• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (শেষ পর্ব)

আসিফ আহমদ

  সাহিত্য ডেস্ক ০১ জুন ২০১৯, ১২:২৬

রাত
ছবি : প্রতীকী

আমার বাচ্চাটা কষ্ট পাচ্ছে! এই তোমরা দেখছো না আমার পেটের বাচ্চাটা কষ্ট পাচ্ছে?

ব্রেকআপের পর মিম টানা তিন দিন কিছু খায়নি। সোহেল তৃতীয় দিন গিয়েছিলো মিমকে দেখতে। হঠাৎ মিম ওর মাকে ডেকে বললো খাবার দিতে, পেটের বাচ্চাটা না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছে! সোহেল আর মিমের মা হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিমের দিকে! মিম নিজের পেটে হাত বুলিয়ে আপন মনে কথা বলতে থাকে। মিমের দেড় বছরের ছোটো ভাই জারিফ এসে মিমকে সজোরে একটা চড় দেয়৷ চড় খেয়ে ছিটকে পড়ে মিম। এরপর বুক চাপড়ে হাসতে থাকে! এদিকে হাসছে, ওদিকে বুক চাপড়াচ্ছে৷

হাতের কাছে যা পাচ্ছে সব ছুড়ে ফেলছে মিম। ফল কাটার একটা ছুরি পেয়ে নিজের হাত পায়ে আঘাত করা শুরু করলো। ঘটনা এত দ্রুত ঘটে গেছে সোহেল আর জারিফ কিছু করার সুযোগই পেলো না প্রথমে। মিমের হাত-পা থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে আর মিম খিলখিল করে হাসছে। আর জারিফের দিকে তাকিয়ে বলছে "তুই আমার মিত্রকে মেরে ফেলেছিস! তোরা সবাই মিলে আমার মিত্রকে মেরে ফেলেছিস।"

-------------

বাবা মারা গিয়েছিলো সেই ক্লাস সেভেনে থাকতে। তারপর থেকে শুরু হয়েছিলো মিমের যুদ্ধ৷ মা একটা স্কুলে টিচার হিসেবে আছেন। কিন্তু এই ঢাকা শহরে দুইটা বাচ্চা নিয়ে একজন মহিলা টিচারের বসবাস খুব একটা সহজ না। অনেক বিধিনিষেধের মাঝে বড় হওয়া মিম অরিত্রর প্রেমে পড়েছিলো হুট করেই। 

ছেলেটার পার্সোনালিটি অসম্ভব সুন্দর। অন্যরকম একটা মানুষ মনে হতো। দোষের মাঝে দুটো দোষই ছিল, সিগারেট খাওয়া আর মানুষের কথায় বিশ্বাস করে অল্পেই প্রভাবিত হওয়া। পরের দোষটা যে মিমকে এতোটা কষ্ট দিবে এটা কোনোদিন সে ভাবতে পারেনি।

রাতের পর রাত ফোনে কথা বলে পার করা, এখানে সেখানে ঘুরতে যাওয়া, কত সহস্র স্মৃতি দু'জনের। গল্পে গল্পেই সংসার বানিয়ে ফেলা মিম স্বপ্ন দেখতো অরিত্রকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবে। অরিত্রও সায় দিতো। জন স্টেনলেকের ভক্ত অরিত্র নিজ থেকেই বলতো তারও ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সব দূষণ থেকে দূরে সাগরের পাড়ে গিয়ে তারা একটা ছোট্ট ঘর বাঁধবে আর মুক্তো কুড়াবে। তাদেরও একটা ছেলে হবে "দ্যা পার্লের" প্রধান দুই চরিত্রের ছেলে কয়োটিটোর মতো। ওরা ছেলের নাম রাখবে "মিত্র"। মিম ডুবে যেতো এসব গল্পে, স্বপ্নে বিভোর হতো। কল্পনায় দেখতে পেতো নিজের ছোট্ট-সুখী সংসার।

-----------

মাসুদ সাহেব সোহেলের কাছ থেকে ইনফরমেশন নিয়ে মিমের বাসায় এসেছে। মিমের মা দরজা খুলে দিলেন। ডিবির কর্মকর্তা শুনে অবাক হয়েছেন খুব। আরও অবাক হয়েছেন মাসুদ সাহেব মিমের সাথে দেখা করতে চান শুনে৷

প্রথমে মানা করলেও পরে কি মনে করে যেন মাসুদ সাহেবকে নিয়ে ভেতরের ঘরে গেলেন। ঘরটা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল৷

মাসুদ সাহেব ভেতরে ঢুকে দেখলেন ঘরটাতে একটা খাট ছাড়া আর কিছু নেই। এমনকি বিছানার চাদরও নেই৷ ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা মেয়ে একটা বাচ্চা পুতুল হাতে নিয়ে খিলখিল করে হাসছে। উদভ্রান্তের মতো আদর করছে আর মিত্র মিত্র বলে ডাকছে৷

ঘরের এক কোণায় বসে আছে একটা ছেলে। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদছে। ছেলেটা যে জারিফ এটা মাসুদ সাহেবকে বলে দিতে হলো না।

মাসুদ সাহেবের চোখও ভিজে উঠলো। উল্টো ঘুরে ঘরটা থেকে বের হতে যাবেন এমন সময় নজরে এলো জারিফের পাশেই আরেকটা পুতুল পড়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখলেন এটা একটা মানুষের মূর্তির মতো। পুরো শরীরজুড়ে অসংখ্য সূঁচ ফুটানো৷ আর পেটের কাছটা ছুরি দিয়ে কেটে ফালাফালা করা হয়েছে। পুতুলটার বুকের ঠিক বাম পাশে একটা ছোট্ট ছুরি বসানো!

-----------

কিছুক্ষণ থমকে থেকে কি যেন ভাবলেন মাসুদ সাহেব। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরটা থেকে বেরিয়ে এলেন। তার দৃষ্টির অগোচরে মিমের পাশে একটা বই পড়ে ছিলো। - জন স্টেনবেকের "দ্যা পার্ল"!

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড