• বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

শুরু হয়েছে হিমু পরিবহণের দ্বিতীয় চিঠি উৎসব

  সৈয়দ মিজান ০৩ মে ২০১৯, ২১:৫৯

চিঠি উৎসব
আধুনিক প্রযুক্তির কারণে চিঠি হারিয়ে গেলেও তরুণদের কাছে এর টান এখনো রয়ে গেছে। (ছবি : দৈনিক অধিকার )

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের অংশ পত্র সাহিত্যকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে হিমু পরিবহণের আয়োজনে শুরু হয়েছে চিঠি উৎসব ২০১৯। ডাকপিয়ন-২ শিরোনামের এই আয়োজনটি এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুইদিনব্যাপী চিঠি উৎসবটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিত্রশালায় বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা অবধি চলবে।

৩ মে শুক্রবার বিকাল ৩টায় প্রদর্শনী উন্মুক্ত করা হয় সবার জন্য। সারা দেশ থেকে আসা কয়েকশো চিঠি থেকে বাছাই করা চিঠিগুলো নিয়ে চলছে এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনী শেষে সেরা চিঠিগুলো নিয়ে প্রকাশ করা হবে একটি বই। সেরা কয়েকটি চিঠির জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কারও।

চিঠি

চিঠির টানে ছুটে এসেছিলেন তরুণরাও। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

একটা সময় ছিল এ দেশের মানুষের দূরের কারও কাছে যোগাযোগ করার একমাত্র মাধ্যমই ছিল চিঠি। চিঠির পাতায় পাতায়, কালো কালো অক্ষরের মাধ্যমে অনুভূতির ঢেউ বয়ে যেত আপনজনের মনেও। একটা সময় চিঠি মানে শুধুই বার্তা আদান-প্রদান ছিল না। এটি একটি সাহিত্যেরও বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। ‘পত্র সাহিত্য’ নামে আলাদা একটি ধারাই তৈরি হয়েছিল বাংলা সাহিত্যে। কিন্তু চিঠির সেই রমরমা দিন আর নেই। প্রযুক্তির উন্নতিতে এ করকম হারিয়েই যেতে বসেছে চিঠি। চিঠির সেই আবেদনকে ফিরিয়ে আনতেই হিমু পরিবহণ নামক সংগঠনটির দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন।

চিঠি

পুরো চিত্রশালা জুড়েই আছে নানারকম চিঠি। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চিত্রশালার গ্যালারি জুড়ে হরেক রকম চিঠির ছড়াছড়ি। কেউবা লিখেছে তার একান্ত প্রিয়জনকে, কেউবা মা-বাবা কিংবা ভাই-বোনকে। কারও চিঠি রাষ্ট্র প্রধানকে উদ্দেশ্য করে লেখা। আবার কেউবা নিতান্তই নিজেকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছে আবেগমাখা চিঠি।

দর্শকদের আনাগোনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কথা হলো মৃত্তিকা নামে এক দর্শকের সাথে। জানালেন, 'গতবারের আয়োজনটা ভালো লেগেছিল খুব। এবারও এসেছি তাই। চিঠি পড়ার যে অদ্ভুত একটা আনন্দ আছে তা হয়তো জানাই হতো না এই উৎসবে না আসলে।'

চিঠি

চিঠির পুরোনো স্বাদ নিতে ছুটে এসেছিলেন বয়স্ক অনেকেই। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অনেক দূরদূরান্ত থেকেও চিঠির জন্য ছুটে এসেছেন অনেকে। নরসিংদী থেকে এসেছেন খান মোহাম্মদ মৃদুল। তিনি বললেন, 'চিঠির প্রতি আলাদা একটা ভালো লাগা আছে আমার। যখনই শুনলাম এমন একটা আয়োজন হবে তখন থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম।'

গাজিপুর থেকে বোনকে নিয়ে চিঠি উৎসবে এসেছেন নাসরিন সুলতানা। 'এই আয়োজনটা সত্যিই অন্যরকম। হিমু পরিবহণ যেন এই আয়োজনটা প্রতিবছরই করে এমনটাই চাওয়া'- এভাবেই নিজের ভালোলাগার কথা জানাচ্ছিলেন তিনি।

চিঠি

অনেক দীর্ঘ চিঠিও পাঠিয়েছেন অনেকে। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আয়োজক সংগঠন হিমু পরিবহণের সমন্বয়ক হুর এ জান্নাত জানালেন, 'হিমু পরিবহণ হচ্ছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের সংগঠন। আমরা মূলত কাজ করি ক্যানসার সচেতনতায়। এর বাইরেও আমাদের রয়েছে বই পড়া কার্যক্রম। আমরা চাই সবাই পড়ুক। সেই তাগিদ থেকে হারিয়ে যেতে বসা পত্র সাহিত্যকে ফিরিয়ে আনার ক্ষুদ্র চেষ্টার অংশ এই চিঠি উৎসব।'

তাদের এই চেষ্টা যে অনেক সাড়া ফেলেছে মানুষের কাছে তার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। মাত্র অল্প কয়েকদিনের ঘোষণায় কয়েকশো চিঠি এসে জমা হয় তাদের ডাকবাক্সে। সারা দেশ থেকে অনেক চিঠি এসেছে। সব বয়সী মানুষই পাঠিয়েছেন চিঠি। কেউ ডাকে, কেউ কুরিয়ারে আবার কেউবা সরাসরি চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন তাদের উৎসবের জন্য।

চিঠি

মন্তব্য বইয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন দর্শকরা। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আয়োজকদের আরেকজন আসলাম হোসেন জানালেন, 'এবার নিয়ে এটা দ্বিতীয়বারের আয়োজন। গতবারের উৎসব যে বেশ সাড়া ফেলেছিল তা আমরা বুঝতে পেরেছি। আজকেও অনেক মানুষ ঝড় বৃষ্টিতে ভিজেও এখানে এসেছেন শুধু চিঠি পড়তে। এটা আমাদের কাজের স্পৃহাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।'

চিঠি

কত অনুভূতি দিয়ে বোনা হয় একেকটি চিঠি। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সব বয়সী পাঠকেরই দেখা মিলল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিত্রশালায়। দর্শকদের আতিথেয়তার জন্য খই, মুড়ি আর বাতাসা রেখেছেন আয়োজকরা। আগামীকাল শনিবার চিঠি প্রদর্শনী শুরু হবে বিকাল ৩টায়।

ওডি/এসএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড