেছে মানুষের নাটকীয় জীবনের মিষ্টতা ও তিক্ততা।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড