• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

১ টাকায় ইডলি বিক্রি করে দৈনিক ২০০ টাকা লাভ থাকে এই বৃদ্ধার!

  লাইফস্টাইল ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৫

সফেদ রঙা শাড়ি পরিহিতা একজন বৃদ্ধা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন অনেকখানি। চুলের খোঁপাজুড়ে কেবল সাদা চুলের উপস্থিতি। এ বয়সে নিজের কাজ করতেও কষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু এই নারী যেন টিকে রয়েছে আপন শক্তিতে। তাইতো রোজ বলিরেখায় শীর্ণ হাতে আঁচ ধরার উনুনে। সেই আঁচে তৈরি করেন ইডলি (সেদ্ধ চালের আটা দিয়ে তৈরি এক ধরনের পিঠা)। সে সঙ্গে বানান সম্বর, চাটনি সবই। 

এক দুইদিন নয়, গত দুই দশক ধরেই এ কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আপনি চাইলে সেই বৃদ্ধার কাছে গিয়ে খেতে পারে প্লেট ভর্তি ইডলি, সম্বর, চাটনি। দাম? মাত্র ১ টাকা! কি, চমকে গেলেন? অবিশ্বাস্য মনে হলেও গত কুড়ি বছর ধরে এই দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। 

মাত্র ১ টাকায় ইডলি বিক্রি করা এই বৃদ্ধার নাম কমলাথল। সুযোগ থাকলেও এই দাম বাড়ান না তিনি। কারণ, নামমাত্র মূল্যে বুভুক্ষু দরিদ্র মানুষের সামনে খাবার পরিবেশন করাই তার ইচ্ছে। ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ভাইরাল হয়ে গেছেন কমলাথল। 

প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় উঠে ইডলি বানাতে বসেন তিনি। দুপুর অব্দি চলে এই রান্নার কাজ। দৈনিক গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ইডলি বিক্রি হয় তার। এত কমে বিক্রি করেও রোজ তার লাভ থাকে গড়ে ২০০ টাকা। চাইলেই হয়তো বিত্তবান ব্যবসায়ী হয়ে যেতে পারতেন এত দিনে। কিন্তু কমলাথলের অর্থের লোভ নেই। যৎসামান্য মূল্যে খাবার পরিবেশনেই তাঁর আনন্দ। 

ইডলি

ক্রেতাদের পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন কমলাথল

যা পাচ্ছেন তাতেই খুশি কমলাথল। নেই কোনো আক্ষেপ। বরং, এভাবেই থাকতে চান তিনি। যা উপার্জন করেন তাতে হেসেখেলে জীবন চলে যায়। জানালেন নিজেই। সোশ্যাল মিডিয়ার তিনি অবশ্য এখন পরিচিত ‘এক টাকার ইডলি ঠাকুমা’ পরিচয়ে। 

এই যে এত ইডলি বানান পুরো কাজই কিন্তু করেন মাটির চুলায়। গ্যাসের কথা জিজ্ঞেস করলে এই বৃদ্ধা জানান, কীভাবে গ্যাসে রান্না করতে হয় সেটাই জানেন না তিনি। রোজ আট কেজি চাল শিলনোড়ায় বেঁটে কিংবা যাতায় পিষে বানান কয়েকশো ইডলি। অবশ্য সম্প্রতি ভারত পেট্রোলিয়ামের পক্ষ থেকে গ্যাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তাকে। 

প্রতিদিনের কাজে কমলাথলকে সাহায্য করেন নাতবৌ আরতি। ছয়টায় তার দোকান খোলা হয়। ক্রেতা আসতে থাকে সাতটা থেকে। যতক্ষণ ইডলির কাচামা, সম্বর আর চাটনি থাকে ততক্ষণই চলতে থাকে দোকানের কাজ। 

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোই কমলাথলের দোকানের মূল ক্রেতা। তাদের পাতে গরম গরম ইডলি পরিবেশন করাতেই পূণ্য খুঁজে পান এই বৃদ্ধা। ক্রেতারা বুঝেই উঠতে পারে না, এত কমদামে কী করে এক প্লেট ইডলি বিক্রি করেন তিনি! কমলাথলের কাছেপিঠে অনেকেই ইডলির ব্যবসা শুরু করেছিলেন তার দেখাদেখি। কিন্তু তার ধার্য মূল্যের কাছেধারে পৌঁছাতে পারেনি কেউওই। 

বৃদ্ধা হাসিমুখে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেছেন, পরিশ্রমী দরিদ্র মানুষ যখন তার দোকানের ইডলির প্রশংসা করেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার। 

সূত্র- আনন্দ বাজার 

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড