• শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

যে বইটির কোনো নাম নেই, নেই সুনির্দিষ্ট কোনো দাম; সেই বইয়ের গল্প

  অধিকার ডেস্ক    ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৪

নামহীন দামহীন
নামহীন দামহীন বইয়ের প্রচ্ছদ

একজন মানুষ সংখ্যাকে ভীষণ ভালোবাসেন। সংখ্যার মধ্যেই তিনি তার সব অনুভূতি খুঁজে ফিরেন। অদ্ভুত এক মানুষ তিনি। তার মোবাইল ঘাটলে দেখা যাবে কন্টাক্টে কোনো নাম সেভ করা নেই। কারণ তিনি মানুষকে নাম দিয়ে মনে রাখেন না। মনে রাখেন সংখ্যা দিয়ে। 

লেখক নিজেকেও খুঁজে পেয়েছেন সংখ্যার মাঝে। তাই নিজেকে ৭৭৭ সংখ্যায় পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ করেন। বলা যেতে পারে সংখ্যা নিয়ে তার একধরনের অবসেশন রয়েছে। অনেক বড় লেখা তিনি ছবির মতন মনে রাখতে পারেন। তিনি পাইয়ের মান ২৩৩৮ ঘর পর্যন্ত মুখস্থ বলে দিতে পারেন। আবার যেকোনো বড় সংখ্যার গুণফল ক্যালকুলেটর ছাড়াই মুখে বলে দিতে পারেন তিনি।  

যে ব্যতিক্রমধর্মী মানুষটির কথা বলছিলাম তিনি মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়। হিমালয়ের মতই অসীম তার চিন্তাধারা। যেমন ব্যতিক্রমী তার চিন্তাধারা তেমনি ব্যতিক্রমী তার লেখার ধারা। সম্প্রতি এই ব্যতিক্রমধর্মী মানুষটি পাঠক মহলে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন তার লেখা এক বই এর মাধ্যমে। তার আত্মজীবনী মূলক একটা বই। 

কিন্তু মজার বিষয় এই বইয়ের কোনো নাম নেই। আবার বইয়ের কোনো দামও নেই। অদ্ভুত এই নামহীন ও দামহীন বই পাঠকদের মনে কৌতূহল তৈরি করাটাই কিছুটা স্বাভাবিক। এমন একটা বই যেটার কোনো নাম নেই, চাইলেই সেই বই আপনি দোকানে গিয়ে কিনতে পারবেন না। কিনবেন কীভাবে? দোকানিকে বই এর নামটা তো বলতে হবে। লেখকের নাম বলে নাহয় খুঁজে নিলেন বই কিন্তু দাম! বইয়ে যে কোনো দাম ও লেখা নেই! 

বইটি এমন নামহীন ও দামহীন কেন এমন প্রশ্ন করার সুযোগ পাইনি লেখককে। সুযোগ পেলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করতাম, যে সমাজে সবাই নিজের নাম কিংবা নিজের কর্ম প্রচারে এত ব্যস্ত সেখানে লেখকের মনে নামহীন একটা বই লিখবার আগ্রহ তৈরি হলো  কীভাবে? লেখকের উত্তর কী হবে তা জানি না।

অনেকে এটাকে লেখকের নিছক পাগলামি ভাবলেও ভাবতে পারেন।  তবে তিনি যে একজন ব্যতিক্রমধর্মী মননের মানুষ সেটার প্রমাণ তিনি তার বইয়ে রেখেছেন। 

লেখকের চরিত্রের অন্যতম একটা বিষয় তার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। চারপাশ ও চারপাশের মানুষকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করবার ক্ষমতা রয়েছে তার। জীবনে অসংখ্য মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, একজন ভালো শ্রোতাও তিনি। আর এসবেরই প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায় তার আত্মজীবনী বইয়ে। 

বইয়ে লেখকের জীবনের অনেক না বলা কথা, লেখকের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ, জীবন দর্শন, মানব মন, মনস্তত্ত্ব, কর্পোরেট জগত সহ অনেক কিছুই ফুটে উঠেছে। লেখকের সংখ্যার প্রতি অবসেশন কিংবা তার পাগলামি এগুলোও বাদ যায়নি। সব কিছু ছাপিয়ে ফুটে উঠেছে লেখক হিমালয়ের হিমালয় হয়ে উঠবার গল্প। 

লেখক নিজের শৈশব থেকে বর্তমান জীবনের সব কথাই একদম খোলামেলা বলেছেন তার বইয়ে। তার জীবনের গল্প বলার স্টাইলটাও ভিন্ন। অন্যান্য আত্মজীবনীমূলক বইয়ের মতো না। তিনি একা বলে যাননি। পুরো বইয়েই দেখা যাবে তিনি কারও সাথে কথা বলছেন, কেউ তাকে প্রশ্ন করছে, তাকে ব্যঙ্গ করছে, তার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই নিজেকে নিজের মত ব্যখ্যা করে যাচ্ছেন।

নিজের যুক্তি, নিজের চিন্তাধারা, জীবন দর্শন সবই তুলে ধরেছেন তার বইয়ে। নিজের জীবন, বাস্তবতা ও চারপাশের নানা ঘটনাকে তিনি যেভাবে দেখেছেন,পর্যবেক্ষণ করেছেন সেভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তার বইয়ে। এই বইয়ে অনেক কাল্পনিক চরিত্রের দেখা মিলে।

৩১৭৯ কিংবা ১১৫৭ এগুলো নিছক কোনো সংখ্যা নয়। এগুলো একেকটা চরিত্র। এই চরিত্রগুলোর সাথেই লেখক কথা বলেছেন এবং এসব কাল্পনিক চরিত্রের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। 

এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় নানা চমক অপেক্ষা করছে পাঠকদের জন্য। সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক লেখক ও তার অদ্ভুত এক বই। লেখক ৭৭৭ এবং তার নামহীন দামহীন বইয়ের জন্য রইলো শুভকামনা। 

নামহীন দামহীন এই বইটি কোনো বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় না। কেউ সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করতে হবে উপন্যাস প্রকাশনের ইনবক্সে।

উপন্যাস প্রকাশনের ফেসবুক পেজের লিংক : উপন্যাস প্রকাশন - Uponnash Prokashon। 

রিভিউদাতা : নূর এ সাফী আহনাফ
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড