• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গল্প : কল্পনায় তুমি

  আশা

০৬ এপ্রিল ২০২০, ১৩:২১
কল্পনা
কল্পনা

এর্লামের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো অরুনিমার। ভোর ৫টা বাজে। উঠে নামায আদায় করে নিলো অরুনিমা। ফজরের নামায আদায় করে ঘুমানো টা যেন নিত্যদিনেরর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।অনেক দিন চেষ্টা করেছে নামায পড়ে আর না ঘুমানোর। কিন্তু হলোই না! ঘুমে ঢুলুঢুলু অরুনিমাকে সেই আবার বিছানায় গা বিলিয়ে দিতে হয়। আজও ব্যতিক্রম হলো না। নামায শেষে শুয়ে পরলো। আজ শোয়া মাত্রই ঘুম হলো না। ফেইসবুকে কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি দিলো।
ঘুম ভাঙলো ৭:৩০ মিনিটে। আজকে বেশিক্ষণ ঘুম হলো না। উঠে পরলো অরুনিমা।উঠা মাত্রই মায়ের চিল্লাচিল্লি-
“অরু…এই অরু….তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয়। সেই কখন চা করে রেখেছি। চা টা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।”
“আসছি মা,” বলে অরুনিমা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হতে গেলো।
ভোর থেকেই আবহাওয়াটা কেমন গুমোট রূপ ধারণ করে আছে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এরকম আবহাওয়া দেখলে মনটাও কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। প্রকৃতি আসলেই মানুষের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অরুনিমা ঘোলাটে আবহাওয়াটা দেখছিল। হঠাৎ অরুনিমা ভাবলো-
“এই আবহাওয়ায় বসে বসে ডায়েরিতে লিখতে তো মন্দ নয়? বরং ভালোই হবে। পরীক্ষার চাপে কতদিন ডায়েরিতে লেখা হয় না। কত কথা স্তূপাকারে জমা হয়ে আছে। আজ না হয় সেগুলোই লিখবো।”
যেই ভাবা সেই কাজ। ডায়েরি নিয়ে বসে পরলো অরুনিমা। ডায়েরির পৃষ্ঠা সযত্নে উল্টিয়ে, এক পৃষ্ঠায় লিখলো-

‘হয়তো
যুগ যুগ পাড় হবে তোমারি অপেক্ষায়।
হয়তো
বুকের মাঝে চিনচিন ব্যাথা অনুভূত হবে।
হয়তো
একটা শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরবে।
হয়তো
দু’চোখ ঝাপসা হয়ে যাবে
তোমার পথ চেয়ে চেয়ে।
তবুও আমি তোমারি অপেক্ষায়।।’
 
“বাহ!কালো জামদানি শাড়ি, সাথে কালো রেশমি চুড়ি আর চোখে হালকা কাজলে, তোমায় দেখতে তো দারুণ লাগছে অরু। মনে হচ্ছে যেন কোনো উপন্যাসের জীবন্ত নায়িকা। উফফ! কি যে বলি! তুমি তো নায়িকাই। হ্যাঁ আমার উপন্যাসের নায়িকা। যদিও তোমায় নিয়ে কোনো উপন্যাস আমি লিখিনি।”
কথাগুলো বলে মানুষটি একটু থামলো।
অরুনিমা একটু লাজুক চোখে তাকালো।
তখনি মানুষটি বলে উঠলো-

‘তোমার ঐ লাজুক চাহনিতে কি কোনো মাদকতা আছে?
কেন আমি বারবার নেশাগ্রস্ত হই?
লাজুকলতা!
লাজুক চাহনিতে তাকিয়ো না তুমি আমার পানে।
তুমি তো জানো না!
তোমার ঐ চাহনি যে,
আমার বুকে তীরের মতো বিঁধে।’

অরুনিমা যেন এবার আরো লজ্জায় রাঙা হয়ে গেলো। এই মুহূর্তে তাকে যদি একটু ছুঁইয়ে দেওয়া হয়, সেও লজ্জাবতী লতার ন্যায় চুপসে যাবে।
বিপরীত মানুষটি অরুনিমার এ অবস্থা দেখে মৃদু হেসে বললো,"অরু একটু চোখটা বন্ধ করো তো।”
বিস্ময়ে অরুনিমা তাকিয়ে বললো,
“কেন?”
“আহা বন্ধ করোই না।”
বাধ্য মেয়ের মতো অরুনিমা চোখ বন্ধ করলো।
মৃদু বাতাসে অরুনিমার কপালে ছড়িয়ে থাকা চুল গুলোকে, আলতো ভাবে সরিয়ে দিয়ে সেখানে গভীর একটি চুমু এঁকে দেয় সেই মানুষটি। তারপর বললো,
“জানো অরু! আমি তোমার প্রিয় ডায়েরিটা পড়েছি।”
চমকে অরুনিমা চোখ খুলতে গেলো। ঠিক তখনই সে চোখের উপর অনুভব করলো হাতের স্পর্শ। যে হাত তাকে বারণ করছে চোখ না খোলার।
“উহু চোখ খুলো না অরু। আমার কথা শেষ হয়নি। শেষ হলে তবেই তুমি চোখ খুলো।”
একটু দম নিয়ে আবার বললো,”তুমি হয়তো ভাবছো এ ডায়েরি আমি কিভাবে পেয়েছি?সেটা না হয় পরে বলবো।”
“অরু ভালোবাসি কথাটি কিভাবে গুছিয়ে বলতে হয় আমি জানি না। ভালোবাসি কথাটি বলতে হলে হয়তো বিভিন্ন রঙ মিশিয়ে বলতে হয়।আমি সেটাও জানি না।”
মানুষটি হঠাৎ অরুনিমার দু’হাত আঁকরে ধরে বললো,
“অরু আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ঠিক সেই ভাবেই ভালোবাসোতে চাই, যেভাবে তুমি তোমার ডায়েরির পাতায় লিখেছো।”

‘আমি চাই
এমন কেউ আসুক আমার জীবনে।
যে আমার ভালোবাসার মূল্য বুঝে-
আমার ভালোবাসার প্রতিদান দিবে আমায় ভালোবেসে।
আমি ভালোবাসায় ফরমালিন মিশাতে চাই,
কি অবাক হচ্ছো?
ভালোবাসায় আবার ফরমালিন!
হ্যাঁ মিশাতে চাই।
পচন যেন না ধরে এই ভেবে তাই।
ভয় পেয়েও না!
এ ফরমালিনে তোমার মৃত্যু হবে না।
বরং তোমায় পথ দেখাবে,
ভালোবেসে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে।’

“অরু এই কথাগুলো তোমার। যেগুলোর আমার হৃদয়ের মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের জন্য পানির সঞ্চার করেছে। আমি ভালোবাসতে চাই তোমায়। আমি হতে চাই তোমার ভালোবাসার একফোঁটা ফরমালিন।দিবে কি সে সুযোগ আমায়?”
“অরু ভাবছে সত্যিই কি কেউ তাকে ভালোবাসতে চায়? নাকি চোখ খুললেই দেখবে সে শুধুই মরীচিকার পিছনে ছুটছে?”
“অরু প্লিজ উত্তর দাও। চুপ করে থেকো না।
দেখো তুমি যদি উত্তর না দাও। তাহলে আমি কিন্তু চলে যাবো।”
অরুনিমা চোখ বন্ধ করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “প্লিজ যাবেন না।আমি বলছি,আমি বলছি ।”

“অরু.. এই অরু সেই কখন থেকে তোকে ডেকে যাচ্ছি। তোর কোনো সাড়া নেই। একা একা কি বিড়বিড় করছিস?”
মায়ের ডাকে কল্পনার রাজ্য থেকে ফিরে আসে অরুনিমা। লিখতে লিখতে কখন যে সে কল্পনার রাজ্যে পদার্পণ করেছে টেরই পেল না।
“কিরে কি হয়েছে তোর?”
“ক..ককই?কিছু না। ডাকছিলে কেন?”
“তোর বাবা ডাকছে। কথা শুনে আয়।”
“আসছি মা। তুমি যাও।”
মা চলে যেতেই অরু মনে মনে ভাবলো,”এই কল্পনার মানুষটি কি আমায় একটুও শান্তি তে থাকতে দিবে না? যখন তখনই হুটহাট করে কল্পনায় চলে আসে।”
ডায়েরির আরেকটি পৃষ্ঠা উল্টিয়ে অরুনিমা আবার লিখলো-

‘ছুঁটে চলেছি মরীচিকার পিছনে।
শুধুই কল্পনায় এসে,
সে বারবার ভিড় করে!
আর কত এই স্বপ্নিল দৃশ্য?
আমার কল্পনার শহরে তোমার আনাগোনা,
বাস্তবে তুমি অদৃশ্য।
একবার যদি পাই তোমায়,
দেখে নিও মায়াজালে কেমন করে আটকাই।’

এই টুকু লিখে,ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা টেনে ডায়েরিটা বন্ধ করে অরুনিমা।
নাহ!আপাতত সে আর কিছুই ভাবতে চায় না।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড