• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

নির্বাণদীপের দেশ নেপালে

  সপ্তদীপা নীলাঞ্জনা ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:২২

নেপাল
জুড়িয়ে দিলো চোখ আমার, পুড়িয়ে দিলো চোখ। (ছবি : লেখক) 

তখনও একটা বিস্ময়ের মধ্যে, যতটুকু গতিবেগ নিয়ে আকাশটাকে ভেদ করে উপরে উঠে যাচ্ছিল বিমানটা, ঠিক ততটুকু গতিবেগে বুকের মধ্যে অবিরাম হৃদকম্পন হচ্ছিল। যখন মাটি থেকে আকাশে উঠতে শুরু করে খুব জোরে ঝাঁকুনি হতে থাকে বিমানের ভেতরেও। ভয়ে কিংবা অধিক উত্তেজনায় আমার শরীরের ভেতর রক্তের শীতল স্রোত বয়ে গেল। আমি আর অন্ত শক্ত করে হাতে হাত রেখে মুহূর্তটা অনুভব করছিলাম মনের সমস্ত অনুভুতি নিয়ে।

এই আমার প্রথম বিমানযাত্রা। দেখতে দেখতে মাটি থেকে অনেক উঁচুতে উঠে গেলাম আমরা। মনে হলো যেন শূন্যে ভাসছি। রাজধানী শহরটাকে আকাশ থেকে অনেক ছোট্ট মনে হয়, বাড়িঘরগুলো খেলনা বাড়ির মতন, মনে হচ্ছে হালকা আঘাতেই ভেঙ্গে পড়বে। কত রঙের দালানকোঠা, কিন্তু কোথাও কোনো সবুজের ছোঁয়া নেই, রূপকথার গল্পের এক মৃত শহর দেখলাম যেন। আমি আর চোখ ফেরাচ্ছি না জানালার বাইরে থেকে। মেঘ ঘেঁষে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে।

একটা সময় মনে হলো আকাশ ফুটো করে আরও অনেক উপরে উঠে গেছি। মেঘদের দল তখন অনেক নিচে। আমি ভাবছি, আকাশের এত উপরে কোনো ট্রাফিক নেই, কোনো লাল-হলুদ-সবুজ বাতি নেই, আলাদা করে কোনো পথ দেখা যায় না যে পথ ধরে এগোনো যায় নিঃসীম শূন্যের ভেতর দিয়ে; তাহলে প্রতিদিন শত শত বিমান সঠিক গন্তব্যে যায় কেমন করে! অন্ত হেসে বলে, ধুর পাগলী! তুই এও জানিস না, পাইলটেরা ঠিক পথ ধরেই এগোয়। ওরা উত্তর দক্ষিণ হিসাব রেখে, অক্ষরেখা দ্রাঘিমারেখা এই লাইন মেনে এগিয়ে যায়। আমি মাথা চুলকোতে চুলকোতে বলি, "ইশ! তাহলে পাইলট হলেই ভাল হত। প্রতিদিন আকাশে উড়ে বেড়াতাম, এক দেশ থেকে অন্য দেশে! আফসোস হচ্ছে রে।" অন্ত স্বভাবসুলভ হেসে বলে, "ওরে গণ্ডমূর্খরে, তোকে আর কত কি যে শিখিয়ে নিতে হবে!" দুই বন্ধু এমন আবোল তাবোল গল্প করে অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেললাম।

নেপাল

নেপালের আনাচে কানাচে অসংখ্য মন্দিরের দেখা মেলে। (ছবি : লেখক)

বাংলাদেশ থেকে নেপালের আকাশপথের দূরত্ব মাত্র এক ঘণ্টা দশ মিনিট। দেখতে দেখতে সময় ফুরিয়ে গেল অথচ বিস্ময় রয়ে গেল চোখে। নেপাল দেশটাকে চারপাশ থেকে আগলে রেখেছে বিভিন্ন ছোটবড় পাহাড়। পাহাড়ের মধ্যিখানে একটা ছোট দেশ, শান্তির দেশ। বিমান থেকে নেমে দাঁড়াতেই পাহাড়ি শীতল হাওয়া এসে লাগল শরীরে, শরীর জুড়িয়ে গেল, সাথে মনটাও কেমন কোমল হয়ে উঠল। বিমানবন্দর থেকে সব ফরমালিটিজ শেষ করে বাইরে বের হতেই দেখতে পাই আমার আর অন্তর নামের প্ল্যাকার্ড হাতে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে দুইজন মেয়ে।

আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতেই তারা আমাদের গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিল। আমি অন্তর দিকে তাকিয়ে বাংলায় বললাম, "নেপালেও তাহলে গাঁদা ফুল পাওয়া যায়!" অন্ত একটু হেসে দিল, জানে যে ওরা বাংলা বোঝে না। ইয়ুথ ক্যাম্পের মেম্বার দুজন এসেছে আমাদের রিসিভ করতে, একজনের নাম স্টেলা, অন্যজন র‍্যাচেল। আমরা আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম অন্য একজনের জন্য, তারও বাংলাদেশ থেকে আসার কথা, আমাদের সাথে একই ফ্লাইটে। একটুপর সেও হাজির, তার নাম এস্টার। আমি আর অন্ত জানতাম না বাংলাদেশ থেকে এস্টারও আসবে।

আমরা গাড়ি দিয়ে হোটেলে যেতে যেতে নেপালের পথঘাট, মানুষজন পরিবেশ এইসব দেখছিলাম, আর গল্পে মেতে উঠছিলাম। হোটেলে চেক ইন করে লাগেজ রেখে বেরিয়ে পড়লাম শহর দেখতে। নেপালের দালানকোঠা আর বাংলাদেশের দালানকোঠা সম্পূর্ণ ভিন্ন আদলের। ইট সিমেন্ট দিয়ে বানানো হলেও এখানে কাঠের কারুকাজ, কাঠের দরজা-জানালা সর্বোপরি কাঠের ব্যবহার চোখে পড়ে বেশি। প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে আলাদা সময় নিয়ে দেখতে হয়। সবচেয়ে বেশি যেটা চোখে পড়ল, তা হচ্ছে মন্দির। নেপালের কাঠমন্ডু শহরটাকে বলা হয়, সিটি অব ট্যাম্পলস। এখানে পথে ঘাটে হরহামেশাই দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন হিন্দু মূর্তি। গাছের কোটরে, রাস্তার ধারে, কোনো দোকানের পাশে, কিংবা কোনো পাথরকেই দেবতা মেনে মন্দির বানিয়ে পূজা হয়, কোনোটা আবার এমনিই পড়ে থাকে।

নেপাল

মন্দিরের গায়ে গায়ে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য। (ছবি : লেখক)

ফুচকার দোকান দেখে আমি লোভ সামলাতে পারলাম না, ফলে সবাই ফুচকা খাওয়ায় মজে গেলাম। এখানের ফুচকার স্বাদ দিল্লির ফুচকার (দিল্লিতে ফুচকাকে পানিপুরি বলে) স্বাদের মতো। বাংলাদেশে এমন স্বাদ পাওয়া যায় না। এরপর হাঁটতে হাঁটতে আবারও থেমে গেলাম। র‍্যাচেল আমাদের গাইড। সে নিয়ে গেল এক লাচ্ছির দোকানে। এখানকার বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড এই লাচ্ছি। বলাই বাহুল্য, এমন স্বাদের লাচ্ছি আগে কোথাও খাইনি। আমরা পর পর দুই তিন গ্লাস একটানে সাবাড় করে দিলাম। নেপালে কুমারী দেবীর পূজা করা হয়। কোনো একজন কুমারীকে দেবী মানা হয়, সেই কুমারীর যতদিন পর্যন্ত না ঋতুস্রাব হয়। আমি নেপাল আসার আগে ইউটিউবে অনেকগুলো ডকুমেন্টারি ভিডিও দেখেছিলাম, বিবিসি নিউজে এই কুমারী দেবী সম্পর্কে অনেককিছুই জেনেছিলাম। এবার যাচ্ছি সেইখানে যেখানে দেবী থাকেন।

তিনতলা বাড়ি, ভেতরে অনেক মানুষজন। তারা তিনতলার জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন। এই জানালায় হঠাৎ দেবী মুখ তুলে তাকান। তাঁর ভক্তদের দেখেন। বলা হয়, যারা অনেক পুণ্য করেন, তারা দেবীর দর্শন পান। এজন্য এক একজন ভক্ত কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, তা বলা কঠিন। আমরাও ওই জানালার দিকে তাকালাম, এক দুই মিনিট পরে আবার বাইরে বেরিয়ে এলাম। মনে হয়, দেবী অত প্রসন্ন নন আমাদের উপর, আর আমাদেরও অনেক কিছু দেখা বাকি। তাই সামনে এগোনোই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

নেপাল

আকাশে উড়ছে মন্ত্রের কাপড়। (ছবি : লেখক)

র‍্যাচেল কথায় কথায় বলল, সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। আমি একটু অবাকই হলাম। কেনোনা নেপাল এমন এক দেশ যেখানে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঠাকুর দেবতার মন্দির। মানুষ বুঝে না বুঝে এখানে ওখানে মাথা ঠুকে যাচ্ছে পরম ভক্তিতে। সেরকম জায়গায় আসলে আলাদা করে ভাবাটা বেশ কঠিন। আমরা এবার গেলাম স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরে। মন্দির মানেই পবিত্র জায়গা। মন আপনা হতেই শান্ত হয়ে যায়। এখানে ঢুকবার মুখে অনেক হনুমান দেখা যায়। এই হনুমানগুলোকেও অনেকে হাত জোড় করে নমস্কার করছিল। বুঝলাম এইগুলো এখানকার হনুমান। অনেকে খাবার খাওয়ায় এদের। আবার অনেকের খাবার অথবা জিনিসপত্র নিয়েও নেয়। একটু সাবধানে থাকতে হয়।

বিশাল বড় ঘণ্টা রাখা মন্দিরের প্রবেশপথে, ভেতরে এরকম আরও ছোট ছোট ঘণ্টা আছে। যে জিনিসটা নেপালের অন্যতম আকর্ষণ আমার কাছে মনে হয়, তা হলো লাল নীল হলুদ ছোট ছোট কাপড়ে লেখা সংস্কৃত মন্ত্র। এগুলো একটার পর একটা লাগিয়ে অনেক বড় করে এ মাথা থেকে ও মাথা লাগিয়ে রাখা। সারা শহরজুড়ে সবখানেই এই নেপালী বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। আমি নিজেও এরকম অনেকগুলো মন্ত্রের কাপড় কিনলাম। যে দিক থেকে সূর্য ওঠে, সেদিক থেকে লাগাতে হয়। বলা হয়, সূর্যের আলো এই মন্ত্রের ভেতর দিয়ে ঘরে এলে সারাদিন শুভ কাটবে। এটা বিশ্বাস, এখানে যুক্তিতর্ক চলে না। আমি শুধু ভাললাগা থেকেই কিনে নিলাম কয়েকটা।

স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির শহর থেকে অনেকটা ওপরে। এখান থেকে শহরটা পুরো দেখা যায়। আমরা বিকালের আলো গায়ে মেখে দূরের পাহাড় আর নিচে কাঠমান্ডু শহরটার প্রাণশক্তি নিজের ভেতর নিংড়ে নিলাম। সন্ধ্যায় হোটেলের সামনে কিছু কেনাকাটা করে, ডিনার সেরে ঘুম।

পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙল। আমাদের এই ইয়ুথ ক্যাম্পের সিইও সুধা সুবেদী, চমৎকার দেখতে, বয়স সাতাশ কি আটাশ, সে নিজে পুরো ক্যাম্পের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিব্যি ফুরফুরে মেজাজে কাজ করে যাচ্ছে। সুধার সাথে আগের রাতে ডিনারে দেখা হয়। ভোরে উঠে সুধা, আমি, অন্ত, এস্টার আমরা হোটেলের ছাদে ইয়োগা আর মেডিটেশন করি; এরপর ব্রেকফাস্ট। নেপালে ফ্রেশ ফুড পাওয়া যায় সর্বত্র। খাবারের গুণগত মানের দিক থেকে নেপাল বাংলাদেশ ও ভারতের চেয়ে অনেক উন্নত।

নেপাল

নেপাল আসবো আর লাফিং বুদ্ধ কিনবো না তা কি হয়? (ছবি : লেখক)

সেদিন আমাদের ব্যস্ততম একটি দিন ছিল, সারাদিন ক্যাম্পে হিউম্যান রাইটসের বেশ কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে বক্তব্য, অভিজ্ঞতা, আলোচনা হতে থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমরা মানে, সুধা, আমি, অন্ত, এস্টার, র‍্যাচেল, মোহান সবাই একসাথে নেপালি ট্র্যাডিশনাল ফুড খেতে যাই একটা বিখ্যাত রেস্টুরেন্টে। একটা বড় কাঁসার থালায় ভাত, বিভিন্ন ভর্তা, তরকারি গোল করে চারদিকে সাজিয়ে দেওয়া হলো। এই খাবারকে একসাথে বলা হয়, থালি। আমার যেটা ভাল লাগে, তা হল ডেকোরেশন। সব কাঁসার থাল বাসন, বাটি, চামচ; আর দেয়াল জুড়ে বড় বড় পেইন্টিং। এরা খাবারে ঝাল একদম কম খায়, আর খাবারে পরিমিত পরিমাণে মশলা ব্যবহার করে। বাংলাদেশের সাথে এই বিষয়ে তুলনা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খাওয়া শেষ করে শহর দেখতে দেখতে হোটেলে ফিরছিলাম। আমার কাছে রাতের নেপাল যেন আঠারো বছরের যুবতী। এত রঙ, এত আলো বারবার আকর্ষণ করে। একটা অন্য আমেজ, বেশ অন্য রকমের যেমন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আর সনাতনী একটা রূপ নজরে আসে। রাস্তাঘাট দালানকোঠায় পুরনো আমলের একটা ছাপ যেমনটা আগে বলেছিলাম, আর যেদিকে চোখ যায় গৌতম বুদ্ধের ছবি বা মূর্তি অথবা কোন দেব দেবীর মূর্তি ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো এখানে প্রচুর বিক্রি হয়। নেপালে গিয়েছি অথচ লাফিং বুদ্ধ কিনব না- এ হতেই পারে না! আমি লালচে মেটে রঙের একটা ছোট লাফিং বুদ্ধ আর রুদ্রাক্ষ কিনলাম বেশ দামদর করে। র‍্যাচেল কেনাকাটায় খুব সাহায্য করল। নেপালীরা রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট সবকিছু বন্ধ করে দেয়। আমরাও এর মধ্যে সব কেনাকাটা করে হোটেলরুমে চলে এলাম। ঘরের আলো নিভিয়ে দেবার পরেও অনেক রাত অবধি আমার আর অন্তর গলা শোনা গেল।

নেপাল

মন্ত্রের কাপড় বেয়ে নেমে আসবে সুখ। এমনই বিশ্বাস নেপালীদের। (ছবি : লেখক)

জীবনের নানা টানাপোড়েন, সুখ দুঃখ গলা জড়িয়ে ভাগাভাগি করে নেবার পালা দুই বন্ধুর বহুদূরে সকলের অলক্ষ্যে। পরদিনও যথারীতি ইয়োগা আর মেডিটেশন দিয়ে দিনের শুরু। এরপর মূল আলোচনা, অনুষ্ঠান, কালচারাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, এভাবেই বিকাল গড়িয়ে গেল। আমরা বিকেলের শেষভাগে এসে সবাই মিলে মাঠে নেমে গেলাম, ফুটবল খেলতে। জীবনে কোনদিন আমি ফুটবল খেলিনি। শুধু দেখেছি। প্রথমবার সবার সাথে খেলে খুব আনন্দ পেলাম আমরা। অল্প একটু সময় খেলেও শরীর যেন বহুদিন পর নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। বেশ হালকা লাগছিল নিজেকে।

সে রাতে হোটেলেই খেলাম। ক্লান্তিতে সহজেই ঘুম পেয়ে গেল আমার। পরদিন গেলাম থামেল। বেশ দূরের পথ। থামেলের অভিজ্ঞতা ভাষায় অপ্রকাশ্য। যেতে পথে এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে আমরা স্পেশাল চাইল্ডদের স্কুল পরিদর্শনে গেলাম। চোখে জল চলে এল ওদের দেখে। আমরা সেখানের স্কুলপ্রধানের সাথে কথা বললাম। কিভাবে এটি পরিচালিত হয়, কিভাবে বাচ্চাদের পড়ানো হয় এসব নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। এরপর আবার যাত্রা গন্তব্যে । ভেবেছিলাম, এখানে এনে আমাদের আরও কিছু সেশন নেওয়া হবে। অন্য হোটেলে রাখা হবে। কিন্তু যা হলো সেটা কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি।

আমরা পাহাড়ের গায়ে এক নেপালী বাড়িতে এসে উঠেছি, রাতটা এখানেই থাকব। এটা এমন একটা জায়গা যেখান থেকে পুরো নেপালের একটা দিক চোখে পড়ে৷ সেই যে বিমানবন্দরে নেমেই চোখ জুড়িয়ে গেল পাহাড় দেখে, সেই পাহাড়গুলোর কোন একটাতে একেবারে নেপালী কায়দায়, ওদের সাথে থাকা এটা কখনো চিন্তাতেও আসেনি। দোতলা কাঠের বাড়ি। আামাদের জন্য নিচতলায় রুম দেওয়া হয়েছে, আর দোতলা তো পুরো ফাঁকা শুধু ওপরে চালা দেয়া। এখানে চৌকি বিছানো, আমরা চৌকিতে বসে পাহাড়ের বুকে সন্ধ্যা নামতে দেখলাম।