• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ডাক্তারি আর ব্যবসা দুটোই সামলাচ্ছেন তুষ্টি, অনুপ্রেরণায় রয়েছেন স্বামী


১১ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৫
ডা. নুযহাত ফাতেমী তুষ্টি
'এস্টিলো' এর কর্ণধার ডা. নুযহাত ফাতেমী তুষ্টি

ডাক্তার মানুষ সারাদিন ব্যস্ত থাকবে রোগী আর চিকিৎসা নিয়ে। এমনটাই ভাবি আমরা। তবে ডা. নুযহাত ফাতেমী তুষ্টির ভাবনাটা বোধহয় একটু ভিন্ন। পেশা জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, ডেন্টাল সার্জন। একটু থেমে আবার বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ীও। রোগী আর ব্যবসা দুটোই সামলে যাচ্ছেন তুষ্টি। কঠিন সব পড়াশোনার ভিড়ে কী করে ব্যবসা জগতে আসলেই সেই গল্পই শুনবো তুষ্টির কাছ থেকে। 

‘এস্টিলো’ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তুষ্টির। ১ বা ২ বছর নয়, সেই ২০১৫ সালের শেষ থেকেই ব্যবসা জগতে পা রেখেছেন তিনি। অর্থাৎ ডাক্তার তুষ্টি হওয়ার আগেই তিনি হয়েছিলেন ব্যবসায়ী তুষ্টি। 

ব্যবসায় আসার স্মৃতিচারণ করে তুষ্টি বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট কারণে ব্যবসায় আসিনি আমি। একদমই শখ থেকে কাজের শুরু। ধীরে ধীরে তা হয়ে যায় নেশা আর একসময় গিয়ে মনে হয় পেশাও। শুরুর গল্পটা একদমই সাদামাটা। বন্দি জীবন কখনোই পছন্দ ছিল না আমার। টিউশন করাতাম বলে ফাইনাল প্রফের পর বেশি দিন তাই বাসায়ও থাকিনি, চলে আসি হোস্টেলে। 

কিন্তু ফাইনাল শেষ হওয়ার পর সময় যেন কাটতো না। ক্লাস নেই, ওয়ার্ড নেই। সময় কাটাতে রান্না করতাম কিন্তু তাতেও দিন কাটত না। টুকটাক ক্রাফটিংয়ের কাজ পারতাম কিন্তু এসব কাজে যেসব জিনিস লাগে তা চিটাগাং এ সহজলভ্য ছিল না। শেষে একদিন টেরিবাজার থেকে অনেক রকম ফিতা, পুঁতি আর টুকিটাকি জিনিস কিনে আনলাম। নিজের জন্য নানা রঙের হিজাবের পিন বানালাম।  

হোস্টেলে আশেপাশের রুমের জুনিয়ররা দেখে খুব মজা পেল, আমাকে বার বার বললো আপু আমাদেরকেও বানিয়ে দেন। যারা হিজাব পরে না তারা আবদার করলো হেয়ার ব্যান্ড বানিয়ে দিতে। ওদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে খানিকটা পাগলামি করেই খুলে ফেললাম পেইজ। ভালো সাড়াও পেলাম। শুরু হলো ব্যবসায়ী জীবন।’ 

সুন্দরভাবে শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সব ভেস্তে গেল। ইন্টার্নশিপ শুরু করার পর ক্রাফটিংয়ের কাজে আর সময় দেওয়া সম্ভব হলো না। কিন্তু ততদিনে ব্যবসার ভূত চেপে বসেছিল তুষ্টির মাথায়। তাই আর ছাড়তেও ইচ্ছে হলো না। সবদিক ভেবে পরিচিত এক ছোট ভাইকে দিয়ে চায়না থেকে কিছু কসমেটিকস আনান তিনি। আশাতীত ভালো সাড়াও পেলেন। ডাক্তারি আর ব্যবসা দুটোই চলতে লাগল সমান তালে। 

এস্টিলো

এস্টিলোর কিছু পণ্য

শুরুটা ক্রাফটিং দিয়ে হলেও বর্তমানে ‘এস্টিলো’ পরিপূর্ণ নানা ধরনের কসমেটিকস, স্কিন এন্ড হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট, মেকআপ একসেসরিজ দিয়ে। বর্তমানে অল্প বিস্তরে শুরু করেছেন ফেব্রিকের কাজও। ‘এস্টিলো’ এর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পণ্যটি হলো ‘ট্রান্সপারেন্ট ছাতা’। এই পণ্যটিকেই তাই পেজের টার্নিং প্রোডাক্ট বলে মনে করেন তুষ্টি।  

মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা মাথায় রেখে ‘এস্টিলো’ এর পণ্যগুলো মূল্য নির্ধারণ করা হয়। স্বল্প মূল্যে কীভাবে সেরা জিনিসটি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সেটিই ভাবেন তুষ্টি। সেভাবেই জিনিস আনেন এবং দাম ঠিক করেন। 

ব্যবসা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তুষ্টি বলেন, ‘ব্যবসা জীবনে আমি প্রচুর ভালোলাগা স্মৃতি কুড়িয়েছি। আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই পেশায় ডাক্তার। এই ব্যাপারটা আমার ভীষণ ভালো লাগে। প্রায় সব মেডিকেল কলেজের সিনিয়র, জুনিয়র বোনেরা আমার কাছ থেকে পণ্য নিয়েছে। আমার নিজের ক্যাম্পাসের সিনিয়র আপুরাও অনেক উৎসাহ দিয়েছে।

এমন অনেক সিনিয়র ডাক্তার আপু আছেন যাদের সাথে ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে পরিচয় হয়নি। কিন্তু এস্টিলোর মাধ্যমে পরিচয় হয়। আর তারা অনেকেই এখন আমার খুব কাছের মানুষ। যখন কেউ বলেন, আমার ভরসায় মার্কেটে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তখন খুব ভালোলাগা কাজ করে। 

পরিবারের কথাও না বললেই নয়। আমার খালারা সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। আমার থেকে পণ্য কিনে আমার ব্যবসাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। মন্দলাগার স্মৃতি নেই বললেই চলে। তবে অন্য ব্যবসায়ী যখন একই পণ্য ৫/১০ টাকা কমে বিক্রির কথা বলে ক্রেতা কেড়ে নিতে চেষ্টা করে তখন খুব খারাপ লাগে।’

একজন অনলাইন ব্যবসায়ীর কাছে নিজের প্রতিষ্ঠান সন্তানের মতো। তুষ্টি ব্যবসা নিয়ে অনেক প্ল্যান করলেও মূল পেশার কারণে সব বাস্তবায়নের সময় পান না। তবে তিনি মনে করেন এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলে নিজের পেশা নিয়ে হতাশায় পড়ে যেতেন। ক্রেতা যে বিশ্বাস আর ভরসা করে সেই শক্তিটুকু তাকে সামনে এগিয়ে চলতে প্রেরণা দেয়। 

সততার সঙ্গে নিজের ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তিনি। কথোপকথন প্রায় শেষের দিকে। বিদায় নিচ্ছিলাম, থামিয়ে দিলেন তুষ্টি। বললেন, ‘একটু আলাদাভাবে একজন মানুষের কথা বলতে চাই।’ জানতে চাইলাম, কে? 

তুষ্টি বললেন, ‘একজন ভদ্রলোক, পেশায় তিনি আর্কিটেক্ট। পাশাপাশি তার আরেকটি সুন্দর পরিচয় আছে। তিনি আমার স্বামী, আসিফ। আজকে আমি ব্যবসায় যতটুকু সফল তার পেছনে এই মানুষটার অবদান সবচেয়ে বেশি। ডাক্তারি করে কেন ব্যবসা করি?- এমন প্রশ্ন করেছেন অনেকেই। অথচ আমার স্বামী বরাবরই আমাকে প্রেরণা দিয়েছে, ‘তুমি পারবে, বিজনেস বাড়াও, টাকা লাগলে নাও" এসব বলে। 

আমি মনে করি নিজের কাজের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর এত সাপোর্ট পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার’। আমার আব্বু আম্মু যখন কারও সাথে গল্প করতে গিয়ে বলে, ‘আমার মেয়ে ডাক্তার, অনলাইন বিজনেসও করে।’ তখন আমার চাইতে বেশি খুশি হয় আমার স্বামীই।’

সততাকে সঙ্গী করেই নিজের মূল পেশা ও ব্যবসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তুষ্টি। ব্যবসায়ী ও ডাক্তার পেশায় যুক্ত থাকা এই নারীর জন্য ‘দৈনিক অধিকার’ এর পক্ষ থেকে রইল শুভেচ্ছা। 

‘এস্টিলো’ এর ফেসবুক গ্রুপের লিঙ্ক- Estilo
‘এস্টিলো’ এর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক- Estilo

ওডি/এনএম
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড