• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্যানসারকে তুড়িতে উড়িয়ে সফল উদ্যোক্তা ‘ফারহানা’


০৯ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৩
ফারহানা
'ঘরোয়া খাবার' এর কর্ণধার ফারহানা হক

চলমান জীবন হঠাৎ এসে থমকে দাঁড়ায় নিয়তির কঠিন বাস্তবতার দুয়ারে এসে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ ভেবে পান না সামনে আগাবেন নাকি পেছাবেন। তবুও জীবনে নাটকীয় মোড় আসে। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে কেউ কেউ হারিয়ে দেয় শারীরিক জটিলতাকে। বেলাশেষে সাফল্য মুঠোবন্দি হয় তাদেরই হাতে। 

একজন সাধারণ নারী ফারহানা হক। মিষ্টি চেহারা আর কোমর অব্দি ছড়ানো চুল ছিল যার বৈশিষ্ট্য। হঠাৎ করে জানতে পারলেন ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। কোমর অব্দি থাকা চুল সব পড়ে হয়ে গেল কাঁধ সমান। জানতে পারলেন হয়তো কোনোদিন মা ডাক শোনা হবে না তার। কিন্তু মনের শক্তি ছিল তার আকাশ সমান। তাই লড়াই করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে, হয়েছেন মা আর সেসঙ্গে আজ পরিচিতি পেয়েছেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও।  

শারীরিক অসুস্থতা যেখানে ফারহানাকে কাবু করে নেওয়ার কথা ছিল সেখানে তিনি উল্টো কাবু করেছেন ক্যানসারকে। ওষুধ আর বিছানা নয়, বর্তমানে তার সবচেয়ে বেশি সময় কাটে ময়দা, ডিম, ক্রিম, বেকিং পাউডার নিয়ে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। একজন হোম বেকার হিসেবে নিজের পরিচিতি দাঁড় করিয়েছেন ফারহানা হক। ‘ঘরোয়া খাবার’ নামে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা রয়েছে তার। 

ঘরোয়া খাবার

সমুদ্র সৈকত নয়, শিল্পীর আঁকা ক্যানভাসও নয়, এটি একটি কেক! 

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের কথা। ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে ফারহানার। ২০১২ তে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন। নানা জটিলতাকে জয় করে ২০১৩ সালে সন্তানের জন্ম দেন। নিজের শারীরিক জটিলতা আর অনেক কাঙ্ক্ষিত সন্তানের কারণে চাকরিজীবনে আর ফিরে যাননি তিনি। ঘরেই দিন কাটাতেন ফারহানা। মায়ের হাতে বানানো কেক সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছেলে আইয়ানের। তার আবদার মেটাতে প্রায়ই কেক বানাতেন ফারহানা। এরপর ঘরে বসে কিছু করার ইচ্ছা আর ছেলের এই কেকপ্রেম দুই ভাবনা মিশিয়ে নাম লেখালেন অনলাইন ব্যবসায়ীদের খাতায়। 

ফারহানার কাছে জানতে চাই ব্যবসায় আসার গল্প। তিনি বলেনে, ‘শুরুটাও আমার ছেলেকে ঘিরে। কেক তার পছন্দের খাবারের লিস্টের সবার প্রথমে। তাই আগে যখন ভালো পারতাম না তখন নামিদামি দোকানের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু বাবু কয়েকবার পেটের সমস্যায় ভোগার কারণে নিজেই শেখার আগ্রহ থেকে বেকিং সেক্টরে আসলাম। তার সঙ্গে অতীতে কাজ করা নারীরা হঠাৎ কাজ ছেড়ে ঘরে বসে থাকলে যেমন হতাশায় ভুগেন, আমিও তেমনটা ভুগছিলাম। আইয়ানের কেক খাওয়ার চাহিদা থেকে কেক বানানো শেখা। একসময় বুঝলাম কেক বানানোটা আমার প্যাশনে পরিণত হয়েছে। সেই থেকে ব্যবসায় আসা।’

ব্যবসার পুরো কাজ ফারহানা করেন ঘরেই। ছেলের খাবারের জন্য যেভাবে খাবার প্রস্তুত করেন ঠিক সেই নিয়মে পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে, কোয়ালিটি মেনে কেক তৈরি করেন তিনি। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন ‘ঘরোয়া খাবার’। 

ঘরোয়া খাবার

ফারহানার তৈরি কিছু কেক

নানারকম কেক তৈরি করেন ফারহানা। তার বানানো কেকের তালিকায় রয়েছে- ভ্যানিলা কেক, চকোলেট কেক, ডার্ক চকোলেট কেক, মোকা কেক, মাড কেক, ময়েস্ট চকোলেট কেক, লেমন কেক, অরেঞ্জ কেক, রেড ভেলভেট, কাপ কেক, মাফিন, কেক সিকেলস, কেক পপ্স। কেকের পরিমাণ, ডিজাইন, ফিলিং ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় দাম। 

২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে অনলাইন ব্যবসা করছেন ফারহানা। এই কেক বানাতে গিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে? কোনো ভালোলাগা কিংবা মন্দলাগার স্মৃতি কি রয়েছে? ফারহানা জানান এক্ষেত্রে ভালোলাগার স্মৃতিই জমেছে বেশি। এইতো কিছুদিন আগে একজন শাশুড়ি কাস্টোমাইজ কেক অর্ডার করেছিলেন ছেলের বউয়ের জন্য। এমন ছোট ছোট ভালোলাগার অনুভূতিগুলো ছুঁয়ে যায় ফারহানাকে। 

ঘরোয়া খাবার

হলুদ কন্যার জন্য করা আলপনা কেক 

ফারহানা বলেন, ‘অপরিচিত কেউ যখন কাজের প্রশংসা করে কিংবা আমার কাজ দিয়ে আমাকে চেনে তখন খুব ভালো লাগে। খারাপ লাগার স্মৃতি খুবই কম। তবুও যা পাই তা অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে ধরে নিই।’

নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফারহানার কাছে সন্তানের মতোই। কারণ তার ইচ্ছেতেই তিনি আজ হোম বেকার। নতুন অনেক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে ফারহানার। এত ভেজালের ভিড়ে ক্রেতাকে যেন সেরা আর ফ্রেশ কেক দিতে পারেন সেটিই চান তিনি। 

জীবন যুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়া এই নারীর জন্য ‘দৈনিক অধিকার’ এর পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা। 

‘ঘরোয়া খাবার’ এর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক- ঘরোয়া খাবার 

‘ঘরোয়া খাবার’ এর ফেসবুক গ্রুপের লিঙ্ক- ঘরোয়া খাবার

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড