• মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাহাড়, পানি আর সবুজের টানে (শেষ পর্ব)

  ইমাম হোসেন

২২ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৮
কায়াকিং
কাপ্তাই লেকে কায়াকিং করছিলাম গগন ভাইয়ের সাথে। (ছবি : রাফা নোমান)

এতো সকালে ঘুম ভাঙবে আশা করিনি। সাড়ে পাঁচটা বাজে কিন্তু এখনই চারপাশ দারুণ আলোকিত। সটান বসেই মনের মধ্যে হলো ছাদে যেতে হবে। এই সাত সকালে ছাদে গেলে পানি পাহাড় আর মেঘের পুরো ভিউ পাওয়া যাবে। বেডরুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুম পার হয়ে মেইন দরজা খুলতেই দেখি পেছনে আবীর। দুজন মিলে ছাদে গেলাম। দুজনের মুখে কোনো কথা নেই। মনে হচ্ছে সামনে এক মায়াবী জাদুর রাজ্য। যেখানে পাহারের চূড়া ঢেকে যাচ্ছে সাদা সাদা মেঘে।

আমরা রুমে ফিরে দেখি তখনও সবাই ঘুমে। এমন সময় ভাইয়া এসে বললেন আমাদের সিএনজি আসবে সকাল ৯ টার সময়। আসাম বস্তি রোড ধরে সেই সিএনজি আমাদের নিয়ে যাবে কাপ্তাই বাধ ও পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পে। সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসলাম, রাফা জানালো ৯ টা নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে। সবাই একসাথে বলে উঠলাম ওও.. রাফা মেজাজ খারাপ করে খাওয়াতে মন দিলো আর আমরা একসাথে হো হো করে হেসে উঠলাম।

চারদিকে উজ্বল আলো। কথা নেই বার্তা নেই ঝুপঝাপ বৃষ্টি শুরু হলো। রাফা নাস্তা শেষ করে তখন আম খাচ্ছে। বৃষ্টি দেখে আম রেখে আরাম করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বলে, ‘দেখি একটা কলা দেন ভাই। বৃষ্টি দেখি আর কলা খাই।‘ আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রাফাকে বললাম, ‘৯ টা তো আর বাজে না হু...’ রাফা অমনি একটা বিজয়ীর হাসি দিয়ে বাইরে তাকালো। পুরো কাপ্তাই লেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে দূরে ঝকঝকে রোদ। আর এখানে বৃষ্টি। আহা কি মায়া...

পাহাড়ি রাস্তা

পাহাড়ি এমন আঁকাবাঁকা পথ দেখে চোখ সরে না। (ছবি : লেখক) 

এদিকে সিএনজি চলে এসেছে। সবাই নিচে নামছে। আজও মুত্তাকিন আমাদের সাথে যেতে পারলো না। জ্বর সারেনি পুরোপুরি। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চেপে বসলাম সিএনজিতে। আমি ড্রাইভারের ডান দিকে বসেছি। ভিজে যাচ্ছি বৃষ্টির পানিতে কিন্তু পুরো ভিউ পাচ্ছি বাইরের। এই সিএনজি করেই ভাইয়ারা যাওয়া আসা করে। আবার কেউ বেড়াতে গেলে ভাইয়া এই সিনএনজিতে করেই পাঠায়। এই সিএনজির সুবিধা হচ্ছে, কোনো কিছু বলতে হবে না। কোথায় যেতে হবে, কোথায় ভালো ভিউ পাবো, কি কি করতে হবে সব উনার দায়িত্ব। রাঙামাটি আসার পর থেকে বেশ শাসনে আছি। সব জায়গায় যাওয়ার অনুমতি নেই আমাদের। ভাইয়ার একান্ত বিশ্বস্ত মানুষের সাথে পাঠাচ্ছেন। তাতে অবশ্য আমাদের মজার কমতি হচ্ছে না একদম।

আসাম বস্তি রোডে এসে উঠলো আমাদের সিএনজি। কাপ্তাই থেকে রাঙামাটি শহর স্থলপথে এটাই একমাত্র মাধ্যম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই রাস্তা নির্মাণ করেছে একদম পাহাড়ের উপর দিয়ে। ২০১৭ সালে এই রাস্তা ধসে পরে কাপ্তাই রাঙামাটি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি রাস্তাও সেবার ধসে গিয়ে সারা দেশের সাথে স্থলপথে রাঙামাটির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নিহতদের সংখ্যাও বেশ বড় ছিল। সেবার হিমু পরিবহণ বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সহায়তায় প্রত্যন্ত পাহাড়ে মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছিল।

আরও পড়ুন : পাহাড়, পানি আর সবুজের টানে (পর্ব - ০২)

কেউ রাঙামাটি আসলেন আর আসাম বস্তি রোড ধরে কাপ্তাই গেলেন না, তাহলে সে রাঙামাটির ম‚ল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কতো মানুষ যে আমাকে বলেছে এই রাস্তার কথা তার ইয়ত্তা নেই। আমাদের সিএনজি এগিয়ে যাচ্ছে। কখনো আপ হিল আবার ডাউন হিল। পুরো রাস্তাটা পাহাড়ের উপর দিয়ে। আমাদের আশেপাশে মেঘ ঘুরঘুর করছে। হঠাৎ আমাদের সিএনজি থেমে গেল। আমরা নামলাম। চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে। 
হাতের বামে দৃষ্টি সীমা যতদূর যায় শুধু পানি আর পাহাড়। হাতের ডানে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে মেঘ। মেঘ এসে আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।

এই জন্য রাজিত দা বলেছিলেন, ‘পারলে আসাম বস্তি রোডে ট্রাকিং করো। কিন্তু এখানে ট্রাকিং করার মতো কেউ নেই। আমাদের সিএনজি আবার চলতে শুরু করেছে। হাতের বামে পানি আর ডানে পাহাড় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই রোদ এই বৃষ্টি, চায়ের তৃষ্ণা পেয়েছে বলতেই আমাদের একটা বাড়ির সামনে দাঁড় করালো। নাহ, ভুল হলো। এটা একটা দোকান। গাছের গুঁড়ি দিয়ে উঁচু করে দোকান বানানো হয়েছে। উপরে উঠতেই বিস্ময় নিয়ে চারপাশটা দেখলাম। পাহাড়ের গায়ে ঝুলছে পুরো দোকানটা। চা খাবো না এই মায়াবী দৃশ্য দেখবো। আমাদের নিচে মেঘের খেলা। মেঘগুলো পাহাড়ের গায়ে আটকে আছে। দূরে বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। দেখছি মেঘগুলো আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। কয়েক মুহূর্তে আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে মেঘগুলো সামনের দিকে চলে গেল।

যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন, যাদের ফিটনেস আছে তারা অবশ্যই এই আসাম বস্তি রোডে ট্রাকিং করবেন অথবা সাইকেল চালাবেন। শুধু বলবো আপনার জীবনের স্মরণীয় হয়ে থাকবে এটা। কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছি না। নিশু আপু একদিন বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির কাছে  আসলে নিজেকে নিবেদন করে দিতে হয়। ওদের ডিস্টার্ব না করে ওদের কথা শুনতে হয়।‘ আম্মু বলেন, পাহাড়ে গেলে, প্রকৃতির কাছে গেলে বেশি বেশি সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করতে।

পাহাড়

পাহাড় ছুঁয়ে জল। (ছবি : লেখক) 

আমি মুগ্ধ হচ্ছি আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু পথে। আমাদের সিএনজি এগিয়ে যাচ্ছে। রাফা আর আবীর মোবাইলে টাইম ল্যাপস করছে। এই রাস্তায় বুনো হাতির পাল নেমে আসে মাঝেমধ্যে। এখন অবধি তিনজন মারা গেছে। তারমধ্যে একজন ছিলেন নেভি অফিসার। বহু গাড়ি এই হাতির তাড়া খেয়েছে। আহতের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

একটা সাইনবোর্ডে চোখ আটকে গেলো। সেখানে লেখা, "এলিফ্যান্ট ক্রসিং" এই রাস্তা দিয়ে হাতি চলাচল করে। বেশ সাজানো গোছানো রাস্তা। ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম এটা নেভি এরিয়া। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি। কিন্তু ততক্ষণে একজন এসে রাফাকে বললো, ‘আপনি মাত্র যে ছবি তুললেন তা মুছে ফেলুন।‘ রাফা বেচারার মন খারাপ হয়ে গেল। নেভি চেকপোস্ট থেকে আমরা চলে গেলাম পিকনিক স্পটে। নদী পানি সবুজের এক দারুণ সংমিশ্রণ। এখানে কায়াকিং করার সুব্যবস্থা আছে।

এখান থেকে আমরা সরাসরি চলে গেলাম কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। এখানে ভাইয়ার বন্ধু শামীম ভাইয়ের দোকানে আড্ডা হলো। রাঙামাটি এসে স্মৃতি বা প্রিয়জনকে উপহারের জন্য না নিজের ব্যবহারের জন্য এখানে থেকে টুকটাক কেনাকাটা করতে পারেন। শামীম ভাইয়া বিজিবি ও সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে আমাদের নিয়ে গেলেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে। এখানে কর্নফুলী নদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প করেছে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সরকার। এই প্রকল্পের কারণে রাঙামাটি শহরের এই অবস্থা। দ্বিতীয় পর্বে এটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছিলাম।

জুড়িয়ে দিল চোখ। (ছবি : লেখক) 

প্রজেক্ট থেকে বেরিয়ে চা খেয়ে আবার রওয়ানা দিলাম। শামীম ভাইয়া একটা ঠিকানা দিলেন ওখানে কায়াকিং করা যাবে। আবার আসাম বস্তি রোড ধরে যাচ্ছি। এবার আবার নতুন মনে হচ্ছে রাস্তাটা। এই রাস্তায় চলতে চলতে প্রচুর আম বাগান চোখে পড়লো। মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে, বাজারে যাচ্ছে। একদম নির্জন রাস্তায় মেয়েদের এমন চলাফেরা আমাকে বেশ অবাক করলো। ভিতর ভিতর অবশ্য বেশ একটা ভালো অনুভূতি কাজ করছে। আমাদের সিএনজি এসে থেমেছে একটা ঘাটে। এখানে আমরা কায়াকিং করবো। কাঠের দোকান, রাস্তার ওপারে হোটেল। ওখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হ্যামক ঝোলানো। হ্যামকে ঝুলে পাহাড় পানি আর মেঘ দেখা এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে? আমি অনন্ত করলাম না, সাথে আকাশ আর রাফাও।

কায়াকিং শুরুর আগেই আপনাকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমরা ৫০% ছাড় পেলাম এখানে শামীম ভাইয়ার উছিলায়। আমাদের পাঁচ জনের তিনটা কায়াক। আমি গগণ ভাই, আকাশ আর রাফা। আবীর একাই একটাতে ওঠেছে। কায়াকে ওঠে দেখলাম সামনে নির্জন একটা দ্বীপ দেখা যাচ্ছে। ঠিক করলাম ওখানে যাব আমরা। আকাশ আমাদের ছবি তুলছে। আমার সাথে গগণ ভাই বেচারা অসাধারণ নৌকা চালায়। লেকের মাঝে গিয়ে গগণ ভাইকে থামতে বললাম। চারপাশে রাজ্যের নিস্তব্ধতা শুধু কলকলে পানির শব্দ। চুপচাপ চোখ বন্ধ করলাম, অনুভূতিটা বোঝাতে পারবো না।

অথৈ পানির মধ্যে ভেসে আছি। সামনে সারি সারি পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে মেঘ লেপটে আছে। হালকা রোদ কিন্তু তীব্রতা অনেক। একে সরাসরি সূর্য তার ওপর পানির মধ্যে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি চোখে লাগছে। আমরা টিলার কাছে এসে আবার ঘুরলাম। আসার সময় বুঝতে পারিনি স্রোতের পরিমাণ এত বেশি এখানটায়। রোদ, লাইফ জ্যাকেট সাথে স্রোতের বিপরীতে কায়াকিং। যখন ঘাটে এসে থামলাম তখন বেশ ক্লান্ত। কায়াক থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, যা ভয় পাচ্ছিলাম তাই হয়েছে। পায়ের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। হাঁটু ভাঁজ করতে পারছি না। সামান্য এক্সারসাইজে এবারের মতো রক্ষা।

আমরা আবার শহরের দিকে রওনা হলাম। রাস্তার দুইপাশে রক্ত জবার সারি। জানিনা এটা পরিকল্পিত ভাবে কেউ লাগিয়েছে কিনা। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় কেউ এমন হাজার হাজার রক্ত জবা লাগালেও আমি অবাক হবো না। এখানে যে আলো আমি দেখেছি, যে রুচিবোধের পরিচয় আমি পেয়েছি তাদের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। এই পাহাড়ে চোখে পড়লো কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং স্কুল।

পাহাড়

ছাদ থেকে এমনই দেখাচ্ছিল জায়গাটা। (ছবি : লেখক ) 

পথের ধারে ছোট্ট বাজার দেখে দাঁড়ালাম। বাঁশের গুঁড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, জাম, আম, কাঁঠাল, বন মুরগী আনা হয়েছে বিক্রির জন্য। কিন্তু বন মুরগী গুলো জবাই করে, পরিষ্কার করে আগুনে ঝলসে আনা হয়েছে। আমাদের সিএনজি ভাই এক কেজি মাছ কিনলেন। এখন নাকি রাঙামাটিতে মাছের দাম অনেক। উনি যে মাছ ১২০ টাকা দিয়ে এক কেজি নিলেন সেই মাছের কেজি ঢাকাতে ৭৫০ টাকা। মে জুন জুলাই রাঙামাটিতে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। এই সময় মাছের ডিম ছাড়া ও বাচ্চা ফোটার সময়। এই সময় জেলেদের সরকারি ভাবে অনুদান দেওয়া হয়।

আমরা আজ রাঙামাটি শহরে লাঞ্চ করবো। বিকেল হয়ে গেছে। এখানকার খাবার টেস্ট করে দেখতে চাই। এর মধ্যেই ভাবির ফোন। ভাবির আদেশ যেখানেই যাও সমস্যা নাই। কিন্তু খাওয়া দাওয়া বাসায় করতে হবে। অগত্যা বাসায় ফিরলাম। এভাবে খাবার খেলে আর টাটকা ফল খেলে তো দুই দিনেই অনেক মোটা হয়ে যাবো। খাওয়া শেষে হাত না ধুয়েই দেড় ঘণ্টা আড্ডা হলো ডাইনিং টেবিলে। ভাবিকে আবীর জানালেন আজ রাতের রান্না সে করবে। ভাবির এক কথা খাওয়া যাবে তো? তুমুল হাসির রোল ওঠলো।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে, বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ওঠতেই ঘেমে নেয়ে একাকার। এখন যাব পুরনো বাস স্ট্যান্ডে। সকালের বাসের টিকেট করতে হবে। সেই বাস আমাদের বান্দরবান নিয়ে যাবে। রাঙামাটি পার্বত্য তিন জেলার মাঝে অবস্থান হওয়ায় এখান থেকে বান্দরবান বা খাগড়াছড়ি যাওয়া সহজ। কিন্তু এখানে থেকে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে তিনটা করে বাস সার্ভিস আছে। সেগুলো সকালে চলে যায়। আগের দিন টিকেট না করলে সিএনজিতে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে হবে। পথের ক্লান্তির সাথে খরচও বাড়বে তখন।

পুরানো বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশেই সাধারণ বেশ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কেউ রাঙামাটি আসলে এখানে থাকতে পারবেন। রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আবার রাঙামাটি সারা দিনের জন্য সিএনজি পাবেন দুই হাজারের মধ্যে। আবীর রাফা গগণ ভাই গিয়েছে কাউন্টারে টিকেট করতে। আমি আশেপাশে ঘুরে দেখছি। কিন্তু তারা হতাশ হয়ে ফিরলো। আমরা কাউন্টারে পৌঁছানোর আগেই টিকেট বিক্রি শেষ। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। চিন্তা মানেই ঘুরতে আসার আনন্দ মাটি। একটু খরচ বাড়বে এই আরকি।

পাহাড়

এখানে গেলে কারও আসতে ইচ্ছে করে না। (ছবি : লেখক) 

পুরনো বাস স্ট্যান্ড থেকে হাঁটতে হাঁটতে বনরূপা চলে এলাম। উদ্দেশ্য মানুষ দেখা আর কিছু পেলে খেয়ে চেখে দেখা। রাস্তায় পেলাম পেয়ারা, তারপর গেলাম এখানকার হোটেলগুলোতে। আবীর আর আমি দই খেলাম। আহ! কি দারুণ স্বাদ! খেতে খেতে দুইজন ছ্য় গ্লাস দই খেয়ে ফেললাম। যদিও আকাশের কাছে একদম ভালো লাগেনি এটা। এ দোকান ও দোকান হাঁটাহাঁটি আর দামদর চলছে।

বাসায় ফিরে আমরা গেলাম ছাদে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। আকাশে কোন মেঘ নেই। আকাশ ভর্তি তারা সামনে পানি আর পাহাড়। এমন একটা রাত দেখবো বলেই হয়তো বেঁচে আছি এখনো। এই তুচ্ছ জীবনে বেঁচে থাকাটা যে কতটা ভাগ্যের তা মাঝে মাঝে উপলব্ধি করি। মনে হয় একটা গেমের মধ্যে আছি। প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলা। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোজা রান্নাঘর। ভাবি বলে সত্যিই কি তোমরা রান্না করবে? কখনও রান্না করেছ?

আবীর খিচুড়ির দায়িত্বে। আমি পেঁয়াজ মরিচ কাটবো আর রাফা আলু ভর্তা করবে। রান্নার থেকে খাওয়া হচ্ছে বেশি। ভাবির কথা তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইয়া এতো আম, আনারস, পাহাড়ি কলা আর জাম যে এনেছে  এগুলো কে খাবে? আমরা চারজন খাওয়া শুরু করলাম রাফা আর আকাশ সেই দিক দিয়ে প্রথম।

আরও পড়ুন : পাহাড়, পানি আর সবুজের টানে (পর্ব - ০১)

এর মধ্যেই দুইটা দাওয়াত পেলাম। প্রথম দাওয়াত পেলাম কাপ্তাই কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে। আমাদের জন্য একটা বাংলো রাখা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর পাড়ের এই বাংলোতে রাত থাকার আমন্ত্রণ। আরেকটি এক বন্ধুর কাছ থেকে। তার বাড়িতে দুপুরে খাবার নিমন্ত্রণ। তার সাথে পরিচয় হয়েছিল ২০১৭ সালের পাহাড় ধসের সময় কাজ করতে গিয়ে। তার বাড়িও রাঙামাটিতে।

খিচুড়ি আলু ভর্তা, গোস্ত, সালাদ, আচার, খাবার পরে ফল আহা আর কি লাগে। আবীরের রান্নার প্রশংসা ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলতে লাগলো।

রাত বাড়ছে, খুব অস্থির লাগছে। চোখে তন্দ্রা লেগে আসছে। পিচ্চিগুলো খুব অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তকিয়ে আছে। কি জনি ওরাও আজকাল মনের কথা বুঝতে পারে মনে হয়। ওদের গল্প বলতে শুরু করেছি অমনি মাথা নাড়িয়ে না বলে চলে গেলো দৃষ্টির আড়ালে। আজ কোনো গল্প বলার তাড়া নেই...

কেমন একটা মায়া পরে গেছে এই জানালার প্রতি। এই ছাদ পাহাড় আর এই মানুষ গুলোর প্রতি।

ওডি/এসএম 

দেশ কিংবা বিদেশ, পর্যটন কিংবা অবকাশ, আকাশ কিংবা জল, পাহাড় কিংবা সমতল ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা অথবা পরিকল্পনা আমাদের জানাতে ইমেইল করুন- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড