• শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ৩)

আসিফ আহমদ

  সাহিত্য ডেস্ক

২৯ মে ২০১৯, ১০:২৫
রাত
ছবি : প্রতীকী

ইউনাইটেডের আইসিইউতে শুয়ে আছে অরিত্র। শরীরের অবস্থা খুব নাজুক। হাত পায়ে কেমন যেন ফুটা ফুটা হয়ে আছে। মনে হয় যেন ইন্টারোগেশন চেম্বারে রেখে কেউ তার শরীরে পেরেক দিয়ে খুঁচিয়েছে!

সকালে ছুটা বুয়াটা এসে দারোয়ানকে নিয়ে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিলো অরিত্রকে। বনানীতে অরিত্রর ছোটো চাচা থাকেন, ওনাকে খবর দেওয়া হয়েছে। উনি এসে সবকিছু দেখে কিছুই বুঝতে পারছেন না! অরিত্রর বাবা-মাকে জানানো হয়েছে সব। ওনারা বিকেলের ফ্লাইটেই ব্যাক করবেন।

ছোটো চাচা এর মাঝে পুলিশকেও ফোন দিয়েছেন। পুলিশ পুরো বাড়ির নিরাপত্তা বুঝে নিয়েছে, এখন সেই বুয়া আর দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এখনো পর্যন্ত ব্যাপারটাকে কোনো ডাকাতির কেইস বলে মনে হচ্ছে না৷ তাও ছোটো চাচার মন থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না।

-------------

রাত প্রায় একটার দিকে হসপিটালে এসে ঢুকলো অরিত্রর বাবা-মা। চোখেমুখে অবিশ্বাস। সুস্থ সবল ছেলেটাকে বাসায় রেখে গিয়েছিলো, আউসিইউর বাইরের মনিটরে দেখা ছেলেটাকে অরিত্র বলে মানতে পারছে না তারা! কি অবস্থা শরীরের! মুখটা ফুলে ঢোল হয়ে আছে। কিন্তু চোখ দুটোতে শান্তির ঘুম।

ডাক্তাররা এখনো তেমন কিছু বলতে পারেনি। অনেকগুলো রিপোর্ট আসা বাকি। ৭২ ঘন্টার অবজার্ভেশনে রাখা হয়েছে অরিত্রকে।

অরিত্রর বাবার চোখে কিছুটা ঘুম চলে এসেছে। জার্নির ধকলটা সামলে উঠতে পারেনি এখনো। কিন্তু মায়ের চোখে ঘুম নাই। রাত ঠিক তিনটায় হঠাৎ তার মনে হলো মনিটরে কিছু একটা নড়তে দেখেছেন! ধাক্কা দিয়ে অরিত্রর বাবাকে জাগালেন তিনি। দুইজন তাজ্জব হয়ে মনিটরে দেখছেন কেমন ভয়ংকরভাবে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে অরিত্রর চেহারা! পুরো শরীর ঝাঁকি দিচ্ছে। কুঁকড়ে আসছে শরীরটা।

আগের পর্ব পড়তে- ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ২)

চিৎকার করে কান্না শুরু করলেন অরিত্রর মা। ডিউটি নার্সরা ছুটে এলেন। আইসিইউর ভেতরে থাকা ডিউটি ডক্টরও ছুটে গেলেন অরিত্রর কাছে।

একবার চোখ খুলে তাকালো অরিত্র। মুখ দিয়ে নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে অনর্গল। আবার সাথে সাথেই জ্ঞান হারালো সে।

---------

সিনিয়র ডাক্তাররাও ছুটে এসেছে। চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে অরিত্রর দিকে। ঘটনাটা বুঝে উঠতে পারছেনা কেউ। নীরবতা ভেঙ্গে ডক্টর খান অরিত্রর দিকে এগিয়ে গেলো। অরিত্রর পালস অস্বাভাবিকরকম বেশি দেখাচ্ছে। কিন্তু চোখমুখ একদম শান্ত৷ সেখানে কষ্টের কোনো ছিঁটেফোঁটা নাই।

ডক্টর খানের নজর গেলো অরিত্রর পায়ের দিকে৷ অরিত্রর শরীরের উপর জড়ানো সবুজ রঙয়ের চাদরটার পায়ের কাছে কেমন যেন ভেজা ভেজা লাগছে। চাদরটা উল্টে ট্রাউজারটা গুটিয়ে দিতেই দেখা গেলো হাঁটুর নিচ থেকে রক্ত ঝরছে। পাশের পায়েও একই অবস্থা! শরীরের ঘা-গুলোও আরও বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

হঠাৎ করেই আবারো কেঁপে উঠলো অরিত্র! আইসিইউর বেডের উপরেই প্রায় দাঁড়িয়ে গেলো ঝটকা দিয়ে! চোখ দুটো খোলা, কিন্তু উল্টে আছে! মুখ থেকে ফ্যানা ঝরছে। শরীর থেকে বিভিন্ন নলগুলো ঝুলছে, কিছু খুলে গেছে।

নার্স দুজন ভয়ে লাফ দিয়ে উঠেছে। ডিউটি ডক্টরের চেয়ারের উপর রাখা মডার্ন অ্যানাটমির বইটা একজন নার্সের হাতে লেগে পড়ে গেলো নিচে৷ বইয়ের ভেতর থেকে একটা গল্পের বই উঁকি দিচ্ছে।

জন স্টেনবেকের "দ্যা পার্ল"!

চলবে....

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড