• রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

জ্যামাইকার অদ্ভুত কিছু ঐতিহ্য ও রীতিনীতি

  ফারিয়া এজাজ ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০২

ছবি : অ্যাবাউট জ্যামাইকা

জ্যামাইকা, ক্যারিবিয়ান এই দ্বীপটি নিশ্চয়ই এতদিন বব মার্লের দেশ, দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র সৈকত, র‍্যাগে মিউজিক এবং ব্লু মাউন্টেন পিক কফির জন্য জনপ্রিয় হিসেবে চিনতেন তাই না? তবে এই দেশটিতে এমন সব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে যা জেনে সত্যিই অবাক হবেন। 

কুমিনা ড্যান্স- 

কুমিনা একটি জ্যামাইকান ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেখানে গান, নাচ, আত্মার ওপর দখল করা হয়। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয় পূর্বপুরুষদের তুষ্টির জন্য। সম্ভবত আফ্রিকান সংস্কৃতির সাথে এই অনুষ্ঠানটি সবচাইতে বেশি জড়িত। কুমিনার ধর্মীয় সংঘবদ্ধ দলটি মূলত কঙ্গো থেকেই এসেছে।  

কুমিনা হলো জ্যামাইকান নাচ, ঐতিহ্যবাহী গান, ছন্দময় ড্রাম বাজানোর সংমিশ্রণ। এই অনুষ্ঠানটি বেশ সুরেলা এবং খুবই দৃষ্টিনন্দন। সেখানকার নাচিয়েরা জ্যামাইকান পোশাক পড়েন এবং সম্মোহিত ড্রাম বাজানোর সুরে নাচেন এবং আত্মাদের সংস্পর্শে আসার জন্য গান গাইতে থাকেন। এমনটি তারা করেন, কারণ তাদের বিশ্বাস যে পূর্বপুরুষেরা সেই নাচিয়েদের মধ্যে একজনের ওপর এসে ভর করবেন। নির্দিষ্ট নাচের ধরণ, প্রাণবন্ত সুর এবং রঙ বেরঙের পোশাক সবকিছু মিলে এক শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

কুমিনা কেন অনুষ্ঠিত হয় জানেন? আসলে এর অনেক কারণ রয়েছে। কুমিনা নাচ শেষকৃত্যানুষ্ঠান বা পুনরুজ্জীবিত করার কাজে, বিবাহ ও এনগেজমেন্ট বা যখন কোনো কাজে সৌভাগ্যের দরকার হয় (যেমন- আদালতে কোনো মামলা মোকদ্দমায় জেতার ব্যাপার থাকে) তখন ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সাধারণ সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে বা বিনোদনের জন্যও এই কুমিনা নাচ করা হয়ে থাকে। 

জ্যামাইকান চিলড্রেনস স্টোরিজ- 

জ্যামাইকার সংস্কৃতি এবং লোকাচারবিদ্যা ভূত, প্রেতাত্মা এবং ডুপি (জ্যামাইকার স্থানীয় ভাষায় ভূত ও প্রেতাত্মা) দিয়ে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে অনেক ভূতই আদতেই আসল মানুষ এবং অনেক ভূত শিশুদের ঐতিহ্যবাহী রাতের ঘুমের গল্পের বইগুলোতে জায়গা করে নিয়েছে। এদের মধ্যে একটি হল ‘ওলিজ’ যে রাতেরবেলায় চামড়া খুলে বাচ্চাদের রক্ত পান করেত যায়। কিন্তু বাচ্চা যেখানে ঘুমাবে তার পাশে কাটা চামচ এবং চাকু ক্রস করে রাখলে বা বাইবেল রাখলে এই ভূতটি প্রতিহত করা সম্ভব।  
 
তবে যদি চিরকালের জন্য তাকে প্রতিহত করতে হয়, তবে তার চামড়া খুঁজে লবণ ও মরিচের পানিতে চুবিয়ে রাখতে হবে। অন্য আরেকটি আতঙ্কজনক ভূতের নাম হল ‘রোলিং কাফ’ যাকে মূলত রাতের ভূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি আসলে বিশাল একটি ষাঁড় যার চোখ দুটো লাল এবং ঠং ঠং আওয়াজ করা একটি চেইন এর সাথে থাকে। তার দিকে তাকানোটাই বিপদের আহ্বান জানানোর সমান এবং সেটি যদি আক্রমণ করে তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় যে মৃত্যু নিশ্চিত! 

জ্যামাইকা এমন একটি দেশ যা নানান রকম সংস্কৃতিতে ভরপুর। আর সেখানে রয়েছে অগনিত রীতিনীতি, ঐতিহ্য, কুসংস্কার যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। আর সেখানকার মানুষের বিশ্বাস যে, এগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের অতীতের সাথে সম্পৃক্ত হয়। 

যদিও প্রতিনিয়ত জ্যামাইকার সংস্কৃতি পরিবর্তন হচ্ছে তবুও এই পুরোনো ধারার ছিটে ফোঁটা হলেও সেখানে আজও রয়ে গিয়েছে যা সেখানে গেলেই বোঝা সম্ভব।  

ওবিয়াহ্‌ এক ভয়ানক কালো জাদু- 

ওবিয়াহ্‌ হল এক ধরনের বিশ্বাস যা অনেক আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও আজকাল অনুশীলনকারীদের অনুসরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করাটা বিরলই বলা চলে। এটি হলো এক ধনের ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু যাতে মানুষ তার শত্রুকে অভিশাপ দেয় বা শত্রুর অভিশাপ থেকে নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলে, নিজেদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে বা অসুখ সারিয়ে নেয়। 

ওবিয়াহ্‌ অনুশীলনকারীদের (তারা ‘ওবিয়াহ্‌ মেন’ হিসেবে পরিচিত) ভাড়া করা হয় তাদের জাদুমন্ত্র পড়ার জন্য এবং ক্রিয়াকলাপ করে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য আনার জন্য। ওবিয়াহ্‌ মেনরা এখনও জ্যামাইকার গ্রামাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। যদিও শহরাঞ্চলে তাদের অসাধু ও কাপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

এই ঐতিহ্য ও রীতিনীতিগুলো থেকে কোনটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে? 

তথ্যসূত্র : রাফ গাইডস 

দেশ কিংবা বিদেশ, পর্যটন কিংবা অবকাশ, আকাশ কিংবা জল, পাহাড় কিংবা সমতল ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা অথবা পরিকল্পনা আমাদের জানাতে ইমেইল করুন- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড