• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ২)

আসিফ আহমদ

  সাহিত্য ডেস্ক ২৮ মে ২০১৯, ০৯:০৬

রাত
ছবি : প্রতীকী

পরদিন আবারও একই স্বপ্ন! হাত-পা ঠিক আছে। কিন্তু নাক মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরছিলো অরিত্রর। হুড়মুড় করে ঘুম ভেঙ্গে উঠেই নাকে হাত দিলো সে। হাতটা ভেজা ভেজা লাগছে৷

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো সত্যিই নাক চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে!

নাহ, এবার আর টেকা যাচ্ছে না। রুমের দরজা খুলে মা-বাবার রুমে যাবে চিন্তা করেছিলো। হঠাৎ মনে পড়লো বাবা-মা ব্যাংককে গিয়েছে অবকাশ যাপনে। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল বলে অরিত্র যেতে পারেনি।

এত বড় বাড়িতে মানুষ বলতে কেবল সে আছে, বুয়াও ছুটিতে। ছুটা বুয়াটা কাজ করে চলে যায়।

আর না পারতে এতো রাতেই ফোন দিলো মিমকে। যা ভাবে ভাবুক, এবার কথা বলা দরকার। ফোন বেজে চলেছে। ক্রিং ক্রিং..... ঘুমাচ্ছে হয়তো, ফোন ধরলো না মিম।

বেসিনে গিয়ে নাকেমুখে পানি ছিটিয়ে দেখলো ব্লিডিং হচ্ছে না আর, তাই এটা নিয়ে আর মাথা ঘামাবে না চিন্তা করলো।

একটা সিগারেট ধরিয়ে আবারও বুক শেলফের দিকে আগালো অরিত্র৷ বেশ কিছু বই হাতে নিয়ে শেষমেষ বেছে নিলো জন স্টেনলেকের "দ্যা পার্ল"!

----------------

সকাল আটটার দিকে আরেকবার ফোন দিলো মিমকে। এবারও রিসিভ করলো না। নয়টা.. দশটা... এগারোটা... তিনবার ফোন দিলো অরিত্র৷ মিম ধরলো না তো ধরলোই না!

কষ্ট হচ্ছে অরিত্রর। বুকের বাঁ পাশটা ধুকপুক করছে খুব। আজ এতোদিন পর যেই মিমকে খুঁজছে সে, সেই মিমকেই বছরখানেক আগে চূড়ান্ত অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিলো জীবন থেকে। সহজ সরল মেয়েটা শুধু বিয়েই করতে চেয়েছিলো অরিত্রকে৷ ভালবেসেছিলো অনেক বেশি। অরিত্র সেই ভালবাসাটা দেখেনি। আশেপাশের মানুষগুলো বুঝিয়েছিল অরিত্রকে তার কোটিপতি বাবার টাকার লোভেই হয়তো ঘুরঘুর করছে মিম। সেটাই বিশ্বাস করেছিলো অরিত্র।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! আজ বছর ঘুরে মিমও নেই, আশেপাশের সেই মানুষগুলোও নেই!

কী মনে হতে যেন সোহেলের নাম্বারে ডায়াল করলো অরিত্র। একমাত্র এই ছেলেটাই বারবার বলেছিল মিম কতোটা ভালবাসে অরিত্রকে। সেই ছেলেটাকেও অপমান করেছিলো অরিত্র সেদিন!

আগের পর্ব পড়তে- ধারাবাহিক গল্প : রাত তিনটা (পর্ব- ১)

কয়েকবার রিং হতেই সোহেল ফোনটা ধরলো। কোনো ভূমিকা না টেনে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো অরিত্র " মিম কেমন আছে রে সোহেল?"

"কুত্তার বাচ্চা, শুয়রের বাচ্চা.. তোর সাহসতো কম না তুই আমার কাছে মিমের খোঁজ জানতে চাস। তুই কই আছিস বল হারামজাদা, তোরে আমি কোপাবো......"

- হতভম্ব হয়ে ফোনটা রেখে দিল অরিত্র!

-------------------

সারাদিন অদ্ভুত বিষন্নতার ভেতর কাটলো অরিত্রর। কেমন যেন লাগছে ভেতরটা। অদ্ভুত শূন্যতা গ্রাস করে নিচ্ছিলো পুরোটা দিন৷ কিছুক্ষণ গান শুনে, মুভি দেখে মনটা একটু ডাইভার্ট করার চেষ্টা করেও পারলো না। থেমে থেমেই বারবার মিমের কথা মনে হচ্ছে৷ এমন কেন হচ্ছে বুঝতে পারছে না অরিত্র। সেই যে মিমকে অপমান করে তাড়ালো, এরপর মিমও কোনোদিন যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি তার সাথে। এমনকি পুরো সার্কেলের থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো সে। কেউ আর খোঁজও রাখেনি হয়তো মধ্যবিত্ত মেয়েটার। এমনকি অরিত্ররও কোনোদিন মনে হয়নি ওর কথা। তাহলে আজ এমন হচ্ছে কেন? 

ভাবতে ভাবতে কখন যে অরিত্রর চোখ ঘুমে জড়িয়ে এসেছিলো সে জানে না৷ ঘুমটা ভাঙ্গলো ঠিক রাত তিনটায়!

-----------------

দিনদিন স্বপ্নটা বেশি খারাপ হচ্ছে। আজ বাস্তবে নাকের সাথে মুখ দিয়েও রক্ত আসছে৷ পানি খেয়েও তেষ্টা মিটছে না৷ ভেতরটা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। অরিত্র নিজেই বুঝতে পারছে তার শরীরটা জ্বরে পুড়ছে।

আজ ডাক্তার ডাকতেই হবে, বা হসপিটালে যেতেই হবে। বাসার নিচে গিয়ে দারোয়ানকে ডাকা দরকার। খুব একটা ভয় লাগছে না আর অরিত্রর। ব্যাপারটার সাথে মানিয়ে নিয়ছে সে মানসিকভাবে৷ কিন্তু শরীরটা মানিয়ে নিতে পারছে না৷ দরজার দিকে আগাতে গিয়েই মাথাটা ঘুরে উঠলো অরিত্রর। কোনোমতে বুক শেলফটা ধরে দাঁড়ালো৷ এরপর আবার দরজার দিকে আগাতে গিয়েই জ্ঞান হারালো অরিত্র৷ হাতের ধাক্কায় একটা বই এসে ছিটকে পড়েছে অরিত্রের পাশে।

জন স্টেনলেকের ''দ্যা পার্ল"!

চলবে...

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড