• শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ৪)

আসিফ আহমদ

  সাহিত্য ডেস্ক

৩০ মে ২০১৯, ১০:৫৫
রাত
ছবি : প্রতীকী

এমআরআই রিপোর্টটা খুব ভয়ংকর। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অরিত্রের হৃদপিণ্ডের মাঝ বরাবর একটা কাটা দাগ৷ কেউ যেন নিখুঁতভাবে ছুরি ঢুকিয়েছে একটু একটু করে।

অরিত্রের কলিজাটাও খন্ড বিখন্ড হয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন একের পর এক ঘাঁই মারা হয়েছে কোনো কিছু দিয়ে৷

পুলিশ সেই দারোয়ান আর বুয়াকে ছেড়ে দিয়েছে। বুয়া অরিত্রর মায়ের সামনে গিয়ে বিলাপ করছে। কি অবস্থায় সে অরিত্রকে দেখতে পেয়েছে তার বয়ান দিচ্ছে। অরিত্রর মায়ের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে না ভদ্রমহিলা কিছু শুনতে পাচ্ছেন। এক দৃষ্টিতে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি৷ কাকে দোষ দিয়ে বিলাপ করবেন বুঝতে পারছেন না তিনি।

অরিত্রর বাবাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যদিও সব মেজর ইনজুরিই ইন্টার্নাল, তাও শরীরের বাইরের ঘা-গুলোর দিকে নজর দিচ্ছে পুলিশ। বারবার অরিত্রর বাবার কাছে জানতে চাইছে তার কোনোও শত্রু ছিল কিনা৷ জামাল সাহেব কিছুই বলতে পারলেন না। শত্রুতো দূর অরিত্রর কোনো বন্ধুকেও তিনি চেনেন না।

----------

মাসুদ সাহেব ডিবির একজন তদন্ত কর্মকর্তা। ওনার হাতে এসে পড়লো এই রহস্য উদঘাটনের ভার৷ মাসুদ সাহেব অরিত্রর সারা রুম তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো ক্লু পেলেন না৷ টেবিলে রাখা বই কিংবা ব্যালকনিতে, কোথাওই কিছু নাই। রুম থেকে বের হয়ে আসবেন, এমন সময় বুক শেলফের নিচে চকচকে কিছু একটা নজরে আসলো৷

আগের পর্ব পড়তে- ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ৩)

মোবাইলটা বের করে আনলেন বুক শেলফের নিচ থেকে। অনেক চেষ্টা করেও ফোনের লক খুলতে পারলেন না।

বাসা থেকে বের হয়ে এসে ডিবি হেডকোয়ার্টারের একজন এক্সপার্টকে ফোনটা দিলেন। ফোনের লক খুলে অ্যালবাম ঘেঁটেও বলার মতো তেমন কিছুই পেলেন না। ডায়াল লিস্ট ঘেঁটে দেখলেন অরিত্রর শেষ কথা হয়েছিলো সোহেলের সাথে৷

অরিত্রর নাম্বার থেকেই সোহেলকে ফোন দিলেন মাসুদ সাহেব৷ বেশ কয়েকবার রিঙ হওয়ার পর ফোনটা ধরলো সোহেল। ফোন ধরেই চ্যাঁচানো শুরু করলো "ওই কুত্তার বাচ্চা, আবার কি চাস তুই?"

মাসুদ সাহেব নিজের পরিচয় দেওয়াতে সোহেল কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। মাসুদ সাহেব জানতে চাইলেন সোহেল এভাবে ক্ষেপে আছে কেন। সোহেল কোনো উত্তর দিলো না৷ মাসুদ সাহেব আবারও জানতে চাইলেন, তখন সোহেল পাল্টা জিজ্ঞেস করলো মাসুদ সাহেব কেন এত কিছু জানতে চাচ্ছেন, সেতো শুধু গালি আর ধমকই দিয়েছে, খারাপ কিছুতো করেনি। অরিত্রর মৃত্যুর খবরটা তখনই জানালো মাসুদ সাহেব। শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ফোনটা রেখে দিলো সোহেল!! কি ভেবে যেন সাইবার ডিপার্টমেন্টের একজন এক্সপার্টকে আগেই সিগন্যাল দিয়ে রেখেছিলো লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য। লোকেশন দেখাচ্ছে আদাবর নয় নম্বর রোড৷

---------------

সোহেলকে ধরে এনে ইন্টারোগেট করছেন মাসুদ সাহেব৷ সোহেল প্রচন্ড ভয় পেয়েছে।

"আমি কিছু করি নাই স্যার! বিশ্বাস করেন আমি কিছু করি নাই। আমিতো শুধু ধমকিই দিছি। আর তো কিছু করি নাই৷"

- "তোকে কখন বলছি তুই কিছু করছিস? আমাকে শুধু বল ঘটনাটা কী? তুই ওর উপর ক্ষেপে ছিলি কেন?"

এক এক করে সব খুলে বললো সোহেল। মিমের সাথে অরিত্রর পরিচয়ের গল্প। এরপর ব্রেকআপের গল্প। তারপর শুরু হলো ব্রেকআপের পরের কাহিনী।

চলবে...

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড