• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

শিরোনাম :

থেরেসা মে : ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোট জানুয়ারিতে||'নির্বাচনে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপ আহ্বান'||রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব আলোচনা বর্জন করেছে চীন ও রাশিয়া||৩০০ কোটি টাকায় দুটি রুশ হেলিকপ্টার কিনছে বিজিবি||বরখাস্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ হোসে মরিনহো||সু চি’কে দেওয়া পুরস্কার প্রত্যাহার করল দক্ষিণ কোরিয়া||নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও বিদ্যমান : সিইসি||জামায়াতের ২২ নেতার ‘ধানের শীষ’ বাতিলে আদালতে রুল||যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি   ||প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকার করল বিএনপি 

পর্ব- ১

ডেল জেমসের ‘উইদাউট ইউ’ (অনুবাদ)

অনুবাদক : লুৎফুল কায়সার

  সাহিত্য ডেস্ক ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৩৪

উইদাউট ইউ
ছবি : প্রতীকী

(বিশ্বনন্দিত ব্যান্ড 'গানস এন্ড রোজেস' (Guns N' Roses) এর সবচাইতে আলোচিত এবং বিখ্যাত গান ‘নভেম্বর রেইন’ এর মিউজিক ভিডিও নির্মান করা হয়েছিল এই গল্পটির কাহিনীকে উপজীব্য করে।)

মেইনের মনের একটা অংশ খুব করে চাইছিল তার সাথে নাচে যোগ দিতে, কিন্তু আরেকটা অংশ ওকে আটকে রেখেছিল। সেটা তাকে তাকে বার বার বলছিলো, “চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকো বন্ধু! অমন সৌন্দর্যের স্রোতে কোনো ব্যাঘাত ঘটিও না!”

এলিজাবেথের শরীরটা যেন সুরের মূর্ছনার সাথে ক্ষণে ক্ষণে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলছিল নিজেকে! তার চেহারার নিষ্কলুষতা ক্রমাগত আঘাত করছিল মেইনের বুকে! মেইন জানে যে মেয়েটা যখন বুঝতে পারবে যে সে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে দেখছে তখন সে প্রচণ্ড রেগে যাবে। তবুও এক কৌতুহলী কিশোরের মতো তাকিয়ে রয়েছে সে, সেই দৃষ্টিতে পরিণামের কোনো চিন্তা নেই। এলিজাবেথের শরীরের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো ওর চোখ দুটো। ওদুটোর দিকে তাকিয়ে কয়েক শতাব্দীও পার করে দিতে পারে মেইন।

“তুমি অনেক সুন্দর! এতোটাই সুন্দর যে তোমাকে আমার ঠিক বাস্তব বলে মনে হয় না!”- আপন মনেই বলে উঠল মেইন।

এলিজাবেথের প্রতি তীব্র ভালোবাসা যেন পাগল করে তুলল মেইনকে। পাতলা কাপড়ের আড়াল থেকে দৃষ্টিগোচর ওর শরীরের প্রতি কেমন যেন একটা টান অনুভব করতে লাগল সে। মেয়েটির ঠোটে যেন ভেসে উঠল করুণার হাসি! 

অবাক হয়ে গেল মেইন! আর ঠিক তারপরেই সে বুঝতে পারলো যে মেয়েটা যে গানের তালে তালে নাচছে সেটা তারই একটা গান! ঘামতে শুরু করলো সে, খুবই অদ্ভুত লাগতে লাগল তার। ওর চোখের সামনের সবকিছুই কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেল। আশপাশের সবকিছুই কেমন পরাবাস্তব লাগতে লাগল তার কাছে! 

গান যত জোরে হতে লাগলো ঠিক ততটাই বেড়ে চলল তার অস্বস্তি! ওখান থেকে পালিয়ে আসার জন্য তাকে যেন মনের ভেতর থেকে কে যেন বারবার তাগিদ দিতে লাগল। কিন্তু তার পা-দুটো একদমই সাড়া দিচ্ছিল না। সবকিছুই যেন অবশ হয়ে গেছিল! 

এক দৌড়ে গিয়ে গানটা বন্ধ করে দিল মেইন আর ঠিক তখনই সে দেখতে পেলো এলিজাবেথ পিস্তলের নলটা নিজের কপালের কাছে নিয়ে এসেছে...... 

বুওওওওওওম!     

ঘামে একদম জবজবে অবস্থাতে ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে বসল মেইন। গত ছয় ঘণ্টা সে ঘুমিয়ে ছিল, এই ধরনের ঘুমকে সে ব্যক্তিগত ভাবে ‘ড্রাগ-অ্যালকোহল কোমা’ বলে থাকে। আজকাল এসব ছাড়া ঘুমই আসে না তার। কিন্তু ছয় মিনিট কী ছয় ঘণ্টা, ঘুমালেই দুঃস্বপ্নটা আজকাল হানা দেয়! ডাক্তার তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছিল কিছু, তবে সেগুলোতে কোনো কাজই হয়নি। যেদিন সে ওই অভিশপ্ত গানটা লিখেছিল তার ঠিক পরের দিন থেকেই ঘুমের সাথে তার চোখের পাতার যেন আড়ি হয়ে গেছে!

রেফ্রিজারেটরের ওপর রাখা টেবিল ঘড়িটার দিকে তাকাল মেইন, ওটার পাশেই একটা মার্লবোরোর অর্ধেক খালি প্যাকেট দেখা যাচ্ছে। ঘড়ির সবুজ ডিজিটাল সংখ্যাগুলো তার কাছে অর্থহীন লাগতে লাগল। সময়ের দাম কখনোই সে দেয়নি, ঘড়ির পাশের প্যাকেটটাই বেশী মূল্যবান তার কাছে।  

একটা সিগারেট ধরিয়ে রেফ্রিজারেটরটা খুলে ফেলল সে। তারপর বিয়ারের একটা ক্যান বের করে এক চুমুকেই অর্ধেক খেয়ে ফেলল। তার ভারী মাথাটা কেমন যেন হালকা লাগতে লাগল। প্রতিদিন সকালে উঠেই এমনটা করে সে! 

ভাবতে লাগল মেইন। ওর এই সময়ে স্টুডিওতে থাকা উচিত ছিল। ওর নতুন অ্যালবামের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। গানগুলোর কাজ একদম শেষ পর্যায়ে আছে। মেইন যদি ঠিকমত কাজ করে তবে খুব তাড়াতাড়িই বের হয়ে যাবে অ্যালবামটা। কিন্তু মদ আর নেশাতে চুর হয়ে মেইন এইসবের পরোয়া করে না! 

কোনো মতে টলটলতে বাথরুমে পৌঁছল মেইন। ওর ঘরের মতোই এই জায়গাটাও অগোছালো আর নোংরা। নিজেকে একজন যন্ত্রমানবের মতো লাগছিল তার কাছে। এমন এক যন্ত্রমানব যার শরীরে একটু চামড়ার আবরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে!  

নিজের শোবার ঘরে ফিরে হাতের ব্রেসলেটগুলো খুব যত্নের সাথে পরে নিল মেইন। ওগুলো একদম খাঁটি সোনার। শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ ওর। একদম উগ্র জীবনযাত্রার কারণে বন্ধুবান্ধবেরাও আজকাল ওকে এড়িয়ে চলে। 

অলংকারের ব্যাপারে খুবই সৌখিন মেইন। অনেক ব্রেসলেট আর সোনার চেইন রয়েছে তার সংগ্রহে। এগুলো ছাড়া আরেকটা ব্যাপারেই যে যত্নশীল আর সেটা হল কাপড়-চোপড়! দামি প্যান্টটার সাথে একটা কিমানো পরে নিল সে। কিমানোটা পরার পর বেশ স্বস্তি বোধ হতে লাগল ওর। 

চুপচাপ বসে বিয়ারের ক্যানটা শেষ করল সে। তারপর আয়নাতে নিজের মুখটা দেখতে লাগল। 

“কী অবস্থা হয়েছে আমার! চোখগুলো যেন কোটরে ঢুকে গেছে!” আপনমনেই বলে উঠল সে।

তার জীবনের আটাশ বছরের মধ্যে গত চৌদ্দ বছরই সে কাটিয়েছে মদের বোতলের ওপর ভর করে। কৈশরে বন্ধুদের সাথে করা পার্টির বিয়ারগুলো একসময়ে বদলে গেছে রাম আর ভদকাতে আর তারপর হুইস্কিতে! 

আজকেও হুইস্কির প্রবল প্রয়োজনবোধ করছে সে। চোখ বন্ধ করে নিজের ব্যক্তিগত ঈশ্বর ‘জিম বিন’ এর কাছে একবার মনে মনে প্রার্থনা করল সে, যেন ঘরের ভেতরে একটু হলেও হুইস্কি থাকে! 

কিন্তু গোটা বাড়ি খুঁজেও হুইস্কির চিহ্নমাত্র পেল না সে! “ধ্যাত হুইস্কি! তুমি কই?” একা একাই চিৎকার করতে লাগল সে। 

খুবই অস্থির লাগতে লাগল মেইনের আর ঠিক তখনই রান্নাঘরের সেই গোপন কুঠরীটার কথা মনে পড়ল তার। সেটা খুলতেই কয়েক বোতল হুইস্কি যেন তার দিকে তাকিয়ে ঝিলিক মেরে হেসে উঠল! “আমার প্রাণপাখি! কোথায় ছিলে তুমি?” এই বলে হুইস্কির একটা বোতল নিজের ঠোটে ছোঁয়াল মেইন। 

চলবে... 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড